Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’ থেকে দূরত্ব, কেন দল ছেড়েছিলেন চাণক্য মুকুল?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’ থেকে দূরত্ব, কেন দল ছেড়েছিলেন চাণক্য মুকুল?
মুকুল রায়, ফাইল চিত্র

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন মুকুল রায়। একসময় দলীয় কার্যালয়েই সপরিবারে থাকতেন, প্রতিটি বুথের খবর থাকতো যাঁর নখদর্পণে। তবুও কেন দীর্ঘ ১৯ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ২০১৭ সালে গেরুয়া শিবিরে পা বাড়িয়েছিলেন তিনি? মুকুল রায়ের প্রয়াণে ফের উসকে গেল সেই পুরনো স্মৃতি।

২০০৬ সালের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন হোক বা ২০১১-র ঐতিহাসিক পরিবর্তন— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই চলেছিল বিশাল ‘দলবদল কর্মসূচি’। শরিক দল ও বিরোধীদের ভেঙে তৃণমূলে যোগ দেওয়ানোর কারিগর ছিলেন তিনিই। বাংলার রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছিলেন এই দুঁদে সংগঠক।

মুকুল রায়ের সঙ্গে দলের দূরত্বের সূত্রপাত মূলত কয়েকটি কারণে:

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ: সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশনে নাম জড়ানোর পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: অভিযোগ ওঠে, প্রশাসনের ওপর তাঁর প্রভাব ও পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া নিয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

নিজাম প্যালেস জল্পনা: সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার পর থেকেই নিজাম প্যালেসে নিজস্ব অনুগামীদের নিয়ে সমান্তরাল সংগঠন চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০১৭ সালে রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে তৃণমূলকে ‘পারিবারিক কোম্পানি’ বলে কটাক্ষ করে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি আসন জয়ের নেপথ্যেও ছিল মুকুল রায়ের সাংগঠনিক মস্তিস্ক। ২০২১-এ কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়কও নির্বাচিত হন তিনি।

২০২১ সালের জুন মাসে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। কিন্তু ততদিনে শরীর ও মন— দুইই সাথ ছেড়েছে তাঁর। স্ত্রীর প্রয়াণের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। ক্যামেরার সামনে অসংলগ্ন কথাবার্তা (যেমন: "যাহাই বিজেপি, তাহাই তৃণমূল") রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছিল। বিধায়ক পদ নিয়ে আইনি লড়াই চললেও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অসুস্থতা বিবেচনা করে মানবিক কারণে পদটি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।

বাংলার রাজনীতির এক জটিল ও রহস্যময় অধ্যায়ের নায়ক ছিলেন মুকুল রায়। তাঁর প্রয়াণে সেই কৌশলী রাজনীতির এক যুগের অবসান হলো।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : BengalPolitics MukulRoy TrinamoolCongress MukulRoyPassing PoliticalAnalysis KolkataNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মমতার ‘ছায়াসঙ্গী’ থেকে দূরত্ব, কেন দল ছেড়েছিলেন চাণক্য মুকুল?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সেনাপতি ছিলেন মুকুল রায়। একসময় দলীয় কার্যালয়েই সপরিবারে থাকতেন, প্রতিটি বুথের খবর থাকতো যাঁর নখদর্পণে। তবুও কেন দীর্ঘ ১৯ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে ২০১৭ সালে গেরুয়া শিবিরে পা বাড়িয়েছিলেন তিনি? মুকুল রায়ের প্রয়াণে ফের উসকে গেল সেই পুরনো স্মৃতি।২০০৬ সালের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন হোক বা ২০১১-র ঐতিহাসিক পরিবর্তন— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন মুকুল রায়। ২০১৩-র পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই চলেছিল বিশাল ‘দলবদল কর্মসূচি’। শরিক দল ও বিরোধীদের ভেঙে তৃণমূলে যোগ দেওয়ানোর কারিগর ছিলেন তিনিই। বাংলার রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিয়েছিলেন এই দুঁদে সংগঠক।মুকুল রায়ের সঙ্গে দলের দূরত্বের সূত্রপাত মূলত কয়েকটি কারণে:কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ: সারদা কেলেঙ্কারি ও নারদা স্টিং অপারেশনে নাম জড়ানোর পর থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে।ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: অভিযোগ ওঠে, প্রশাসনের ওপর তাঁর প্রভাব ও পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া নিয়ে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।নিজাম প্যালেস জল্পনা: সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার পর থেকেই নিজাম প্যালেসে নিজস্ব অনুগামীদের নিয়ে সমান্তরাল সংগঠন চালানোর অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।২০১৭ সালে রানি রাসমণি রোডের সভা থেকে তৃণমূলকে ‘পারিবারিক কোম্পানি’ বলে কটাক্ষ করে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি আসন জয়ের নেপথ্যেও ছিল মুকুল রায়ের সাংগঠনিক মস্তিস্ক। ২০২১-এ কৃষ্ণনগর উত্তর থেকে বিজেপির টিকিটে বিধায়কও নির্বাচিত হন তিনি।২০২১ সালের জুন মাসে ফের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন তিনি। কিন্তু ততদিনে শরীর ও মন— দুইই সাথ ছেড়েছে তাঁর। স্ত্রীর প্রয়াণের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। ক্যামেরার সামনে অসংলগ্ন কথাবার্তা (যেমন: "যাহাই বিজেপি, তাহাই তৃণমূল") রাজনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছিল। বিধায়ক পদ নিয়ে আইনি লড়াই চললেও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অসুস্থতা বিবেচনা করে মানবিক কারণে পদটি বহাল রাখার নির্দেশ দেয়।বাংলার রাজনীতির এক জটিল ও রহস্যময় অধ্যায়ের নায়ক ছিলেন মুকুল রায়। তাঁর প্রয়াণে সেই কৌশলী রাজনীতির এক যুগের অবসান হলো।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার