নয়াদিল্লি: কল্পবিজ্ঞানের গল্পকেও হার মানাতে চলেছে ভারতীয় সেনার আগামী যুদ্ধকৌশল। সত্যজিৎ রায়ের গল্পের সেই ‘অ্যানাইহিলিন’ পিস্তলের কথা মনে আছে, যার এক ফুঁৎকারে শত্রু স্রেফ ভ্যানিশ হয়ে যেত? ঠিক তেমনই এক জোড়া প্রলয়ঙ্কারী অস্ত্র এবার তৈরি করে ফেলেছেন ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO) এবং ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের (BARC) গবেষকরা। কোনো গোলা-বারুদ ছাড়াই, স্রেফ আলোর গতিবেগে ধেয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রেই শত্রুকে কার্যত বাষ্পে পরিণত করতে সক্ষম এই হাতিয়ার। পৌরাণিক অসুর বিনাশী শক্তির আরাধনা করেই এই দুই ফিউচারেস্টিক ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন বা ‘ডিইডব্লিউ’-এর নাম রাখা হয়েছে ‘কালী’ এবং ‘দুর্গা’। ভারতের এই চরম ক্লাসিফাইড প্রজেক্টের খবর সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের চোখ চড়কগাছ।
ভারতের এই আল্টিমেট ডিফেন্স গার্ড বা রক্ষাকবচের পোশাকি নাম কিলো অ্যাম্পিয়ার লিনিয়ার ইনজেকটর, সংক্ষেপে ‘কালী’। এটি কোনো প্রথাগত মিসাইল বা গুলি ছোঁড়ে না, বরং নিমেষে কয়েক বিলিয়ন ওয়াটের শক্তি উৎপাদন করে একটি অতি শক্তিশালী ইলেকট্রন বিম বা রশ্মি ছুড়ে দেয়।
আলোর গতিবেগে ধেয়ে যাওয়া কালীর এই ভয়ঙ্কর হাই পাওয়ার মাইক্রো-ওয়েভ রশ্মি মহাকাশ থেকে আসা শত্রুর স্যাটেলাইট, ধেয়ে আসা বোমারু বিমান বা ড্রোনের মাদারবোর্ড ও মাইক্রোচিপকে ভিতর থেকে পুড়িয়ে খাক করে দেয়। পরমাণু হামলা বা মারাত্মক ইএমপি (EMP) অ্যাটাক থেকেও ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একটি অভেদ্য ঢাল হয়ে রক্ষা করবে এই কালী। ইতিমধ্যে ভারতের অস্ত্রাগারে কালীর ১ থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ঘাতক মডেল মজুত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলায় অনুপ্রবেশকারীদের দিন শেষ?
কালীর পাশাপাশি ভারতীয় সেনার স্থল, জল ও আকাশ—তিন বাহিনীর শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে তৈরি হয়েছে ‘দুর্গা-২’। এটি মূলত ১০০ কিলোওয়াটের একটি অত্যন্ত হালকা ওজনের অথচ হাই পাওয়ার সলিড লেজার ওয়েপন। আকারে ছোট হওয়ায় এটিকে সহজেই যুদ্ধবিমান, রণতরী কিংবা ব্যাটল ট্যাঙ্কের ওপর মোবাইল প্ল্যাটফর্মে বসিয়ে দেওয়া যায়। দুর্গার সবচেয়ে বড় আপগ্রেড হলো এর ‘অটো ফোকাস’ প্রযুক্তি, যার ফলে শত্রুর মিসাইল যতই সাপের মতো গতিপথ বা স্পিড বদলাক না কেন, দুর্গার লেজার চোখ তা নিজে থেকেই লক করে মাঝ আকাশেই পুড়িয়ে ছাই করে দেবে। যেখানে একটি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল বানাতে ভারতের কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা খরচ হয় এবং তা পুনরায় লোড করতে সময় লাগে, সেখানে দুর্গা চলে সস্তা ইলেকট্রিক পাওয়ারে এবং এটি দিয়ে অবিরাম আনলিমিটেড লেজার হামলা চালানো সম্ভব।
সবচেয়ে আধুনিক হাইপারসনিক মিসাইলও প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে, অর্থাৎ টার্গেটে পৌঁছাতে তার কিছুটা সময় লাগেই। কিন্তু ভারতের দুর্গা-২ ছুটবে সরাসরি আলোর গতিতে, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে, যা শত্রুকে চোখের পলক ফেলার সুযোগও দেবে না। ইরান-ইজরায়েল বা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে মাত্র ৫০০ ডলারের সস্তা ড্রোনও কতটা ধ্বংসলীলা চালাতে পারে। তাই সীমান্ত পাহারা দিতে ও দেশের আকাশকে নিশ্ছিদ্র করতে ডিআরডিও এখন পাহাড়ি আবহাওয়া ও কুয়াশার মধ্যে এই লেজার অস্ত্রের কার্যকারিতা আরও নিখুঁত করার শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা চালাচ্ছে। ভারতমাতার এই দুই মহাশক্তি যে আগামী দিনে বিশ্বযুদ্ধের পুরো ধারণাই বদলে দেবে, তা বলাই বাহুল্য।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন