দুদিন পর পুজো। নতুন জামাকাপড়, সাজগোজ, মেকআপ পারফেক্ট। কিন্তু সবকিছুর সঙ্গে চুলটাও একটু অন্যরকম দেখাবে এমনটা কে না চায়! কিন্তু রোজকার ধুলবালি ঘাম মিলেমিশে কারও চুলে রুক্ষভাব, কারও আবার ডগা ফেটে একেবারে চৌচির। তাই পুজোর আগে অনেকেই ছুটছেন স্মুথেনিং, কেরাটিন, রিবন্ডিং কিংবা স্ট্রেটেনিং করাতে। কিন্তু একটা কথা মাথায় রাখা দরকার। চুল বাইরে থেকে সুন্দর দেখালেই যে চুলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে, এমনটা কিন্তু নয়। বিশেষ করে আগে থেকেই চুল যদি খুব শুষ্ক বা দুর্বল হয়ে থাকে, তাহলে ট্রিটমেন্ট করানোর আগে কয়েকটা বিষয় জেনে নেওয়া বেশ জরুরি।
প্রথমেই দেখুন, আপনার চুলের অবস্থা কেমন। চুল আঁচড়াতে গেলেই যদি ভেঙে যায়, ডগা বারবার ফেটে যায়, চুল খুব রুক্ষ হয়ে থাকে বা আগের কোনও কালার কিংবা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট -এর কারণে চুল দুর্বল হয়ে থাকে, তাহলে পুজোর তাড়াহুড়োয় নতুন করে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করানোর আগে এবার একটু থামুন। কারণ দুর্বল চুলে আবার কেমিক্যাল আর হিট দিলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
দ্বিতীয় কথা, স্প্লিট এন্ডস একেবারে জাদুর মতো ঠিক করে দেবে কোনও ট্রিটমেন্ট, এমনটা ভাববেন না। চুলের ডগা একবার ফেটে গেলে সেটা সত্যিকারের আগের অবস্থায় ফিরে যায় না। অনেক ট্রিটমেন্ট -এর পর চুল মসৃণ দেখাতে পারে, ফলে ফাটা ডগাও কিছুটা কম চোখে পড়ে। কিন্তু দেখতে ভালো লাগা আর damaged hair সত্যিই ঠিক হয়ে যাওয়া—দুটো এক জিনিস নয়। তাই খুব বেশি split ends থাকলে সামান্য ট্রিমিং করাও অনেক সময় বেশি কাজে দেয়।
তৃতীয় বিষয়টা হল heat। আমরা অনেক সময় ভাবি, treatment মানেই শুধু একটা cream বা solution লাগানো। আসলে অনেক chemical treatment-এর সঙ্গে হিট স্টাইলিং -ও থাকে। অর্থাৎ কেমিক্যালের পাশাপাশি চুলকে বেশ কিছুটা তাপও সহ্য করতে হয়। আগে থেকেই যদি চুল দুর্বল থাকে, তাহলে এই extra heat চুলের breakage আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই শুধু ‘পুজোয় চুল কেমন দেখাবে’ সেটা নয়, treatment-এর পরে চুলের অবস্থা কেমন হতে পারে সেটাও ভাবুন।
চতুর্থত, salon-এ গিয়ে product-এর ব্যাপারে প্রশ্ন করতে লজ্জা পাবেন না। কী treatment হচ্ছে, কোন product ব্যবহার করা হবে, তার ingredients কী—এসব জানতে চাওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। শুধু ‘chemical-free’ বা ‘damage-free’ লেখা শুনে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন না। বিশেষ করে কিছু keratin বা straightening formulation-এ এমন উপাদান থাকতে পারে যা heat-এর সময় ফরমাল্ডিহাইড (formaldehyde gas) ছাড়তে পারে। তাই product সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া জরুরি।
পঞ্চম কথা, চুলের সৌন্দর্য বাড়াতে পুজোর আগে একসঙ্গে সবকিছু করে ফেলবেন না। ধরুন কয়েকদিন আগে hair colour করলেন, তার পরেই smoothening বা straightening, তার সঙ্গে আবার bleach বা অন্য কোনও chemical service চুলের উপর চাপটা কিন্তু তখন অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই একাধিক treatment করার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত তাদের মধ্যে যথেষ্ট gap রাখা এবং hair professional-এর পরামর্শ নেওয়া ভালো।
আর ষষ্ঠ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ট্রিটমেন্ট করিয়েই দায়িত্ব কিন্তু শেষ নয়। পুজোর সময় চুল সুন্দর রাখতে গিয়ে treatment-এর পরের কেয়ারটা ভুলে গেলে কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে। চুল ধোয়ার পর conditioner ব্যবহার করা, অতিরিক্ত straightener বা blow-dryer না চালানো, ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো এড়িয়ে চলা, এই ছোট ছোট বিষয়গুলোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আর যদি treatment-এর পর scalp-এ জ্বালা, চুল অস্বাভাবিকভাবে ভাঙা বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে dermatologist-এর পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
পুজোর আগে চুল সুন্দর দেখতে চাইবেন, সেটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু কয়েকদিনের জন্য চুলকে চকচকে দেখাতে গিয়ে যেন পরের কয়েক মাস চুল নিয়ে সমস্যায় পড়তে না হয়। তাই treatment করানোর আগে একটু ভাবুন, নিজের চুলের condition বুঝুন, আর তারপর সিদ্ধান্ত নিন। কারণ সুন্দর চুল মানে শুধু straight বা silky চুল নয়, স্বাস্থ্যকর চুলও।
বিষয় : tips durgapuja PUJABEAUTY HAIRCARE HAIRROUTINE

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন