কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের ভয়াবহ পদপিষ্টের মর্মান্তিক ঘটনার পরেই চরম তৎপরতা শুরু করল রাজ্য প্রশাসন ও লালবাজার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আগামী তিনদিনের জন্য জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। অন্যদিকে, এই বিপর্যয়ের দায় এড়াতে পারে না পুজো কমিটি, এই মর্মে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আয়োজকদের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে গিরিশ পার্ক থানা। রাতের পর রাত জেরার পর ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রেফতারি হয়েছে এবং পুলিশি ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে।
লালবাজারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রবিবার, ১৮ অক্টোবর থেকে আগামী মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চোরবাগান সংলগ্ন বিভিন্ন রাস্তায় এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এর মধ্যে কলেজ স্ট্রিট, কলুতলা এবং সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউর মতো অত্যন্ত ব্যস্ত এলাকাগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তিনদিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, শান্তিভঙ্গ হতে পারে এমন যেকোনো কার্যকলাপ বা লাঠি ও বিপজ্জনক অস্ত্র বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে। রবিবারের শুরুতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে ফরেনসিক সায়েন্স বিশেষজ্ঞদের যাওয়ার কথা রয়েছে, যারা সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে বিপর্যয়ের আসল কারণ খতিয়ে দেখবেন।
এদিকে, কলকাতা পুলিশ মর্গে ১৯টি মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সকাল থেকেই শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে রবিবার সকালেই হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যপাল। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে ৩ জন সিসিইউ এবং ৩ জন এইচডিইউ-তে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন, তবে একজনের অবস্থা এখনও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মণ্ডপের নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনায় ঠিক কী ধরনের গুরুতর ত্রুটি ছিল এবং কীভাবে এই বিপর্যয় এড়ানো যেত, তা জানতে ফরেনসিক রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।

রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন