চেন্নাই ও মুম্বই: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের রাজনীতি। আর সেই সংঘাতের আবহেই জাতীয় রাজনীতিতে ঘটে চলেছে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ।
জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনকে হাতিয়ার করে ইন্ডি (INDIA) জোটের অন্দরে যেমন সমীকরণের আমূল বদল ঘটছে, তেমনই দীর্ঘ দুই দশকের তিক্ততা ভুলে মুম্বইয়ের রাজপথে কাঁধে কাঁধ মেলালেন দুই ভাই রাজ ঠাকরে এবং উদ্ধব ঠাকরে। দক্ষিণের রাজনীতিতে ডিএমকে-কে হটিয়ে কংগ্রেসের হাত ধরে মূল স্রোতে উঠে আসছেন অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থলপতি বিজয়ের দল ‘তামিগাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে)।
শনিবার চেন্নাইয়ে তামিলনাড়ুর ইন্ডি জোটের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বিজয়ের দলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। সেখানে সরকারিভাবে টিভিকে-কে জোটে শামিল করে নেওয়া হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে জোটের বৈঠক বয়কট করেছিল আম আদমি পার্টি (আপ) এবং এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে।
সাম্প্রতিক বিধানসভা ভোটে হারের পর কংগ্রেস যেভাবে তামিলনাড়ুতে স্ট্যালিনের হাত ছেড়ে বিজয়ের হাত ধরেছে, তাতে বেজায় ক্ষুব্ধ ডিএমকে। অন্যদিকে, পঞ্জাব ও গোয়ায় কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ের কারণে আপ-ও দূরত্ব বাড়িয়েছে।
ডিএমকে ও আপ আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের বাইরে চলে গেলেও, থলপতি বিজয়ের এই ঝোড়ো এন্ট্রি বিরোধী শিবিরে নতুন অক্সিজেন জোগাচ্ছে। আগামী ৬ অক্টোবর দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন অভিযানের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর প্রতিটি জেলায় কংগ্রেস ও বামেদের সঙ্গে যৌথ আন্দোলনে নামছে বিজয়ের দল। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ইস্যুতে বিজয় নিজে এখনও নামেননি, তবে দক্ষিণের রাজনীতিতে তিনি যে দিন দিন আরও বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন, তা এই সমীকরণেই স্পষ্ট।
অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও রবিবার এক ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মুম্বই। দীর্ঘ দুই দশকের ‘শত্রুতা’ ভুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ‘বিরাট গর্জন মোর্চা’-য় পাশাপাশি হাঁটলেন উদ্ধব ঠাকরে এবং রাজ ঠাকরে।
কংগ্রেস ও শরদ পওয়ারের এনসিপি নেতৃত্বের উপস্থিতিতে রাজ ঠাকরে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “জ্ঞানেশ কাকা, ভোট লুঠ করবেন না!” পাশাপাশি মুম্বইয়ে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া অবিলম্বে বাতিল করার দাবি তুলে তাঁর অভিযোগ, ভোটে জেতার জন্য আগে ৬০ লক্ষ ভুয়ো নাম তোলা হয়েছিল, আর এখন দু’কোটি আসল ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে উদ্ধব ঠাকরে জ্ঞানেশের সঙ্গে হিটলারের তুলনা টেনে তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি জানান। এদিনের মিছিলে কোনও দলীয় পতাকা ছিল না, স্রেফ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দুই ভাই রাজপথ কাঁপান।
উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ইতিমধ্যেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২ অক্টোবর ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের যৌথ বিক্ষোভে দিল্লি ও মুম্বই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। যন্তর মন্তর থেকে আটক হন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতীশী, সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট এবং আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং সহ ১,১০০ জন। সেই ঘটনার জল গড়িয়ে এখন জোটের নতুন অংকে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘আরশোলা’দের পরবর্তী যন্তর মন্তর অভিযানের আগেই একদিকে বিজয়ের জোটে আগমন এবং অন্যদিকে দুই ঠাকরে ভাইয়ের ঐক্য— দিল্লির তখতে নতুন কম্পন সৃষ্টি করেছে।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন