Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

IPS officers recalled: পুজোর ভিড় সামলাতে ফেরানো হল সাত আইপিএসকে! চোরবাগানের ঘটনা থেকেই কি নড়ল টনক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬
IPS officers recalled: পুজোর ভিড় সামলাতে ফেরানো হল সাত আইপিএসকে! চোরবাগানের ঘটনা থেকেই কি নড়ল টনক?
চোরবাগানের ঘটনায় কড়া নির্দেশিকা লালবাজারের। ছবি : এক্স

কলকাতা: কলকাতার চোরবাগানের বিপর্যয় এবং ১৯ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির পরেই কি অবশেষে টনক নড়ল নবান্ন ও লালবাজারের। উৎসবের আবহে এমন ঘটনা এড়ানো যেত কিনা ? সেই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। 

চোরবাগানের ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পরই তড়িঘড়ি রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখা থেকে কলকাতা পুলিশে ফিরিয়ে আনা হল ৯ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারকে। রূপেশ কুমার, মিরাজ খালিদ, প্রিয়ব্রত রায়, তরুণ হালদার, দীপক সরকার, সৌম্য রায়, সুমনজিৎ রায়, মাহমুদ আখতার এবং মুরলীধর শর্মাদের মতো অভিজ্ঞ কর্তাদের শহরে পুজোর ভিড় সামলানোর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

প্রশ্ন উঠছে, অতীতে যাঁদের সাফল্যের সঙ্গে কলকাতার পুজো পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল, উৎসবের আগে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কেন তাঁদের সুচিন্তিত পরামর্শ বা দায়িত্ব আগে থেকেই নেওয়া হল না? কেন এত বড় বিপর্যয় ঘটার পরেই তবে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হুশ ফিরল?

রবিবার সকালেই ভবানী ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরবাগানের অভিশপ্ত ঘটনার পর সিট (SIT) গঠন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওডা, সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

কিন্তু এই প্রশাসনিক কঠোরতার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি গাফিলতি নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জোরালো অভিযোগ, সংকীর্ণ গলির ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকা সত্ত্বেও এবং বৃষ্টির সময় পর্যাপ্ত জনস্রোত আটকাতে কোনো আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি লালবাজার।

চোরবাগানের প্য়ান্ডেলে যখন ভিড়ের চাপে এবং বৃষ্টির জেরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, তখন ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী ছিলেন না বলেই অভিযোগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার নড়েচড়ে বসে প্রতিটি থানার ওসিকে ১১ দফার একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে লালবাজার। 

নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বৃষ্টি শুরু হলেই প্য়ান্ডেলের প্রবেশপথ সাময়িক বন্ধ করে ভেতরের ভিড় দ্রুত ফাঁকা করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা নিজেদের পোস্ট ছেড়ে যাবেন না এবং ভিআইপি গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে রাখতে হবে।

শহরের পুজোগুলিকে নিরাপদ রাখতে এবং চোরবাগানের মতো মর্মান্তিক পুনরাবৃত্তি এড়াতে শেষ মুহূর্তে আইপিএস অফিসারদের মাঠে নামানো হলেও, এই বিলম্বিত বোধোদয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন রাজ্যের সব মহলেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বিষয় : #ChorbaganStampede #KolkataPolice #IPSOficers #DurgaPuja2026 #AdministrativeFailure #SuvenduAdhikari #WestBengalNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬


IPS officers recalled: পুজোর ভিড় সামলাতে ফেরানো হল সাত আইপিএসকে! চোরবাগানের ঘটনা থেকেই কি নড়ল টনক?

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: কলকাতার চোরবাগানের বিপর্যয় এবং ১৯ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির পরেই কি অবশেষে টনক নড়ল নবান্ন ও লালবাজারের। উৎসবের আবহে এমন ঘটনা এড়ানো যেত কিনা ? সেই প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। চোরবাগানের ভয়াবহ পদপিষ্টের ঘটনার পরই তড়িঘড়ি রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখা থেকে কলকাতা পুলিশে ফিরিয়ে আনা হল ৯ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারকে। রূপেশ কুমার, মিরাজ খালিদ, প্রিয়ব্রত রায়, তরুণ হালদার, দীপক সরকার, সৌম্য রায়, সুমনজিৎ রায়, মাহমুদ আখতার এবং মুরলীধর শর্মাদের মতো অভিজ্ঞ কর্তাদের শহরে পুজোর ভিড় সামলানোর দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, অতীতে যাঁদের সাফল্যের সঙ্গে কলকাতার পুজো পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল, উৎসবের আগে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কেন তাঁদের সুচিন্তিত পরামর্শ বা দায়িত্ব আগে থেকেই নেওয়া হল না? কেন এত বড় বিপর্যয় ঘটার পরেই তবে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের হুশ ফিরল?রবিবার সকালেই ভবানী ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরবাগানের অভিশপ্ত ঘটনার পর সিট (SIT) গঠন করে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওডা, সহ-সভাপতি শান্তনু দুবে এবং বেসরকারি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই কর্মীসহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু এই প্রশাসনিক কঠোরতার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশি গাফিলতি নিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জোরালো অভিযোগ, সংকীর্ণ গলির ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকা সত্ত্বেও এবং বৃষ্টির সময় পর্যাপ্ত জনস্রোত আটকাতে কোনো আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়নি লালবাজার।চোরবাগানের প্য়ান্ডেলে যখন ভিড়ের চাপে এবং বৃষ্টির জেরে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, তখন ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশকর্মী ছিলেন না বলেই অভিযোগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এবার নড়েচড়ে বসে প্রতিটি থানার ওসিকে ১১ দফার একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা পাঠিয়েছে লালবাজার। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বৃষ্টি শুরু হলেই প্য়ান্ডেলের প্রবেশপথ সাময়িক বন্ধ করে ভেতরের ভিড় দ্রুত ফাঁকা করতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা নিজেদের পোস্ট ছেড়ে যাবেন না এবং ভিআইপি গাড়ি নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে রাখতে হবে।শহরের পুজোগুলিকে নিরাপদ রাখতে এবং চোরবাগানের মতো মর্মান্তিক পুনরাবৃত্তি এড়াতে শেষ মুহূর্তে আইপিএস অফিসারদের মাঠে নামানো হলেও, এই বিলম্বিত বোধোদয় ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে এখন রাজ্যের সব মহলেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত