কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের ভয়াবহ পদপিষ্টের মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর এবার চরম সতর্কতা অবলম্বন করল কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য প্রশাসন। দুর্গাপুজার ইতিহাসে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুমিছিলের ঘটনা এর আগে দেখেনি তিলোত্তমা। সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে মণ্ডপের একাংশ ভেঙে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনায় ১৯ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসল পুজো কমিটিগুলিও। বড় ধরণের কোনো ঝুঁকি এড়াতে এবং দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আপাতত শহরের বেশ কয়েকটি নামী ও জনপ্রিয় পুজো মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ দ্বিতীয় সপ্তমী হওয়ায় ঠাকুর দেখার আনন্দ ও উদ্দীপনা তুঙ্গে থাকার কথা থাকলেও চোরবাগানের ঘটনার পর ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। প্রশাসনের কড়া নির্দেশিকা এবং নিজেদের সতর্কতার জেরে রবিবার সকালেই শহরের প্রধান আকর্ষণগুলি একে একে তাদের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশে আপাতত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে উত্তর কলকাতার অন্যতম থিম পুজোর অহংকার 'টালা প্রত্যয়'-এ। একই পথে হেঁটে বন্ধ রাখা হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার হেভিওয়েট পুজো 'চেতলা অগ্রণী' এবং 'আলিপুর সর্বজনীন'-এর মণ্ডপও। পাশাপাশি, পার্কস্ট্রিটের অ্যালেন পার্কে শিশু ও সাধারণ দর্শনার্থীদের ভিড় এড়াতে এই প্রথম পুজো করা বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডার মণ্ডপটিও আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চোরবাগানের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি ২৫ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ঘটনার পরেই কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দোষ কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং ইতিমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। রবিবার সকালেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের আজ কলকাতায় এসে হাসপাতালে আহতদের দেখার ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা রয়েছে। একের পর এক বড় পুজোর মণ্ডপ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ বছরের পুজোয় বাড়তি সতর্কতার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা মহানগরীকে।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন