দুর্গাপুর: স্বজন হারানোর তীব্র যন্ত্রণা আর চিকিৎসায় চরম গাফিলতির ক্ষোভ।
এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আচমকাই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুরের বুদবুদ থানার মানকর গ্রামীণ হাসপাতাল। এক প্রবীণ রোগীর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন মৃতের আত্মীয় পরিজনেরা। স্বজনদের কান্নার রোল নিমেষেই পরিণত হলো উন্মত্ত তাণ্ডবে। অভিযোগ, চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হওয়া থেকে শুরু করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর, বাদ যায়নি কিছুই। তাণ্ডবের চোটে প্রাণের ভয়ে কোল কোলে শিশু নিয়ে প্রসূতি থেকে শুরু করে অন্যান্য রোগীরা হাসপাতালের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। বুদবুদ থানার মানকর বাগানপাড়ার বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী রবি বাউরি গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন। পরিবারের দাবি, প্রাথমিক চিকিৎসার নাম করে দায় সেরে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাড়ি পৌঁছতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এর পরেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙে রোগীর স্বজনদের। চিকিৎসকদের গাফিলতিতেই রবিবাবুর অকালমৃত্যু হয়েছে, এই অভিযোগে সরব হয়ে হাসপাতালের ওপর চড়াও হন স্বজনেরা।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে জড়ো হন উত্তেজিত আত্মীয় ও স্থানীয়রা। দেখতে দেখতে পরিজনদের ক্ষোভের আগুন গ্রাস করে পুরো হাসপাতাল চত্বর। ভাঙচুর চালানো হয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রে। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ রূপ নেয় যে আতঙ্কে কাঁপতে থাকেন অন্যান্য ভর্তি থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
রবিবার সকাল হতেই এই হামলার প্রতিবাদে এবং সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তার দাবিতে গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তবে আন্দোলন চললেও জরুরি পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন স্বাস্থ্য দফতর ও প্রশাসনের আধিকারিকেরা। আসেন বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য নরেশ কোনারও। তিনি জানান, স্বজনহারানোর বেদনা অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও হাসপাতাল ভাঙচুর বা চিকিৎসকদের মারধর কোনও সমাধান হতে পারে না।
এই অনভিপ্রেত হামলায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সপ্তর্ষি কোণার। অন্য দিকে, দুর্গাপুর আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) রাসপ্রীত সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছে বুদবুদ থানার পুলিশ।
বিষয় : HiddenStoriesNews

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন