Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

বাগেশ্বর বাবার ছবি জ্বালিয়েই চরম বিপত্তি! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টাতেই মধ্যরাতে শ্রীঘরে এক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাগেশ্বর বাবার ছবি জ্বালিয়েই চরম বিপত্তি! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টাতেই মধ্যরাতে শ্রীঘরে এক
ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবা। ফাইল চিত্র

কলকাতা: দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ ভক্ষণ নিয়ে মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার করা ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্যের জের পৌঁছাল আইনি পদক্ষেপে। তাঁর ছবিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই হুঁশিয়ারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যরাতে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে তাঁর টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করল ভবানীপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।

সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী মন্তব্য করেন, পুজোয় যাঁরা আমিষ খান তাঁরা আসলে ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড। তাঁর এই বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। বাঙালি অস্মিতায় আঘাতের অভিযোগে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। বিতর্ক এড়াতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকাশ্যে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে স্পষ্ট জানান যে বাগেশ্বর বাবার মতামতের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।

তবে এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে আগুন ধরিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। রাজ্যের একাধিক প্রান্তেও কংগ্রেস এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুর চড়ায়। বিষয়টি নজরে আসতেই বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে পুলিশ কমিশনারকে। রাজ্যে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গভীর রাতে টালিগঞ্জে অতনু দাসের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ এবং তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

নেতার গ্রেপ্তারিতে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, বাইরের রাজ্য থেকে এসে একজন ধর্মগুরু গোটা বাঙালি জাতিকে সরাসরি অপমান করলেন, আর তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মধ্যরাতে পুলিশের হাতে বন্দি হতে হল দলের সাধারণ সম্পাদককে। কংগ্রেসের দাবি, অতীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের কুশপুতুল পোড়ানোর মতো বহু ঘটনা ঘটলেও কখনও এমন ধরপাকড় হয়নি। বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মসম্মানে আঘাত করা হলে আইনি শাস্তির ভয় উপেক্ষা করেই তাঁরা প্রতিবাদের রাস্তায় থাকবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : congress WestBengalPolitics BreakingNews BengalNews HiddenStoriesNews bageshwarbaba

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাগেশ্বর বাবার ছবি জ্বালিয়েই চরম বিপত্তি! মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টাতেই মধ্যরাতে শ্রীঘরে এক

প্রকাশের তারিখ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: দুর্গাপুজোয় বাঙালির আমিষ ভক্ষণ নিয়ে মধ্যপ্রদেশের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবার করা ‘পাখণ্ডী’ মন্তব্যের জের পৌঁছাল আইনি পদক্ষেপে। তাঁর ছবিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই হুঁশিয়ারির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মধ্যরাতে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে তাঁর টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করল ভবানীপুর থানার পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।সম্প্রতি বাংলা সফরে এসে একাধিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী মন্তব্য করেন, পুজোয় যাঁরা আমিষ খান তাঁরা আসলে ‘পাখণ্ডী’ বা ভণ্ড। তাঁর এই বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে রাজ্যজুড়ে। বাঙালি অস্মিতায় আঘাতের অভিযোগে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। বিতর্ক এড়াতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকাশ্যে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে স্পষ্ট জানান যে বাগেশ্বর বাবার মতামতের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।তবে এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ভবানীপুর থানার সামনে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর ছবিতে আগুন ধরিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। রাজ্যের একাধিক প্রান্তেও কংগ্রেস এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুর চড়ায়। বিষয়টি নজরে আসতেই বৃহস্পতিবার বিধানসভায় সরাসরি ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে পুলিশ কমিশনারকে। রাজ্যে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশ জারির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গভীর রাতে টালিগঞ্জে অতনু দাসের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ এবং তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।নেতার গ্রেপ্তারিতে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, বাইরের রাজ্য থেকে এসে একজন ধর্মগুরু গোটা বাঙালি জাতিকে সরাসরি অপমান করলেন, আর তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মধ্যরাতে পুলিশের হাতে বন্দি হতে হল দলের সাধারণ সম্পাদককে। কংগ্রেসের দাবি, অতীতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের কুশপুতুল পোড়ানোর মতো বহু ঘটনা ঘটলেও কখনও এমন ধরপাকড় হয়নি। বাঙালির সংস্কৃতি ও আত্মসম্মানে আঘাত করা হলে আইনি শাস্তির ভয় উপেক্ষা করেই তাঁরা প্রতিবাদের রাস্তায় থাকবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত