Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Dum Dum Durga Puja 2026: পালাবদলের পর প্রথম পুজোয় জমজমাট দমদম, দর্শনার্থীদের বিচারে কি টেক্কা দিল প্রফুল্ল কানন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬
Dum Dum Durga Puja 2026: পালাবদলের পর প্রথম পুজোয় জমজমাট দমদম, দর্শনার্থীদের বিচারে কি টেক্কা দিল প্রফুল্ল কানন?
অষ্টমীর কলকাতায় মাতৃপ্রতিমা। নিজস্ব ছবি

দমদম: রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পালাবদলের পর এ বার প্রথম শারদোৎসবে মেতে উঠেছে উত্তর কলকাতার অন্যতম পুজো হাব দমদম ও সংলগ্ন এলাকা। প্রতি বছরের মতো এ বারও থিমের চমক, শৈল্পিক ভাবনা এবং গভীর জীবনদর্শনের লড়াইতে একে অপরকে টেক্কা দিল উত্তর ২৪ পরগনার এই নামী পুজো মণ্ডপগুলি। তবে দমদম পার্কের হেভিওয়েট পুজোভাবনাগুলির মাঝে কি এ বার দর্শনার্থীদের মন জয় করে বাজি মাত করল কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন? উৎসবের আবহে এই চর্চাই এখন তুঙ্গে।

এ বার ২৪ তম বর্ষে পদার্পণ করে কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন পশ্চিম অধিবাসী বৃন্দের পুজোয় ফুটে উঠেছে এক অনন্য ভাবনা—‘যা হাতে মনো রুমি’। ছত্তিশগড়ের ঐতিহাসিক ‘রামনামী সমাজ’-এর জীবনযাপন ও আধ্যাত্মিক দর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তাদের মণ্ডপ। এই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের শরীরকেই মন্দির জ্ঞান করেন এবং রামচরিত মানসকে পরম সত্য বলে মানেন। 

মানুষের শরীরের গঠনকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বিশাল মণ্ডপ কাঠামো। মণ্ডপের ভেতরে রাখা বিশাল আয়নাটি দর্শনার্থীদের মনে প্রশ্ন, ‘ভগবান আসলে কোথায় থাকেন?’ এমনকি থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এখানে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধ করছেন না, বরং সিংহের পিঠে শান্ত সৌম্য রূপ ধারণ করে উপবিষ্ট। জীবনদর্শনের এই অভাবনীয় উপস্থাপনই প্রফুল্ল কানন পশ্চিমকে এ বার সমসাময়িক বাকি পুজোগুলির থেকে খানিকটা এগিয়ে রাখছে বলে মত দর্শকদের।

তবে টেক্কা দেওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে নেই দমদম পার্কের প্রাচীন ও নামী ক্লাবেগুলিও। ৬০ তম বর্ষে পা দিয়ে দমদম পার্ক যুবক বৃন্দ উপস্থাপন করেছে ‘কালান্তর’। সময়ের স্রোতে পৃথিবীর চেহারা বদলালেও বেঁচে থাকার চিরন্তন লড়াই যে আজও বদলায়নি, সেই মহাকাব্যিক গল্পই বলছে এই মণ্ডপ। 

মণ্ডপের মূল আকর্ষণ কষ্টিপাথরের আদলে তৈরি এক অপূর্ব দেবী প্রতিমা। অন্যদিকে, ২৬ তম বর্ষে দমদম পার্ক ভারত চক্রের থিম ‘বঙ্গের রথকথা’। মহিষাদল রাজবাড়ি, মাহেশ কিংবা বর্ধমান রাজবাড়ির রথের ইতিহাস এবং রথকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া প্রাচীন যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এখানে। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ছোট রথের সারি, আর তার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে নির্মিত হয়েছে দেবীর সুদৃশ্য প্রতিমা।

অন্য দিকে ৪১ বছরে পা দিয়ে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ তৈরি করেছে বাণিজ্য ও প্রাচীন সিল্ক রুটের ইতিহাস নিয়ে থিম, ‘বেনিয়ারা’। চাঁদ সওদাগরের মহাকাব্যিক সপ্তডিঙা থেকে শুরু করে পরিব্রাজক হিউয়েন সাংয়ের ঐতিহাসিক নৌকা, বাণিজ্যের সমস্ত চালচিত্র ফুটে উঠেছে মণ্ডপজুড়ে। সব মিলিয়ে, রাজনীতি ও সমাজবদলের আবহে এ বার দমদম অঞ্চলের প্রতিটি পুজোই শিল্পকলায় নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। তবে বার্তা এবং দর্শনের গভীরতায় কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন যেভাবে দর্শনার্থীদের টানছে, তাতে তারা যে অন্য সব পুজোকে জোর টক্কর দিচ্ছে, তা মানছেন পুজোপ্রেমীরাও।

বিষয় : #DumDumPuja2026 #KestopurPrafullaKanan #DumDumPark #DurgaPujaTheme #KolkataPuja #NorthKolkataPuja #ViralNews #HiddenStoriesNews

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


Dum Dum Durga Puja 2026: পালাবদলের পর প্রথম পুজোয় জমজমাট দমদম, দর্শনার্থীদের বিচারে কি টেক্কা দিল প্রফুল্ল কানন?

প্রকাশের তারিখ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
দমদম: রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে পালাবদলের পর এ বার প্রথম শারদোৎসবে মেতে উঠেছে উত্তর কলকাতার অন্যতম পুজো হাব দমদম ও সংলগ্ন এলাকা। প্রতি বছরের মতো এ বারও থিমের চমক, শৈল্পিক ভাবনা এবং গভীর জীবনদর্শনের লড়াইতে একে অপরকে টেক্কা দিল উত্তর ২৪ পরগনার এই নামী পুজো মণ্ডপগুলি। তবে দমদম পার্কের হেভিওয়েট পুজোভাবনাগুলির মাঝে কি এ বার দর্শনার্থীদের মন জয় করে বাজি মাত করল কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন? উৎসবের আবহে এই চর্চাই এখন তুঙ্গে।এ বার ২৪ তম বর্ষে পদার্পণ করে কেষ্টপুর প্রফুল্ল কানন পশ্চিম অধিবাসী বৃন্দের পুজোয় ফুটে উঠেছে এক অনন্য ভাবনা—‘যা হাতে মনো রুমি’। ছত্তিশগড়ের ঐতিহাসিক ‘রামনামী সমাজ’-এর জীবনযাপন ও আধ্যাত্মিক দর্শনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তাদের মণ্ডপ। এই সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের শরীরকেই মন্দির জ্ঞান করেন এবং রামচরিত মানসকে পরম সত্য বলে মানেন। মানুষের শরীরের গঠনকে ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে বিশাল মণ্ডপ কাঠামো। মণ্ডপের ভেতরে রাখা বিশাল আয়নাটি দর্শনার্থীদের মনে প্রশ্ন, ‘ভগবান আসলে কোথায় থাকেন?’ এমনকি থিমের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এখানে দেবী দুর্গা মহিষাসুর বধ করছেন না, বরং সিংহের পিঠে শান্ত সৌম্য রূপ ধারণ করে উপবিষ্ট। জীবনদর্শনের এই অভাবনীয় উপস্থাপনই প্রফুল্ল কানন পশ্চিমকে এ বার সমসাময়িক বাকি পুজোগুলির থেকে খানিকটা এগিয়ে রাখছে বলে মত দর্শকদের।তবে টেক্কা দেওয়ার দৌড়ে পিছিয়ে নেই দমদম পার্কের প্রাচীন ও নামী ক্লাবেগুলিও। ৬০ তম বর্ষে পা দিয়ে দমদম পার্ক যুবক বৃন্দ উপস্থাপন করেছে ‘কালান্তর’। সময়ের স্রোতে পৃথিবীর চেহারা বদলালেও বেঁচে থাকার চিরন্তন লড়াই যে আজও বদলায়নি, সেই মহাকাব্যিক গল্পই বলছে এই মণ্ডপ। মণ্ডপের মূল আকর্ষণ কষ্টিপাথরের আদলে তৈরি এক অপূর্ব দেবী প্রতিমা। অন্যদিকে, ২৬ তম বর্ষে দমদম পার্ক ভারত চক্রের থিম ‘বঙ্গের রথকথা’। মহিষাদল রাজবাড়ি, মাহেশ কিংবা বর্ধমান রাজবাড়ির রথের ইতিহাস এবং রথকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া প্রাচীন যুদ্ধের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এখানে। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে ছোট রথের সারি, আর তার সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে নির্মিত হয়েছে দেবীর সুদৃশ্য প্রতিমা।অন্য দিকে ৪১ বছরে পা দিয়ে দমদম পার্ক তরুণ সংঘ তৈরি করেছে বাণিজ্য ও প্রাচীন সিল্ক রুটের ইতিহাস নিয়ে থিম, ‘বেনিয়ারা’। চাঁদ সওদাগরের মহাকাব্যিক সপ্তডিঙা থেকে শুরু করে পরিব্রাজক হিউয়েন সাংয়ের ঐতিহাসিক নৌকা, বাণিজ্যের সমস্ত চালচিত্র ফুটে উঠেছে মণ্ডপজুড়ে। সব মিলিয়ে, রাজনীতি ও সমাজবদলের আবহে এ বার দমদম অঞ্চলের প্রতিটি পুজোই শিল্পকলায় নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছে। তবে বার্তা এবং দর্শনের গভীরতায় কেষ্টপুরের প্রফুল্ল কানন যেভাবে দর্শনার্থীদের টানছে, তাতে তারা যে অন্য সব পুজোকে জোর টক্কর দিচ্ছে, তা মানছেন পুজোপ্রেমীরাও।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত