Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Ashtami Menu : অষ্টমীর পাতে এবার নস্টালজিয়া, ফিরিয়ে আনুন পুরনো দিনের রান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
Ashtami Menu : অষ্টমীর পাতে এবার নস্টালজিয়া, ফিরিয়ে আনুন পুরনো দিনের রান্না
এআই নির্মিত চিত্র

অষ্টমীর ভোগে শুধুই খিচুড়ি - লাবড়া কেন? ঠাকুমারা রান্নাঘরে ঢুকলেই যেন অন্যরকম একটা গন্ধ। মনে পড়ে? পুজোর দিন সকাল থেকে উনুনে হাঁড়ি চাপত, একটার পর একটা নিরামিষ রান্না হতো, আর রান্নাঘরের সামনে দিয়ে গেলেই নাকে আসত ঘি, জিরে আর ভাজা মশলার গন্ধ। এখন সেই রান্নাগুলোর প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ অষ্টমীর ভোগের পাতে সেই পুরনো দিনের একটা-দুটো পদ ফিরিয়ে আনলে পুজোর স্বাদটাই যেন বদলে যায়। 


তাই এবারে খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুন ভাজা তো থাকবেই। তার সঙ্গে একটু ঠাকুমার আমলের, নাম না জানা কিছু নিরামিষ রান্না রাখবেন নাকি? তাহলে আজ থেকেই পদ গুলো খাতায় লিখে রাখুন। 


যেমন ধরুন থোড়ের ঘণ্ট। কলাগাছের থোড় পরিষ্কার করতে একটু সময় লাগে ঠিকই, কিন্তু রান্নাটা একেবারেই কঠিন নয়। থোড়ের সঙ্গে আলু, সামান্য ছোলার ডাল, আদা আর জিরে দিয়ে রান্না করলেই হয়ে যায়। মশলা বেশি লাগে না। আর গরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে এই সাদামাটা রান্নার স্বাদটা কিন্তু বেশ অন্যরকম।


তারপর মোচার ঘণ্ট। সত্যি বলতে মোচা পরিষ্কার করাটাই সবচেয়ে ঝামেলার। কিন্তু বাড়ির বড়দের কাছে জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, একসময় পুজো বা কোনও বিশেষ দিনে মোচার ঘণ্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। মোচা, আলু, নারকেল আর অল্প মশলা দিয়ে রান্না করা এই পদটা একেবারে ঘরোয়া। আর পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই এত সুন্দর স্বাদ হয় যে ভোগের পাতে রাখার জন্য একেবারে মানানসই।


এঁচোড়ের ডালনাও রাখতে পারেন। কাঁচা এঁচোড় কেটে হালকা ভেজে নিয়ে আদা, জিরে, ধনে আর অল্প গরমমশলার ঝোলে রান্না করুন। অনেক পুরনো বাড়িতে এঁচোড়কে মজা করে ‘গাছপাঁঠা’ বলা হতো। কারণ রান্না হলে এর টেক্সচারটা অনেকটা মাংসের মতো লাগে। তবে ভোগের জন্য পুরোপুরি নিরামিষ এই পদ।


আর একটু অন্যরকম কিছু চাইলে কাঁচা আমের ঝোল করতে পারেন। কাঁচা আম, নুন, হলুদ আর সামান্য মিষ্টি এই তো! খুব বেশি মশলা বা ঝামেলার দরকার নেই। ভোগের এত রকম ভারী খাবারের মাঝে এই হালকা টক-মিষ্টি ঝোলটা খেলে মুখের স্বাদটাই বদলে যাবে।


আর শুক্তো ছাড়া কি অষ্টমীর নিরামিষ থালি জমে? অনেকের বাড়িতে এখনও হয়, আবার অনেকের রান্নাঘর থেকে ধীরে ধীরে হারিয়েও যাচ্ছে। করলা, কাঁচকলা, বেগুন, আলু, কুমড়ো বাড়িতে যে সবজি আছে, তা দিয়েই করা যায়। তেতো, মিষ্টি আর হালকা মশলার একটা আলাদা স্বাদ। শুক্তো আসলে শুধু একটা রান্না নয়, বাঙালির পুরনো রান্নাঘরের একটা গল্প।


শেষে যদি চালকুমড়োর মিষ্টি চাটনি বা গুড় দিয়ে তৈরি সাধারণ পায়েস থাকে, তাহলে তো কথাই নেই।

আসলে এখনকার দিনে আমরা রান্না করতে গিয়ে অনেক সময় সহজ আর তাড়াতাড়ি তৈরি হয় এমন পদই বেছে নিই। তাই ঠাকুমার আমলের এই রান্নাগুলো অনেক বাড়িতেই আর হয় না। কিন্তু পুজো তো শুধু নতুন কিছু করার সময় নয়, পুরনো কিছু ফিরিয়ে আনার সময়ও। তাই এবারের অষ্টমীর ভোগে খিচুড়ি-লাবড়ার সঙ্গে একটা পুরনো দিনের রান্না রাখুন। কে জানে, খেতে বসে বাড়ির কোনও বড় মানুষ হয়তো হেসে বলবেন—“আরে, এই রান্নাটা তো তোমাদের ঠাকুমা পুজোয় করতেন!” আর সেই একটা কথাতেই হয়তো আপনার এবারের পুজোটা একটু বেশি কাছের হয়ে থাকবে।

বিষয় : Festive Season durgapujotips ashtami menu bengalicuisine delicious food

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


Ashtami Menu : অষ্টমীর পাতে এবার নস্টালজিয়া, ফিরিয়ে আনুন পুরনো দিনের রান্না

প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
অষ্টমীর ভোগে শুধুই খিচুড়ি - লাবড়া কেন? ঠাকুমারা রান্নাঘরে ঢুকলেই যেন অন্যরকম একটা গন্ধ। মনে পড়ে? পুজোর দিন সকাল থেকে উনুনে হাঁড়ি চাপত, একটার পর একটা নিরামিষ রান্না হতো, আর রান্নাঘরের সামনে দিয়ে গেলেই নাকে আসত ঘি, জিরে আর ভাজা মশলার গন্ধ। এখন সেই রান্নাগুলোর প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। অথচ অষ্টমীর ভোগের পাতে সেই পুরনো দিনের একটা-দুটো পদ ফিরিয়ে আনলে পুজোর স্বাদটাই যেন বদলে যায়। তাই এবারে খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুন ভাজা তো থাকবেই। তার সঙ্গে একটু ঠাকুমার আমলের, নাম না জানা কিছু নিরামিষ রান্না রাখবেন নাকি? তাহলে আজ থেকেই পদ গুলো খাতায় লিখে রাখুন। যেমন ধরুন থোড়ের ঘণ্ট। কলাগাছের থোড় পরিষ্কার করতে একটু সময় লাগে ঠিকই, কিন্তু রান্নাটা একেবারেই কঠিন নয়। থোড়ের সঙ্গে আলু, সামান্য ছোলার ডাল, আদা আর জিরে দিয়ে রান্না করলেই হয়ে যায়। মশলা বেশি লাগে না। আর গরম ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে এই সাদামাটা রান্নার স্বাদটা কিন্তু বেশ অন্যরকম।তারপর মোচার ঘণ্ট। সত্যি বলতে মোচা পরিষ্কার করাটাই সবচেয়ে ঝামেলার। কিন্তু বাড়ির বড়দের কাছে জিজ্ঞেস করলে দেখবেন, একসময় পুজো বা কোনও বিশেষ দিনে মোচার ঘণ্ট হওয়াটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার ছিল। মোচা, আলু, নারকেল আর অল্প মশলা দিয়ে রান্না করা এই পদটা একেবারে ঘরোয়া। আর পেঁয়াজ-রসুন ছাড়াই এত সুন্দর স্বাদ হয় যে ভোগের পাতে রাখার জন্য একেবারে মানানসই।এঁচোড়ের ডালনাও রাখতে পারেন। কাঁচা এঁচোড় কেটে হালকা ভেজে নিয়ে আদা, জিরে, ধনে আর অল্প গরমমশলার ঝোলে রান্না করুন। অনেক পুরনো বাড়িতে এঁচোড়কে মজা করে ‘গাছপাঁঠা’ বলা হতো। কারণ রান্না হলে এর টেক্সচারটা অনেকটা মাংসের মতো লাগে। তবে ভোগের জন্য পুরোপুরি নিরামিষ এই পদ।আর একটু অন্যরকম কিছু চাইলে কাঁচা আমের ঝোল করতে পারেন। কাঁচা আম, নুন, হলুদ আর সামান্য মিষ্টি এই তো! খুব বেশি মশলা বা ঝামেলার দরকার নেই। ভোগের এত রকম ভারী খাবারের মাঝে এই হালকা টক-মিষ্টি ঝোলটা খেলে মুখের স্বাদটাই বদলে যাবে।আর শুক্তো ছাড়া কি অষ্টমীর নিরামিষ থালি জমে? অনেকের বাড়িতে এখনও হয়, আবার অনেকের রান্নাঘর থেকে ধীরে ধীরে হারিয়েও যাচ্ছে। করলা, কাঁচকলা, বেগুন, আলু, কুমড়ো বাড়িতে যে সবজি আছে, তা দিয়েই করা যায়। তেতো, মিষ্টি আর হালকা মশলার একটা আলাদা স্বাদ। শুক্তো আসলে শুধু একটা রান্না নয়, বাঙালির পুরনো রান্নাঘরের একটা গল্প।শেষে যদি চালকুমড়োর মিষ্টি চাটনি বা গুড় দিয়ে তৈরি সাধারণ পায়েস থাকে, তাহলে তো কথাই নেই।আসলে এখনকার দিনে আমরা রান্না করতে গিয়ে অনেক সময় সহজ আর তাড়াতাড়ি তৈরি হয় এমন পদই বেছে নিই। তাই ঠাকুমার আমলের এই রান্নাগুলো অনেক বাড়িতেই আর হয় না। কিন্তু পুজো তো শুধু নতুন কিছু করার সময় নয়, পুরনো কিছু ফিরিয়ে আনার সময়ও। তাই এবারের অষ্টমীর ভোগে খিচুড়ি-লাবড়ার সঙ্গে একটা পুরনো দিনের রান্না রাখুন। কে জানে, খেতে বসে বাড়ির কোনও বড় মানুষ হয়তো হেসে বলবেন—“আরে, এই রান্নাটা তো তোমাদের ঠাকুমা পুজোয় করতেন!” আর সেই একটা কথাতেই হয়তো আপনার এবারের পুজোটা একটু বেশি কাছের হয়ে থাকবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত