নয়াদিল্লি: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনে এবার আইনি জালে জড়িয়ে পড়লেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি করায় পবনের সম্ভাব্য গ্রেফতারি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, তবে কি এবার শ্রীঘরে যেতে চলেছেন এই কংগ্রেস মুখপাত্র?
অসম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এক সংবাদ সম্মেলনে পবন খেরা দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিনিকি ভুঁইয়া শর্মার ভারত ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর এবং অ্যান্টিগা ও বারবুডার পাসপোর্ট রয়েছে। এমনকী, আমেরিকায় তাঁর বিপুল বেনামি সম্পত্তি রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, দ্বৈত নাগরিকত্ব বা একাধিক দেশের পাসপোর্ট রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলত, পবনের এই মন্তব্য নিয়ে তোলপাড়ও শুরু হয়।
কিন্তু, রিনিকি ভুঁইয়া শর্মা এই অভিযোগকে ‘ডিজিটাল কারসাজি’ এবং ‘অপপ্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়ে পবনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। কংগ্রেস নেতার বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিও চালানো হয়। এর মধ্যেই তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট পবন খেরাকে এক সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী আগাম জামিন দিয়েছিল। কিন্তু, সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় অসম সরকার।
বুধবার বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী ও বিচারপতি অতুল এস চন্দুরকরের বেঞ্চ তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। আদালত জানায়, ঘটনার এক্তিয়ার যেখানে নয়, সেই তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট কীভাবে এই জামিন দিল, তাতে তারা ‘বিস্মিত’। তবে শীর্ষ আদালত এও স্পষ্ট করেছে যে, পবন খেরা চাইলে অসমের সংশ্লিষ্ট আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আগেই হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “অসম পুলিশ পাতাল থেকেও অপরাধীকে খুঁজে আনতে পারে।” অন্যদিকে কংগ্রেসের দাবি, নির্বাচনের আগে মুখ বন্ধ করতেই এজেন্সিকে ব্যবহার করছে বিজেপি।
এদিকে, আপাতত আইনি সুরক্ষা কবচ হারানোয় পবন খেরাকে অসম পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে কিনা, সেটাই দেখার।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন