কলকাতা: থমকে থাকা প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আবার নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে বড় আশ্বাস দিলেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, আটকে থাকা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলেই পরবর্তী নিয়োগে হাত দেবে রাজ্য সরকার। শুধু তাই নয়, চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন আশা জাগিয়ে মন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও সরস্বতীপুজোর মতো এখন থেকে বছর বছর টেট অনুষ্ঠিত হবে।” দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে যখন ক্ষোভ চরমে, ঠিক তখনই রাজ্য সরকারের এই সুনির্দিষ্ট বার্তা নতুন করে তোলপাড় ফেলল শিক্ষা মহলে।
উল্লেখ্য, শেষবার প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট হয়েছিল ২০২২ সালে। আন্দোলনের চাপে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ১৩,৪২১ জন উত্তীর্ণ প্রার্থীর নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হলেও তা বাস্তবায়নে পদে পদে বাধা আসে। পরবর্তীতে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া জেলাভিত্তিক শুরু হলেও নির্বাচন কমিশনের নজরদারি ও আদর্শ আচরণবিধির ঘাঁটিতে আটকে পড়ে সেটি। শেষমেশ স্থগিত হয়ে যায় ইন্টারভিউ। তার পর রাজ্যে নির্বাচন ও সরকার বদল হলেও থমকে থাকা সেই নিয়োগ চালু করা নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। কিন্তু এ দিন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, বর্তমান শূন্যপদ পূরণের পরই নতুন শূন্যপদের তালিকা তৈরি হবে এবং বার্ষিক উৎসবের মতোই নিয়মিত টেট নেওয়া হবে।
তবে মন্ত্রীর এই আশ্বাসে যেমন আশার আলো দেখছেন অনেকে, তেমনই উঠে আসছে সংশয়ের সুরও। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল কটাক্ষের সুরে জানান, আগের সরকারও প্রতি বছর পরীক্ষা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে চাকরি মেলেনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে বাতাস ভারী হয়েছিল; ফলে নতুন প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়, তা সময়ই বলবে। যদিও অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি ও কর্মসংস্থানের দিক থেকে ইতিবাচক বলেই মনে করছে। অন্যদিকে, চার বছর ধরে অপেক্ষারত টেট উত্তীর্ণ ডিএলএড প্রার্থীদের স্পষ্ট দাবি— আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, স্থগিত হওয়া প্রক্রিয়াটি ঠিক কোন তারিখে শেষ হবে, তার সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হোক।

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন