Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

কমিশন রিপোর্টে নীরবতা, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাঙনের হিসেব কষলেন মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬
 কমিশন রিপোর্টে নীরবতা, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাঙনের হিসেব কষলেন মমতা
ছবি সংগৃহীত

২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে রাজনৈতিক আক্রমণ, দলীয় ঐক্যের বার্তা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ সবই শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। কিন্তু একটি বিষয় এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল নেত্রী। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট বা শহিদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বিতরণ সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে এদিন একটি কথাও বলেননি তিনি। আর সেই নীরবতাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।


সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে বিচারপতি চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেন। সেই রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছিল, নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল সরকার সেই সুপারিশ কার্যকর না করে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সাহায্য করেছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার তারামণ্ডলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে এই প্রসঙ্গে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং তাঁর বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল দলের ভাঙন, বিরোধী শিবির এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। নিজের দলকেই 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করেন তিনি এবং দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদেরও কড়া বার্তা দেন।


এদিনের সভায় মমতাকে মঞ্চ থেকেই উপস্থিত সাংসদদের খোঁজ নিতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক দলবদল করায় কালীঘাট শিবিরের শক্তি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেত্রী বলেন, আগে তাঁদের মাত্র দু'জন সাংসদ ছিলেন, এখন এখনও ১৬-১৭ জন রয়েছেন। তাঁর কথায়, "ফসল কাটা এখনও শেষ হয়নি।" মমতা আরও বলেন, যাঁদের সাহস রয়েছে, তাঁরা তৃণমূলেই থাকবেন। আর যদি দল ছাড়ার ইচ্ছা থাকে, তবে অন্য দলের হয়ে আড়াল থেকে রাজনীতি না করে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।


অন্যদিকে, মেয়ো রোডে আয়োজিত সমাবেশ থেকে চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্টকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে ১৯৯৩ সালের ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একই ইস্যুতে কংগ্রেসও তৃণমূলকে আক্রমণ করে। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের দাবি, কমিশনের রিপোর্ট এতদিন প্রকাশ্যে না আনার কারণ খতিয়ে দেখা উচিত।

বিষয় : Mamata Banerjee TMC WestBengalPolitics 21stjuly

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


কমিশন রিপোর্টে নীরবতা, ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে ভাঙনের হিসেব কষলেন মমতা

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image
২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসের মঞ্চে রাজনৈতিক আক্রমণ, দলীয় ঐক্যের বার্তা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে তোপ সবই শোনা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। কিন্তু একটি বিষয় এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল নেত্রী। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট বা শহিদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বিতরণ সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে এদিন একটি কথাও বলেননি তিনি। আর সেই নীরবতাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের ঘটনা নিয়ে বিচারপতি চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনেন। সেই রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছিল, নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। অভিযোগ, তৎকালীন তৃণমূল সরকার সেই সুপারিশ কার্যকর না করে নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সাহায্য করেছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার তারামণ্ডলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে এই প্রসঙ্গে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং তাঁর বক্তৃতার বড় অংশ জুড়ে ছিল দলের ভাঙন, বিরোধী শিবির এবং রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রসঙ্গ। নিজের দলকেই 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করেন তিনি এবং দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদেরও কড়া বার্তা দেন।এদিনের সভায় মমতাকে মঞ্চ থেকেই উপস্থিত সাংসদদের খোঁজ নিতে দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাংসদ ও বিধায়ক দলবদল করায় কালীঘাট শিবিরের শক্তি নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেত্রী বলেন, আগে তাঁদের মাত্র দু'জন সাংসদ ছিলেন, এখন এখনও ১৬-১৭ জন রয়েছেন। তাঁর কথায়, "ফসল কাটা এখনও শেষ হয়নি।" মমতা আরও বলেন, যাঁদের সাহস রয়েছে, তাঁরা তৃণমূলেই থাকবেন। আর যদি দল ছাড়ার ইচ্ছা থাকে, তবে অন্য দলের হয়ে আড়াল থেকে রাজনীতি না করে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।অন্যদিকে, মেয়ো রোডে আয়োজিত সমাবেশ থেকে চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্টকে সামনে রেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে ১৯৯৩ সালের ঘটনার বিচার ও দোষীদের শাস্তির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। একই ইস্যুতে কংগ্রেসও তৃণমূলকে আক্রমণ করে। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের দাবি, কমিশনের রিপোর্ট এতদিন প্রকাশ্যে না আনার কারণ খতিয়ে দেখা উচিত।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত