শান্তিপুর: দশহাতে ধারাল অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই, নেই অসুরের রক্তচক্ষু কিংবা বিনাশের রুদ্ররূপ। শারদোৎসবের পরিচিত ও চেনা আবহকে সম্পূর্ণ অতিক্রম করে শান্তিপুরের এক বসতবাড়িতে মা দুর্গা ধরা দিলেন এক পরম স্নিগ্ধ ও শান্ত রূপে। মহাদেবকে সঙ্গে নিয়ে এবার নদীয়ার শান্তিপুরে পূজিত হচ্ছেন দেবী ‘শিবদুর্গা’। নদীয়া তথা গোটা শান্তিপুর শহরের ইতিহাসেই এমন ব্যতিক্রমী ও বিরল দেবী রূপ কার্যত নজিরবিহীন।
সাধারণত দুর্গোৎসবে আমরা যে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেবীর আবাহন দেখে অভ্যস্ত, এখানে দেবীর সেই রুদ্রমূর্তি পুরোপুরি অনুপস্থিত। তিনি দ্বিভুজা, বরাভয়দায়িনী ও স্নেহের করুণাধারা নিয়ে মহাদেবের সঙ্গে একাসনে আসীন।
তবে কেবল প্রতিমার অভিনব ভাবনাই নয়, এই পুজোর অন্যতম বিস্ময় লুকিয়ে রয়েছে তার নির্মাণশৈলীতে। প্রায় ৮ ফুট উচ্চতার এই বিশালাকার ও দৃষ্টিনন্দন দেবী প্রতিমা তৈরিতে কোনও পেশাদার কুমোরটুলি বা মৃৎশিল্পীর সাহায্য নেওয়া হয়নি। শান্তিপুরের বাসিন্দা তরুণ অতনু বিশ্বাস নিজের হাতে, একান্ত নিষ্ঠা ও দীর্ঘ পরিশ্রমের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন এই অপরূপ শিল্পকর্ম।
বাড়ির ছেলে অতনুর হাতে গড়া এই শিবদুর্গা মূর্তিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কৌতূহলের পারদ চড়েছে শান্তিপুরে। একচালা বা আধুনিক থিম পুজোর জাঁকজমককে ছাপিয়ে নিজের গৃহপ্রাঙ্গণে এই ধরণের ভক্তি ও শিল্পের অনন্য কোলাজ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
দর্শনার্থীদের কথায়, অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, মহাদেবের উপস্থিতি ও দেবীর এই শান্ত-স্নিগ্ধ রূপ যেন ভক্ত হৃদয়ে গভীর আত্মিক প্রশান্তি এনে দিচ্ছে।
বাঙালির দুর্গোৎসব মানেই নতুন নতুন সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ। তবে ঘরোয়া আঙিনায় অতনু বিশ্বাসের পরম যত্নে গড়ে তোলা এই ৮ ফুটের শিবোদুর্গা প্রতিমা যে নদীয়া জেলার এবারের পুজো পরিক্রমায় এক অনন্য ও চর্চিত অধ্যায় হয়ে রইল, তা বলা অপেক্ষা রাখে না।

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন