নয়াদিল্লি: দিল্লির রাজপথ থেকে যন্তর মন্তর!
নজিরবিহীন সংঘাতের আগুনে জ্বলছে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা এবার চরম পরিণতির দিকে।
পুলিশের লাঠি, মাঝরাস্তায় বাস আটকানো কিংবা ভূরি ভূরি এফআইআর (FIR)। কোনও কিছুতেই পিছু হটতে নারাজ বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। বুধবার যন্তর মন্তরে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের বার্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। মাঠ ছাড়ছে না কংগ্রেস ও তার মিত্র-শক্তি।
মঙ্গলবারের আকাশবাণী ভবনের নাটকীয় আবহের পর বুধবার সকালেই আন্দোলন এক নতুন মাত্রা পায়। রাজধানীর ৯ জনপথের ‘সাগররত্ন’ রেস্তোরাঁয় বিরোধী সাংসদদের এক জরুরি মধ্যাহ্নভোজের বৈঠকে ডাকেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের পাশাপাশি আপ এবং তাৎপর্যপূর্ণভাবে বিজু জনতা দলের (BJD) প্রতিনিধিরাও সেখানে যোগ দেন। দেশের ৬৪ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী সাংসদদের সই সংবলিত এক নতুন স্মারকলিপি সিইসি-র কাছে পাঠানোর খসড়া চূড়ান্ত করা হয় ওই বৈঠকে। সেখান থেকেই বাসে চেপে আচমকা যন্তর মন্তরের দিকে রওনা হন সাংসদেরা।
কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই রাজপথে পথ আটকায় দিল্লি পুলিশ। এলাকা জুড়ে আগেভাগেই জারি করা হয়েছিল ১৬৩ ধারা (পূর্বতন ১৪৪ ধারা)। ব্যারিকেড ভেঙে সাংসদরা এগোনোর চেষ্টা করতেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
রাস্তায় বসে পড়ে, এমনকি শুয়ে পড়েও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশে ততক্ষণে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন এনএসইউআই (NSUI)। মঙ্গলবার রাতে দিল্লির আকাশবাণী ভবনে জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল পুলিশ।
সেই প্রসঙ্গে কংগ্রেস মুখপাত্র পবন খেড়ার কড়া বার্তা, ‘‘ভোটার তালিকা জালিয়াতির বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে এফআইআর হওয়া আমাদের কাছে সম্মানের পদক। জ্ঞানেশ কুমার আমাদের সঙ্গে দেখা না করে চরম ভুল করছেন, তাঁকে অনুশোচনা করতেই হবে।’’
একই সুর মল্লিকার্জুন খাড়গের গলায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘‘জ্ঞানেশ যা করছেন, তার পেছনে রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর হাত। আমাদের বিরুদ্ধে যত খুশি মামলা করা হোক, গণতন্ত্র রক্ষার এই লড়াই থামবে না।’’
রাজপথে আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়াতে দিল্লি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি দেবেন্দর যাদবের নেতৃত্বেও আলাদা বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। দিল্লি পুলিশ একের পর এক বিরোধী নেতাকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তুললেও, যন্তর মন্তর সংলগ্ন এলাকার তপ্ত মেজাজ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের এই অবরুদ্ধ অবস্থান থেকে এক চুলও সরবে না কংগ্রেস।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন