Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মৃত্যুপুরী সিকিমের সুড়ঙ্গ! এক ধাক্কায় মৃত বেড়ে ২০, আটকে বহু! শুভেন্দুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে ২ বিধায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬
মৃত্যুপুরী সিকিমের সুড়ঙ্গ! এক ধাক্কায় মৃত বেড়ে ২০, আটকে বহু! শুভেন্দুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে ২ বিধায়ক
ছবি সংগৃহীত

কলকাতা: সিকিমে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধসে হু হু করে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। কাদা, জল এবং বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে দমবন্ধ করা সুড়ঙ্গের ভেতর ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ ছুঁয়েছে বলে খবর। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের একটি বড় অংশই পশ্চিমবঙ্গের, যার মধ্যে জলপাইগুড়ির মালবাজার এলাকার বাসিন্দারাই বেশি। সুড়ঙ্গের গভীরে এখনও আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় হাহাকার ছড়িয়েছে বাংলায়। সার্বিক পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে রাজ্যের দুই বিধায়ককে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


তর্পণ কর্মসূচিতে ঋতব্রত, শুরু শহিদ দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি

সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার এই তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে মিথেন গ্যাস লিক করেই আচমকা এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। গ্যাস লিক করার পর ধস নেমে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এনডিআরএফ (NDRF) ও উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও বাতাসে থাকা ঘন মিথেন গ্যাসের কারণে অক্সিজেনের মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি উদ্ধারকাজে নেমে গ্যাসের তীব্রতায় কয়েকজন উদ্ধারকারী কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদেরও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে সুড়ঙ্গের গভীরে আরও ৫-৬ জনের দেহ মিললেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা এখনও বের করা সম্ভব হয়নি।


এমতাবস্থায় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিপর্যয় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং উদ্ধারকাজে সমন্বয় রাখতে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা ও কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে অবিলম্বে সিকিম পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তার আর্জি জানিয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। শুভেন্দু আরও জানান, উদ্ধারকাজে গতি আনতে বাংলা থেকে সিকিমে বিশেষ বিমান বা হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।


পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রের তরফেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন। তবে বিষাক্ত গ্যাসে ঢাকা অন্ধকার সুড়ঙ্গে জীবন-মৃত্যুর মাঝে ঝুলে থাকা বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের শ্রমিকদের দ্রুত বের করে আনাই এখন উদ্ধারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিষয় : suvendu adhikari rescueoperation SikkimAccident sikkimtunnelcollapse

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬


মৃত্যুপুরী সিকিমের সুড়ঙ্গ! এক ধাক্কায় মৃত বেড়ে ২০, আটকে বহু! শুভেন্দুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে ২ বিধায়ক

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুলাই ২০২৬

featured Image
কলকাতা: সিকিমে তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ধসে হু হু করে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। কাদা, জল এবং বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে দমবন্ধ করা সুড়ঙ্গের ভেতর ভয়াবহ বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ ছুঁয়েছে বলে খবর। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের একটি বড় অংশই পশ্চিমবঙ্গের, যার মধ্যে জলপাইগুড়ির মালবাজার এলাকার বাসিন্দারাই বেশি। সুড়ঙ্গের গভীরে এখনও আরও বেশ কয়েকজন আটকা পড়ে থাকার আশঙ্কায় হাহাকার ছড়িয়েছে বাংলায়। সার্বিক পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে রাজ্যের দুই বিধায়ককে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তর্পণ কর্মসূচিতে ঋতব্রত, শুরু শহিদ দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলিসিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার এই তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ টানেলে মিথেন গ্যাস লিক করেই আচমকা এই বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। গ্যাস লিক করার পর ধস নেমে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এনডিআরএফ (NDRF) ও উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেও বাতাসে থাকা ঘন মিথেন গ্যাসের কারণে অক্সিজেনের মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমনকি উদ্ধারকাজে নেমে গ্যাসের তীব্রতায় কয়েকজন উদ্ধারকারী কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদেরও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে সুড়ঙ্গের গভীরে আরও ৫-৬ জনের দেহ মিললেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা এখনও বের করা সম্ভব হয়নি।এমতাবস্থায় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিপর্যয় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং উদ্ধারকাজে সমন্বয় রাখতে নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা ও কালচিনির বিধায়ক বিশাল লামাকে অবিলম্বে সিকিম পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তার আর্জি জানিয়ে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাংয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। শুভেন্দু আরও জানান, উদ্ধারকাজে গতি আনতে বাংলা থেকে সিকিমে বিশেষ বিমান বা হেলিকপ্টার পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রের তরফেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান ঘোষণা করেছেন। তবে বিষাক্ত গ্যাসে ঢাকা অন্ধকার সুড়ঙ্গে জীবন-মৃত্যুর মাঝে ঝুলে থাকা বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের শ্রমিকদের দ্রুত বের করে আনাই এখন উদ্ধারকারীদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত