কলকাতা: শিল্পায়নের খরায় ভুগতে থাকা পশ্চিমবঙ্গে এবার এক ঐতিহাসিক বিনিয়োগের জোয়ার আসতে চলেছে। রাজ্যে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির কারখানা গড়তে বিপুল আগ্রহ দেখাল বিশ্ববিখ্যাত জাপানি বহুজাতিক সংস্থা মিৎসুবিশি। শুধু মিৎসুবিশিই নয়, কারখানার সম্প্রসারণ থেকে শুরু করে নতুন প্রকল্পে এ রাজ্যে বড়সড় লগ্নি করতে চলেছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজও। বুধবার নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান অশোক টোডি এক দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ বৈঠক করেন। পাশাপাশি নবান্নে হাজির হয়েছিলেন মিৎসুবিশি সংস্থার শীর্ষ কর্তারাও। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের সঙ্গে তাঁদের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠক ঘিরে এখন রাজ্য তথা দেশের শিল্পমহলে তুমুল শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, সেমিকন্ডাক্টর কারখানার জন্য মিৎসুবিশি প্রাথমিকভাবে তাদের সমীক্ষার কাজও সেরে ফেলেছে। রাজ্যের তরফে এই মেগা প্রজেক্টের জন্য পানাগড় অথবা ডানকুনিতে জমি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জাপানি সংস্থাটিকে। চলতি মাসেই মিৎসুবিশির একটি শীর্ষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে এসে সশরীরে এই জায়গাগুলি পরিদর্শনে যেতে পারেন, যার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শুধু সেমিকন্ডাক্টারই নয়, ডাটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রেও বড়সড় বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
অন্যদিকে ডানকুনির বস্ত্র কারখানার বড়সড় সম্প্রসারণ করতে চলেছে লাক্স ইন্ডাস্ট্রিজ। এদিন নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নতুন করে রাজ্যে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন লাক্সের চেয়ারম্যান অশোক টোডি। একই সঙ্গে আগামী ১১ জুলাই ডানকুনি কারখানার সম্প্রসারণের যে শিলান্যাস অনুষ্ঠান হতে চলেছে, সেখানে থাকার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে সশরীরে আমন্ত্রণ জানান তিনি। লাক্সের পাশাপাশি আগামী ১৮ জুলাই বাঁকুড়ার মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের কারখানারও সম্প্রসারণ হতে চলেছে। এই জোড়া প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যে যেমন বিপুল আর্থিক জোয়ার আসবে, তেমনই হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে আশাবাদী নবান্ন।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের অন্যতম সেরা বিনিয়োগের গন্তব্য বা 'ইনভেস্টমেন্ট হাব' হিসেবে গড়ে তুলতে মরিয়া নতুন সরকার। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ঐতিহ্যবাহী পাট ও চা শিল্পের আধুনিকীকরণের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, এআই এবং গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টারের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে টাটা-সহ একাধিক প্রথম সারির ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গেও নবান্নের শীর্ষ স্তরে নিয়মিত আলোচনা চলছে। রাজ্য সরকারও লাল ফিতের ফাঁস কেটে শিল্প স্থাপনের উপযোগী পরিকাঠামো এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আমূল বদল আনছে। সব মিলিয়ে একই দিনে মিৎসুবিশি ও লাক্সের এই মেগা বৈঠক রাজ্যের শিল্প-বান্ধব পরিবেশের এক বড়সড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জুলাই ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন