Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘সব রিপোর্ট আছে, ২০-২৫ জন চলে গেলেও ক্ষতি নেই!’: তোলাবাজি-কাটমানি রুখতে নিজের বিধায়কদেরই চরম হুঁশিয়ারি শমীকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
‘সব রিপোর্ট আছে, ২০-২৫ জন চলে গেলেও ক্ষতি নেই!’: তোলাবাজি-কাটমানি রুখতে নিজের বিধায়কদেরই চরম হুঁশিয়ারি শমীকের
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ফাইল চিত্র

নিউটাউন: ‘ক্ষমতায় এলেই যা খুশি করা যাবে না’—দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তা জানিয়ে দিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর, পূর্বতন শাসকদলের মতো নিজেদের গায়ে যেন কোনো কলঙ্কের দাগ না লাগে, তা নিশ্চিত করতে মারমুখী মেজাজে শমীক ভট্টাচার্য। দলের একাংশ বিধায়ক ও নেতার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি, কাটমানি এবং ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ’-এর অভিযোগ রুখতে এবার রীতিমতো কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হলো রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবির থেকে। বিধায়কদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করার পাশাপাশি মেনে চলার জন্য ১০ দফা নির্দেশিকাও জারি করেছে দল।

রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিজেপির এই হাই-প্রোফাইল রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশ এবং রাজ্য প্রভারী সুনীল বনশল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা ও সাংগঠনিক রাজ্য সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীরা। বক্তব্য রাখার সময় দলের একাংশের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। বিধায়কদের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কারা কী করছেন, সব খবর আমাদের কাছে আসছে। বিধায়ক ও নেতাদের সমস্ত ক্রিয়াকলাপের রিপোর্ট সুনীল বনশলের ফাইলে জমা রয়েছে। তোলাবাজি ও কাটমানি নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে।”

তোলাবাজি বা কাটমানির মতো অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে কড়া সুরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “দলে ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে যদি ২০-২৫ জন চলেও যান, তাতে সরকারের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় করে কেউ পার পাবেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মন্ত্রী বা বিধায়ক—কাউকেই ছাঁটাই করতে দ্বিধা করবে না দল।” বিশেষ করে রাজারহাট ও দমদম এলাকার একাধিক নেতার অপকর্মের কথা তুলে ধরেন শমীক। এমনকি ফেসবুকে দলের মন্ত্রীকে আক্রমণ করে দলবিরোধী কাজ করার অপরাধে দমদমের এক নেত্রীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন তিনি।

জনপ্রতিনিধিদের অহংকার দূরে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই বিজেপিকে জিতিয়েছে; কোনো ব্যক্তিগত পরিচিতি বা নেতার ক্ষমতায় এই জয় আসেনি। আজ পর্যন্ত কার কী পারফরম্যান্স, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘রিপোর্ট কার্ড’ দলের কাছে জমা আছে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ার করেন—দলীয় শৃঙ্খলা মেনে না চললে বা স্বভাব না বদলালে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে প্রত্যেককেই। ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এই নজিরবিহীন কড়া বার্তা রাজ্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : WestBengalPolitics BJPBengal BreakingNews ShamikBhattacharya BJPMeeting

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


‘সব রিপোর্ট আছে, ২০-২৫ জন চলে গেলেও ক্ষতি নেই!’: তোলাবাজি-কাটমানি রুখতে নিজের বিধায়কদেরই চরম হুঁশিয়ারি শমীকের

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image
নিউটাউন: ‘ক্ষমতায় এলেই যা খুশি করা যাবে না’—দলের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের স্পষ্ট ভাষায় এই বার্তা জানিয়ে দিল বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে গণরায় নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর, পূর্বতন শাসকদলের মতো নিজেদের গায়ে যেন কোনো কলঙ্কের দাগ না লাগে, তা নিশ্চিত করতে মারমুখী মেজাজে শমীক ভট্টাচার্য। দলের একাংশ বিধায়ক ও নেতার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি, কাটমানি এবং ‘বিজেপির তৃণমূলীকরণ’-এর অভিযোগ রুখতে এবার রীতিমতো কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেওয়া হলো রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবির থেকে। বিধায়কদের স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করার পাশাপাশি মেনে চলার জন্য ১০ দফা নির্দেশিকাও জারি করেছে দল।রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিজেপির এই হাই-প্রোফাইল রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষকের ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশ এবং রাজ্য প্রভারী সুনীল বনশল। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা ও সাংগঠনিক রাজ্য সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তীরা। বক্তব্য রাখার সময় দলের একাংশের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন শমীক ভট্টাচার্য। বিধায়কদের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “কারা কী করছেন, সব খবর আমাদের কাছে আসছে। বিধায়ক ও নেতাদের সমস্ত ক্রিয়াকলাপের রিপোর্ট সুনীল বনশলের ফাইলে জমা রয়েছে। তোলাবাজি ও কাটমানি নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে পৌঁছেছে।”তোলাবাজি বা কাটমানির মতো অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে কড়া সুরে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “দলে ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। এর মধ্যে যদি ২০-২৫ জন চলেও যান, তাতে সরকারের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় করে কেউ পার পাবেন না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মন্ত্রী বা বিধায়ক—কাউকেই ছাঁটাই করতে দ্বিধা করবে না দল।” বিশেষ করে রাজারহাট ও দমদম এলাকার একাধিক নেতার অপকর্মের কথা তুলে ধরেন শমীক। এমনকি ফেসবুকে দলের মন্ত্রীকে আক্রমণ করে দলবিরোধী কাজ করার অপরাধে দমদমের এক নেত্রীকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন তিনি।জনপ্রতিনিধিদের অহংকার দূরে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকেই বিজেপিকে জিতিয়েছে; কোনো ব্যক্তিগত পরিচিতি বা নেতার ক্ষমতায় এই জয় আসেনি। আজ পর্যন্ত কার কী পারফরম্যান্স, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ ‘রিপোর্ট কার্ড’ দলের কাছে জমা আছে জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ার করেন—দলীয় শৃঙ্খলা মেনে না চললে বা স্বভাব না বদলালে কড়া সাংগঠনিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হবে প্রত্যেককেই। ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এই নজিরবিহীন কড়া বার্তা রাজ্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত