কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে যে সমীকরণ কয়েক দশক ধরে ছিল অকল্পনীয়, পরাজয়ের গ্লানি কি এবার সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করতে চলেছে? শনিবার যখন ব্রিগেডের মাঠে বিপুল জয়োল্লাসের মধ্যে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিচ্ছেন, ঠিক তখনই কালীঘাটের বাড়ি থেকে এক বিস্ফোরক প্রস্তাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে রুখতে এবার প্রকাশ্যেই বাম, অতিবাম এবং জাতীয় দলগুলিকে একজোট হয়ে নতুন ‘মঞ্চ’ গড়ার আহ্বান জানালেন তিনি।
শনিবার কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করার ফাঁকেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “চারদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সমস্ত রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন, এনজিও-কে বলব জোট বাঁধুন। আমরা বিজেপির বিরুদ্ধে একটা মঞ্চ গড়তে চাই।” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, সেই বামপন্থীদের প্রতিই এবার বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “বাম, অতিবাম, যে কোনও জাতীয় দল —আসুন আমরা জোট বাঁধি। আমি ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অফিসেই থাকব, চাইলে যে কেউ কথা বলতে পারেন।”
মমতার এই আর্জি শোনার পর পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবীন্দ্রনাথের পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “জীবন যখন শুকায়ে যায়, করুণাধারায় এসো।” অর্থাৎ, অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েই মমতা এখন বামেদের করুণা চাইছেন — সেলিমের এই প্রতিক্রিয়ায় জোটের সম্ভাবনা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।
২০২৬-এর নির্বাচনে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে গেলেও তৃণমূল থমকে গিয়েছে ৮০টি আসনে। কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, বিজেপির ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোটের বিপরীতে তৃণমূল পেয়েছে ৪০.৮০ শতাংশ ভোট। বাম-কংগ্রেসের ভোটের ঝুলি তলানিতে ঠেকলেও মমতা বুঝেছেন, এই ভগ্নাংশ ভোটগুলি একজোট না হলে গেরুয়া ঝড় রোখা অসম্ভব। তিলোত্তমার রাজপথে এবার কি তবে ‘লাল-সবুজ’ মিলেমিশে এক নতুন বিরোধী মঞ্চের জন্ম হবে? সেই জল্পনাই এখন তুঙ্গে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন