মুম্বই: ধোসায় মরা ইঁদুর পাওয়ার অভিযোগে যে রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়ে গিয়েছিল, সেই একই ঘটনায় এবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল পাশা! ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার চরম হুমকি দিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা ব্ল্যাকমেলের অভিযোগে খোদ অভিযোগকারী মহিলাকেই গ্রেফতার করল পুলিশ। তোলাবাজি ও অপরাধমূলক ভয় দেখানোর মামলায় মানসী অমিত আচার্য নামের ওই ৩৬ বছর বয়সি মহিলাকে খপ্পরে পুরেছেন তদন্তকারীরা। আর এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন বাণিজ্যনগরীর খাদ্য ও হোটেল ব্যবসায়ী মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ সেপ্টেম্বর। বোরিভালির বিখ্যাত ‘রাধাকৃষ্ণ হোটেলে’ দুই আত্মীয় ও একটি শিশুকে নিয়ে খেতে গিয়েছিলেন অভিযুক্ত মানসী। অভিযোগ ওঠে, তাঁদের অর্ডার করা মাইসুরু মশলা ধোসার ভিতর নাকি একটা মরা ইঁদুর পড়েছিল! মহিলার ভাই খাবারে কামড় বসাতেই নাকি বিষয়টি নজরে আসে এবং বমি করতে শুরু করেন তিনি। ঘটনা জানাজানি হতেই হইচই পড়ে যায় এবং পুলিশে অভিযোগ জানান মানসী। এদিকে খাবার প্লেটে মরা ইঁদুরের সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই কড়া ব্যবস্থা নেয় রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা দফতর। তারা তড়িঘড়ি গত ২৮ সেপ্টেম্বর রেস্তরাঁটির লাইসেন্স স্থগিত করে দেয়।
কিন্তু নাটকের আসল মোড় ঘোরে ঠিক এর পরেই। রেস্তরাঁর মালিক জয় কিশোর শাহ পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান, এক অজ্ঞাতপরিচয় মহিলা ফোন করে দাবি করেন যে ২৫ লক্ষ টাকা দিলে তাঁরা মামলা মিটিয়ে নেবেন এবং ভিডিও আর ছড়াবেন না। চরম দর কষাকষির পর সেই ব্ল্যাকমেলের অঙ্ক নেমে আসে ৭ লক্ষ টাকায়। বাধ্য হয়ে মালিক প্রথমে ১ লক্ষ টাকা দেন এবং বাকি ৬ লক্ষ টাকা পরে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হন।
পুলিশ এরপর অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরতে নিখুঁত এক ফাঁদ পাতেন। গত ৫ অক্টোবর বাকি ৬ লক্ষ টাকা নিতে এলে হাতেনাতে পুলিশি জালে ধরা পড়েন ওই মহিলা গ্রাহক। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে মানসী আচার্যকে গ্রেফতার করা হয়। পুরো ঘটনাটির এমন জলজ্যান্ত প্রমাণ সামনে আসার পর এখন বড় প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—আদৌ কি ধোসায় ইঁদুর পাওয়া গিয়েছিল নাকি পুরো কাণ্ডটাই ছিল পরিকল্পিত ব্ল্যাকমেলের ছক? আপাতত সেই আসল সত্য উদ্ঘাটনে সমস্ত দিক গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে মুম্বই পুলিশ।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন