Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালাতেই পুলিশের জালে ৪ মাস ধরে ‘ফেরার’ সেই খুনে অভিযুক্ত বিডিও!

মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালাতেই পুলিশের জালে ৪ মাস ধরে ‘ফেরার’ সেই খুনে অভিযুক্ত বিডিও!
FILE IMAGE

কলকাতা: অবশেষে আইনের লম্বা হাত পৌঁছাল তাঁর ঘাড় পর্যন্ত। গত চার মাস ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন এবার আর পার পেলেন না। তবে কোনো গোয়েন্দা বা পুলিশি অভিযানে নয়, সোমবার রাতে নিউটাউনে এক সাধারণ পথচারীর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার জেরেই হাতকড়া পড়ল এই হাই-প্রোফাইল সরকারি আধিকারিকের হাতে। 


সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার অভিযোগে তাঁকে আটক করার পর, মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। এই গ্রেপ্তারি বঙ্গে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, কারণ সোমবার রাতের সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সল্টলেকের নামী স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মতো এক হাড়হিম করা মামলার মূল চক্রী হওয়ার দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে। আজই তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হবে এবং নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিধাননগর গোয়েন্দা বিভাগ।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিটি সেন্টার ২-এর কাছাকাছি এলাকা দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে তীব্র গতিতে যাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মন। অভিযোগ, তার ঠিক আগেই নিউটাউনের একটি বারে বসে দেদার মদ্যপান করেছিলেন তিনি। নেশার ঘোরে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিটি সেন্টার ২ লাগোয়া রাম মন্দিরে যাওয়ার রাস্তায় আচমকাই এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে প্রশান্তর গাড়ি। দুর্ঘটনা ঘটিয়েই সেখান থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত ওই পথচারী নিজের মোবাইলে বিডিও-র কীর্তির ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইকো পার্ক থানার পুলিশ এবং রাতেই তাঁকে থানায় এনে আটকে রাখা হয়।


প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি হলো সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে নৃশংসভাবে খুন করা। গত বছরের ২৮ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে বিডিও-র বাড়ি থেকে কিছু সোনা চুরি যায় এবং সেই সোনা স্বপন কামিল্যা কিনেছেন— এমন সন্দেহের বশে ওই ব্যবসায়ীকে সোজা অপহরণ করেন প্রশান্ত ও তাঁর দলবল। নিউটাউনের এবি ব্লকের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্বপনবাবুর ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। 


এর ঠিক পরদিন, ২৯ অক্টোবর বাগজোলা খালপাড়ের যাত্রাগাছি থেকে ওই ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নেমে বিডিও-র গাড়িচালক রাজু ঢালি, উত্তরবঙ্গের ঠিকাদার তুফান থাপা এবং কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মূল পাণ্ডা প্রশান্ত বর্মন সুপ্রিম কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান।


তদন্তকারীদের দাবি, প্রশান্ত বর্মন যে কেবল খুনের মামলার আসামি, তাই নয়; তাঁর সরকারি পদে চাকরি পাওয়া নিয়েও রয়েছে এক মস্ত বড় কেলেঙ্কারী। ২০১৮ সালের ব্যাচের এই অফিসারের বিডিও পদে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নম্বর কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে শূন্য পেয়েও এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস না করেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিডিও-র মতো গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসেছিলেন। এমনকি নিজের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একাধিকবার নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের বদলিও আটকে দিয়েছিলেন তিনি। এই জালিয়াতি নিয়ে ন’বছর আগে দায়ের হওয়া একটি মামলা এখনও কলকাতা হাইকোর্টে ঝুলে রয়েছে। এবার সড়ক দুর্ঘটনার ফাঁদে পড়ে খুনের মামলার সেই মূল পান্ডা শ্রীঘরে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নিহতের পরিবার।

বিষয় : KOLKATACRIME SaltlakeMurderCase newtownarrest bdoprashantaburman

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব চালাতেই পুলিশের জালে ৪ মাস ধরে ‘ফেরার’ সেই খুনে অভিযুক্ত বিডিও!

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image
কলকাতা: অবশেষে আইনের লম্বা হাত পৌঁছাল তাঁর ঘাড় পর্যন্ত। গত চার মাস ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানো রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন এবার আর পার পেলেন না। তবে কোনো গোয়েন্দা বা পুলিশি অভিযানে নয়, সোমবার রাতে নিউটাউনে এক সাধারণ পথচারীর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহসিকতার জেরেই হাতকড়া পড়ল এই হাই-প্রোফাইল সরকারি আধিকারিকের হাতে। সোমবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনার অভিযোগে তাঁকে আটক করার পর, মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। এই গ্রেপ্তারি বঙ্গে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে, কারণ সোমবার রাতের সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সল্টলেকের নামী স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মতো এক হাড়হিম করা মামলার মূল চক্রী হওয়ার দীর্ঘ অভিযোগ রয়েছে। আজই তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হবে এবং নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিধাননগর গোয়েন্দা বিভাগ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ সিটি সেন্টার ২-এর কাছাকাছি এলাকা দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে তীব্র গতিতে যাচ্ছিলেন প্রশান্ত বর্মন। অভিযোগ, তার ঠিক আগেই নিউটাউনের একটি বারে বসে দেদার মদ্যপান করেছিলেন তিনি। নেশার ঘোরে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিটি সেন্টার ২ লাগোয়া রাম মন্দিরে যাওয়ার রাস্তায় আচমকাই এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে প্রশান্তর গাড়ি। দুর্ঘটনা ঘটিয়েই সেখান থেকে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত ওই পথচারী নিজের মোবাইলে বিডিও-র কীর্তির ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে দেন। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইকো পার্ক থানার পুলিশ এবং রাতেই তাঁকে থানায় এনে আটকে রাখা হয়।প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগটি হলো সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে নৃশংসভাবে খুন করা। গত বছরের ২৮ অক্টোবর উত্তরবঙ্গে বিডিও-র বাড়ি থেকে কিছু সোনা চুরি যায় এবং সেই সোনা স্বপন কামিল্যা কিনেছেন— এমন সন্দেহের বশে ওই ব্যবসায়ীকে সোজা অপহরণ করেন প্রশান্ত ও তাঁর দলবল। নিউটাউনের এবি ব্লকের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্বপনবাবুর ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন। এর ঠিক পরদিন, ২৯ অক্টোবর বাগজোলা খালপাড়ের যাত্রাগাছি থেকে ওই ব্যবসায়ীর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এফআইআর দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নেমে বিডিও-র গাড়িচালক রাজু ঢালি, উত্তরবঙ্গের ঠিকাদার তুফান থাপা এবং কোচবিহারের তৃণমূল নেতা সজল সরকার-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু মূল পাণ্ডা প্রশান্ত বর্মন সুপ্রিম কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেপাত্তা হয়ে যান।তদন্তকারীদের দাবি, প্রশান্ত বর্মন যে কেবল খুনের মামলার আসামি, তাই নয়; তাঁর সরকারি পদে চাকরি পাওয়া নিয়েও রয়েছে এক মস্ত বড় কেলেঙ্কারী। ২০১৮ সালের ব্যাচের এই অফিসারের বিডিও পদে নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নম্বর কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ইংরেজিতে শূন্য পেয়েও এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস না করেই প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিডিও-র মতো গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসেছিলেন। এমনকি নিজের ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একাধিকবার নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের বদলিও আটকে দিয়েছিলেন তিনি। এই জালিয়াতি নিয়ে ন’বছর আগে দায়ের হওয়া একটি মামলা এখনও কলকাতা হাইকোর্টে ঝুলে রয়েছে। এবার সড়ক দুর্ঘটনার ফাঁদে পড়ে খুনের মামলার সেই মূল পান্ডা শ্রীঘরে যাওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে নিহতের পরিবার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার