Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

রেকর্ড বৃদ্ধির খতিয়ানে রাহুলকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ কটাক্ষ মোদীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রেকর্ড বৃদ্ধির খতিয়ানে রাহুলকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ কটাক্ষ মোদীর
জিডিপি নিয়ে দেশবাসীকে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর। ছবি : ফেসবুক

নয়াদিল্লি :  মহামারী-পরবর্তী মন্দা আর সরবরাহ শৃঙ্খলের আশঙ্কায় টালমাটাল, ঠিক তখনই আশার আলো জ্বালালো ভারতের অর্থনীতি। চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-২৭) প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে চমকপ্রদ ৭.৮ শতাংশে—যা প্রত্যাশিত ৭.১ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আর এই পরিসংখ্যানকেই ঢাল বানিয়ে সুদূর কিরগিজস্তানের মাটি থেকে দেশে থাকা বিরোধীদের, বিশেষ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণে বিন্ধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে বিশকেকে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকেই এক ভিডিওবার্তায় দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নাম না-করে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন তিনি।

‘হতাশার রাজনীতি বনাম ৭.৮ শতাংশের বাস্তবতা’

ভিডিওবার্তায় উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার একটা শক্তিশালী সংখ্যা। এই সাফল্য দেশবাসীর যৌথ শক্তির প্রতিফলন। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল।” এরপরই বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, “গোটা পৃথিবী আজ যুদ্ধে নিমজ্জিত, চারদিকে অস্থিরতা। কোভিডের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনো স্থায়িত্ব নেই, সাপ্লাই চেন ভেঙে পড়েছে। এমনকি সম্প্রতি ইরানে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। কিন্তু এত বাধা সত্ত্বেও ভারত অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।”

বিশ্বমঞ্চ থেকে দেশীয় অর্থনীতির এই উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরার পরপরই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতি আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী শিবির ও রাহুল গান্ধীর নাম না-করে তিনি বলেন, “ভারতের এই ধাপে ধাপে এগিয়ে চলা যখন বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন দেশেরই কিছু মানুষ গভীর হতাশায় ডুবে রয়েছেন। তাঁরা চারদিকে কেবল মিথ্যার বেসাতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন।”

সম্প্রতি রাহুল গান্ধী তরুণদের নিয়ে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে একটি রাজনৈতিক প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেটিকে আক্রমণ করে বিজেপি শিবিরের তোলা ‘ঝুট (মিথ্যা) কি গুঞ্জ’ স্লোগানটিকেই পুনরুজ্জীবিত করেন মোদী। 

বিজেপির অভিযোগ ছিল, রাহুলের বিভিন্ন সভায় করা একাধিক বক্তব্য তথ্যগতভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। সেই সুরেই মোদী মন্তব্য করেন, “রাজনীতির ময়দানে যারা ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছিল, এই ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি সেই সব মিথ্যার পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে। সব অপপ্রচারকে ছিন্নভিন্ন করে দেশ তার অগ্রযাত্রার প্রমাণ দিয়েছে।”

আত্মনির্ভরতার তিন দাওয়াই

রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি দেশবাসীকে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার নতুন মন্ত্র শোনান মোদী। স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছানোর আগেই তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনটি পরামর্শ দেন: 

১. অবসর বিনোদন: ছুটির দিনে বা অবসর কাটানোর জন্য দেশের বাইরে না গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে বেছে নেওয়া। 

২. বিদেশে বিবাহ নয়: আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে দেশেই বিবাহের অনুষ্ঠান আয়োজন করা। 

৩. সোনার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ: অপ্রয়োজনে সোনা কেনা এড়িয়ে গিয়ে দেশীয় অর্থনীতিতে মূলধন ধরে রাখা।

জিডিপির পরিসংখ্যান একদিকে কেন্দ্রকে বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি দিয়েছে, অন্যদিকে মোদী-রাহুল রাজনৈতিক তরজাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের প্রেক্ষাপটে আরও বেশি তীব্র করে তুলল। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট—বিরোধীদের সমালোচনা ও বৈশ্বিক মন্দার মেঘকে তোয়াক্কা না করে ‘আত্মনির্ভর’ ভারত গড়তে অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখাই এখন দিল্লির মূল লক্ষ্য।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : indianeconomy HiddenStoriesNews ModiVsRahul IndiaGDPGrowth GDP7 Point8 JhoothKiGoonj

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রেকর্ড বৃদ্ধির খতিয়ানে রাহুলকে ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ কটাক্ষ মোদীর

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি :  মহামারী-পরবর্তী মন্দা আর সরবরাহ শৃঙ্খলের আশঙ্কায় টালমাটাল, ঠিক তখনই আশার আলো জ্বালালো ভারতের অর্থনীতি। চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-২৭) প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে চমকপ্রদ ৭.৮ শতাংশে—যা প্রত্যাশিত ৭.১ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আর এই পরিসংখ্যানকেই ঢাল বানিয়ে সুদূর কিরগিজস্তানের মাটি থেকে দেশে থাকা বিরোধীদের, বিশেষ করে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণে বিন্ধলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে বিশকেকে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকেই এক ভিডিওবার্তায় দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি নাম না-করে রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ কর্মসূচিকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন তিনি।‘হতাশার রাজনীতি বনাম ৭.৮ শতাংশের বাস্তবতা’ভিডিওবার্তায় উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী বলেন, “৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির হার একটা শক্তিশালী সংখ্যা। এই সাফল্য দেশবাসীর যৌথ শক্তির প্রতিফলন। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গেল।” এরপরই বিশ্বের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, “গোটা পৃথিবী আজ যুদ্ধে নিমজ্জিত, চারদিকে অস্থিরতা। কোভিডের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনো স্থায়িত্ব নেই, সাপ্লাই চেন ভেঙে পড়েছে। এমনকি সম্প্রতি ইরানে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। কিন্তু এত বাধা সত্ত্বেও ভারত অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছে।”বিশ্বমঞ্চ থেকে দেশীয় অর্থনীতির এই উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরার পরপরই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতি আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী শিবির ও রাহুল গান্ধীর নাম না-করে তিনি বলেন, “ভারতের এই ধাপে ধাপে এগিয়ে চলা যখন বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন দেশেরই কিছু মানুষ গভীর হতাশায় ডুবে রয়েছেন। তাঁরা চারদিকে কেবল মিথ্যার বেসাতি ছড়িয়ে যাচ্ছেন।”সম্প্রতি রাহুল গান্ধী তরুণদের নিয়ে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে একটি রাজনৈতিক প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। সেটিকে আক্রমণ করে বিজেপি শিবিরের তোলা ‘ঝুট (মিথ্যা) কি গুঞ্জ’ স্লোগানটিকেই পুনরুজ্জীবিত করেন মোদী। বিজেপির অভিযোগ ছিল, রাহুলের বিভিন্ন সভায় করা একাধিক বক্তব্য তথ্যগতভাবে ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। সেই সুরেই মোদী মন্তব্য করেন, “রাজনীতির ময়দানে যারা ‘ঝুট কি গুঞ্জ’ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছিল, এই ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি সেই সব মিথ্যার পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে। সব অপপ্রচারকে ছিন্নভিন্ন করে দেশ তার অগ্রযাত্রার প্রমাণ দিয়েছে।”আত্মনির্ভরতার তিন দাওয়াইরাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি দেশবাসীকে ‘আত্মনির্ভর’ হওয়ার নতুন মন্ত্র শোনান মোদী। স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছানোর আগেই তরুণ প্রজন্মের হাতে একটি উন্নত ভারত তুলে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনটি পরামর্শ দেন: ১. অবসর বিনোদন: ছুটির দিনে বা অবসর কাটানোর জন্য দেশের বাইরে না গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে বেছে নেওয়া। ২. বিদেশে বিবাহ নয়: আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করে দেশেই বিবাহের অনুষ্ঠান আয়োজন করা। ৩. সোনার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ: অপ্রয়োজনে সোনা কেনা এড়িয়ে গিয়ে দেশীয় অর্থনীতিতে মূলধন ধরে রাখা।জিডিপির পরিসংখ্যান একদিকে কেন্দ্রকে বড় অর্থনৈতিক স্বস্তি দিয়েছে, অন্যদিকে মোদী-রাহুল রাজনৈতিক তরজাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চের প্রেক্ষাপটে আরও বেশি তীব্র করে তুলল। প্রধানমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট—বিরোধীদের সমালোচনা ও বৈশ্বিক মন্দার মেঘকে তোয়াক্কা না করে ‘আত্মনির্ভর’ ভারত গড়তে অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখাই এখন দিল্লির মূল লক্ষ্য।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত