কলকাতা: ভাদ্রের কাঠফাটা রোদ আর প্যাচপ্যাচে ঘামের মাঝেই বাঙালির উৎসবের মুখে ফের হাজির অশনি সংকেত। এখনই বৃষ্টির হাত থেকে নিস্তার নেই বঙ্গবাসীর। কারণ, বঙ্গোপসাগরের বুকে ফের ঘনাচ্ছে নতুন এক নিম্নচাপের কালো মেঘ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শুক্রবারই উত্তর-পশ্চিম ও পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর এই সিস্টেমটি ঘনীভূত হতে পারে। তার ওপর সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা দিঘার ওপর দিয়ে সোজা বিস্তৃত রয়েছে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত। সাগরের এই জোড়া ফলায় ভাসতে চলেছে রাজ্যের একাধিক জেলা।
আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বুধবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী তিন জেলা—পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলির জন্য ইতিমধ্যেই জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা। বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতায় এদিন সকালের দিকে রোদের তেজ চোখ রাঙালেও বাতাসে অতিমাত্রায় জলীয় বাষ্পের কারণে অস্বস্তিকর আর্দ্রতা বজায় থাকবে। বুধবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা বজায় রাখবে ভ্যাপসা গরম। তবে মহানগরেও দুপুরের পর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বৃষ্টি কিছুটা কম থাকলেও আসল দুর্যোগ অপেক্ষা করছে সপ্তাহান্তে। নিম্নচাপের শক্তিবৃদ্ধির ফলে শুক্রবার থেকেই দক্ষিণ ও উত্তর—উভয় বঙ্গেই বৃষ্টির দাপট হু হু করে বাড়বে। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। আর শনিবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি—এই পাঁচ জেলাতেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সংকেতের মতো কড়া পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। নিম্নচাপটি স্থলভাগের দিকে এগিয়ে এলে পুজোর প্রাক্কালে কতটা দুর্ভোগ বয়ে আনবে, এখন তা নিয়েই তীব্র আশঙ্কায় রাজ্যবাসী।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন