Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘কণ্ঠরোধকারীদের কথা শুনব না!’ কুণালের বেনজির ওয়াকআউটে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬
‘কণ্ঠরোধকারীদের কথা শুনব না!’ কুণালের বেনজির ওয়াকআউটে তোলপাড়
ফাইল ছবি

কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। এবার খোদ লোকসভার স্পিকার, বিধানসভার স্পিকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতেই এক হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠান মঞ্চে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ওয়াকআউট করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কলকাতার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে লোকসভা সচিবালয় ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে বিধায়কদের জন্য একটি বিশেষ অভিমুখীকরণ কর্মসূচির (PRIDE) আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই লোকসভার স্পিকারের ভূমিকা ও দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর বিস্ফোরক অভিযোগ এনে হল ঘর থেকে বেরিয়ে যান কুণাল, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ সাফ জানান, বিধানসভার সদস্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে আসা তাঁর দায়িত্ব ছিল, তাই তিনি অনুষ্ঠান বয়কট করেননি। কিন্তু কার বক্তব্য তিনি শুনবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে বিভাজন তৈরি করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুণাল সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধেও। তাঁর দাবি, বিরোধী দল গঠনের সময় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং সভার ভেতরে তাঁর কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। কুণালের বিস্ফোরক মন্তব্য, “যিনি আমাকে নিজের কথা বলতে দেননি, তিনি আজ গণতন্ত্র শেখাবেন—তা আমি শুনব না।”


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ভোটের পর তৈরি হওয়া তৃণমূলের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বর্তমানে দলটি মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত—একটি কালীঘাটপন্থী এবং অন্যটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতাদের স্পষ্ট অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার এবং বিধানসভার স্পিকার কার্যত ঋতব্রত শিবিরকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দল ভাঙার এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছেন। এই সংঘাতের আবহে দাঁড়িয়ে কুণাল এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন এবং অভিযোগ করেন যে, বিজেপি যেভাবে কমিশনকে ব্যবহার করেছে তাতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। সব মিলিয়ে, কুণাল ঘোষের এই বেনজির ওয়াকআউট ও ওম বিড়লা-শুভেন্দুর মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

বিষয় : BengalPolitics SuvenduAdhikari ombirla kunalghosh tmcfactionfeud

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


‘কণ্ঠরোধকারীদের কথা শুনব না!’ কুণালের বেনজির ওয়াকআউটে তোলপাড়

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই শাসকদল তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে। এবার খোদ লোকসভার স্পিকার, বিধানসভার স্পিকার এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতেই এক হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠান মঞ্চে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ওয়াকআউট করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। কলকাতার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে লোকসভা সচিবালয় ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে বিধায়কদের জন্য একটি বিশেষ অভিমুখীকরণ কর্মসূচির (PRIDE) আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুষ্ঠান চলাকালীনই লোকসভার স্পিকারের ভূমিকা ও দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর বিস্ফোরক অভিযোগ এনে হল ঘর থেকে বেরিয়ে যান কুণাল, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ সাফ জানান, বিধানসভার সদস্য হিসেবে এই কর্মসূচিতে আসা তাঁর দায়িত্ব ছিল, তাই তিনি অনুষ্ঠান বয়কট করেননি। কিন্তু কার বক্তব্য তিনি শুনবেন, তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তাঁর অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে বিভাজন তৈরি করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি কুণাল সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধেও। তাঁর দাবি, বিরোধী দল গঠনের সময় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং সভার ভেতরে তাঁর কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। কুণালের বিস্ফোরক মন্তব্য, “যিনি আমাকে নিজের কথা বলতে দেননি, তিনি আজ গণতন্ত্র শেখাবেন—তা আমি শুনব না।”রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ভোটের পর তৈরি হওয়া তৃণমূলের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বর্তমানে দলটি মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত—একটি কালীঘাটপন্থী এবং অন্যটি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী। কালীঘাট ঘনিষ্ঠ নেতাদের স্পষ্ট অভিযোগ, লোকসভার স্পিকার এবং বিধানসভার স্পিকার কার্যত ঋতব্রত শিবিরকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে দল ভাঙার এক অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছেন। এই সংঘাতের আবহে দাঁড়িয়ে কুণাল এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন এবং অভিযোগ করেন যে, বিজেপি যেভাবে কমিশনকে ব্যবহার করেছে তাতে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে। সব মিলিয়ে, কুণাল ঘোষের এই বেনজির ওয়াকআউট ও ওম বিড়লা-শুভেন্দুর মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার