অস্ট্রেলিয়া - ১
ব্রাজিল - ১
মেলবোর্ন: ভারতের মাটিতে পা রাখার আর মাত্র ক’টা দিন বাকি।
৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতীয় ফুটবল দলের বিরুদ্ধে নামার আগে সেলেকাওদের ঘিরে উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক ভারত সফরের ঠিক মুখেই অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে চরম ধাক্কা খেল পাঁচবারের বিশ্বজয়ী ব্রাজিল।
কার্লো আনচেলত্তির তারকাখচিত দলকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল সকারুজরা! কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে অনবদ্য ফ্রি-কিকে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন অজি তরুণ নেস্তোরি ইরানকুন্ডা। তবে একদম ম্যাচের শেষলগ্নে, যোগ করা সময়ের ৫ মিনিটে রায়ানের বাঁচানো হেডে ১-১ গোলে কোনওমতে ড্র করে মাঠ ছাড়ল ব্রাজিল।
বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেওয়ার পর এটাই ছিল সেলেকাওদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। নেইমার-উত্তর যুগে এস্তেভাও, এনড্রিকদের মতো একঝাঁক নতুন প্রতিভাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের আশায় টিম গুছিয়েছিলেন হাই-প্রোফাইল ইতালীয় কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
কুইন্সল্যান্ডে প্রথম একাদশে নামিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, মারকিউনহোস ও ব্রুনো গুইমারেসের মতো মেগা তারকাদের। কিন্তু কোথায় সেই সাম্বার চেনা ছন্দ? পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে বল পজেশনে ব্রাজিল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, আক্রমণের ধার ও দলগত সমন্বয়ের দিক থেকে চোখ টানতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই ঘরের মাঠে ব্রাজিলীয় ডিফেন্সের ওপর লাগাতার চাপ তৈরি করছিলেন তরুণ তুর্কি ইরানকুন্ডা। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার হ্যারি সৌত্তারের ভুলে বল ছিনিয়ে নিয়ে জালে বল জড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্রাজিলের এস্তেভাও। কিন্তু ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির সহায়তায় ব্রুনো গুইমারেসের ফাউল স্পষ্ট ধরা পড়ায় সেই গোল বাতিল করেন রেফারি। ফলে ০-০ ব্যবধানেই প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি পরিবর্তন করে টনি পপোভিচের অস্ট্রেলিয়া। ৬৮ মিনিটে বক্সের প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া নেস্তোরি ইরানকুন্ডার রকেট ফ্রি-কিক ব্রাজিলের প্রাচীর টপকে সোজা প্রবেশ করে জালে। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়েছে।
২০০১ সালের কনফেডারেশন কাপের পর ফের ব্রাজিলকে হারানোর মোক্ষম সুযোগ চলে এসেছিল অস্ট্রেলিয়ার হাতে। তবে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের পঞ্চম মিনিটে রাফিনহার কর্নার কিক থেকে অসাধারণ হেডে গোল করে ব্রাজিলকে লজ্জা থেকে উদ্ধার করেন পরিবর্ত হিসেবে নামা রায়ান।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ব্রাজিলের এই হোঁচট নিঃসন্দেহে ভারতীয় দল ও সমর্থকদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে। কারণ শক্তি ও নক্ষত্র সমাবেশের বিচারে দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকলেও, আনচেলত্তির ব্রাজিলের যে এখনও অনেক খামতি রয়েছে তা আবার প্রমাণিত হলো।
কুইন্সল্যান্ড কান্ট্রি ব্যাংক স্টেডিয়ামে পোল ওকন-এনগস্টলার, পল সৈত্তার এবং পাত্রিক বিচরা যেভাবে বিশ্বসেরা তারকাদের রুখে দিয়েছেন, তা দেখে মনবীর সিং, আনোয়ার আলিদের নিয়ে গড়া ভারতের 'ব্লু টাইগার্স'রাও স্বপ্ন দেখতেই পারে। অস্ট্রেলিয়ায় এখনও একটি ম্যাচ বাকি ব্রাজিলের। তারপরই তাঁরা উড়ে আসবে কলকাতায়। তবে তার আগে মেলবোর্নের মাঠে প্রকাশিত সেলেকাওদের এই ভঙ্গুর রূপ নিশ্চয়ই ভারতীয় শিবিরকে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াই করার বাড়তি টনিক জুগিয়ে গেল!

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন