Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Elon Musk vs Modi Govt: স্টারলিঙ্ক আটকে ভারতীয় অলিগার্কদের চক্রান্ত? মাস্কের মারাত্মক অভিযোগে মোদী সরকারের কড়া জবাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
Elon Musk vs Modi Govt: স্টারলিঙ্ক আটকে ভারতীয় অলিগার্কদের চক্রান্ত? মাস্কের মারাত্মক অভিযোগে মোদী সরকারের কড়া জবাব
মাস্কের স্টারলিঙ্ক কি আদৌও বরাত পাবে ভারতে ? ছবি : সংগৃহীত

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: ভারতের স্যাটেলাইট টেলিকম বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ আটকে দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিদুনিয়ার ধনকুবের ইলোন মাস্কের বিস্ফোরক দাবিতে নতুন করে তোলপাড় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ব্যবসা ক্ষেত্র। 

ভারত সরকারের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে মাস্কের এই মন্তব্যের জেরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার উপগ্রহ ইন্টারনেটের হাত ধরে মাস্ক-মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণে বড়সড় সংঘাতের মেঘ জমল? মাস্কের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের টেলিকম নীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। নিয়ম সবার জন্যই সমান।

ঘটনার সূত্রপাত এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার)। এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে মাস্ক লেখেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু নির্দিষ্ট অলিগার্ক (একচেটিয়া ব্যবসায়ী) আমাদের পরিষেবা আটকে দিচ্ছে, যাতে ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর তাদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় থাকে। তারা কারা তা অনুমান করা খুব কঠিন নয়… এটা ভারতের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ!” 

ভারতের ১১ হাজারেরও বেশি গ্রামে আজও ৪জি পরিষেবা পৌঁছায়নি, এমন এক পরিসংখ্যানে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েই ভারতের টেলিকম জায়ান্টদের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন স্পেস-এক্সের কর্ণধার।

মাস্কের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে আলোড়ন তৈরি হতে সময় নেয়নি। কিন্তু স্পেস-এক্সের অভ্যন্তরীণ সুর ছিল খানিক ভিন্ন। ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থিত হয়ে স্পেস-এক্সের স্টারলিঙ্ক বিজনেস অপারেশনের সহ-সভাপতি লরেন ড্রেয়ার জানান, ভারতের বাজারে পরিষেবা দিতে তাঁরা প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই ২০টি গেটওয়ে সাইট এবং বিপুল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশেই সুরক্ষিত রাখা সংক্রান্ত যাবতীয় নিরাপত্তা শর্তও তারা মেনে নিতে প্রস্তুত।

মাস্কের অভিযোগের জবাবে মোদী সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রক একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারত সরকারের নীতি সবার জন্য সমান। তিন সংস্থাকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় 'জিএমপিসিএস' (GMPCS) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। মাস্কের স্টারলিঙ্ক, ভারতীর ই-ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন্স। 

আমাজন লিও-ও সেই তালিকায় আসার দৌড়ে রয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, লাইসেন্স মিললেও সুরক্ষাজনিত ছাড়পত্র (Security Clearance) এবং তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে না। সমস্ত সংস্থাই আপাতত একই নিয়মকানুনের স্তরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই কাউকে সুবিধা দেওয়া বা কারও ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর।

গত চার বছর ধরে ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ খাতে পা রাখার চেষ্টা করছেন মাস্ক। শিল্পমহলের একটি বড় অংশের মতে, ভারতে টেলিকম সেক্টরে রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের যে জোরদার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, মূলত তাদের দিকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আমেরিকান কোটিপতি। 

কিন্তু যেখানে মোদী সরকার মেক ইন ইন্ডিয়া ও স্বচ্ছ টেলিকম নীতিতে অবিচল, সেখানে দেশীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো বিধি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বৃহৎ সংস্থাকে ছাড় দিতে নারাজ দিল্লি। ফলে স্টারলিংকের ভারতের বাজারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইলোন মাস্ক বনাম মোদী প্রশাসনের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত এখন এক নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

বিষয় : #ElonMusk #StarlinkIndia #ModiGovt #SpaceX #StarlinkLaunch #IndiaTech #HiddenStoriesNews #BreakingNews #SatcomIndia

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


Elon Musk vs Modi Govt: স্টারলিঙ্ক আটকে ভারতীয় অলিগার্কদের চক্রান্ত? মাস্কের মারাত্মক অভিযোগে মোদী সরকারের কড়া জবাব

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি: ভারতের স্যাটেলাইট টেলিকম বাজারে স্টারলিঙ্কের প্রবেশ আটকে দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিদুনিয়ার ধনকুবের ইলোন মাস্কের বিস্ফোরক দাবিতে নতুন করে তোলপাড় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও ব্যবসা ক্ষেত্র। ভারত সরকারের সাম্প্রতিক নীতির সঙ্গে মাস্কের এই মন্তব্যের জেরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তবে কি এবার উপগ্রহ ইন্টারনেটের হাত ধরে মাস্ক-মোদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণে বড়সড় সংঘাতের মেঘ জমল? মাস্কের অভিযোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের টেলিকম নীতি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন। নিয়ম সবার জন্যই সমান।ঘটনার সূত্রপাত এক্স প্ল্যাটফর্মে (সাবেক টুইটার)। এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে মাস্ক লেখেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিছু নির্দিষ্ট অলিগার্ক (একচেটিয়া ব্যবসায়ী) আমাদের পরিষেবা আটকে দিচ্ছে, যাতে ভারতের সাধারণ মানুষের ওপর তাদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় থাকে। তারা কারা তা অনুমান করা খুব কঠিন নয়… এটা ভারতের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ!” ভারতের ১১ হাজারেরও বেশি গ্রামে আজও ৪জি পরিষেবা পৌঁছায়নি, এমন এক পরিসংখ্যানে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েই ভারতের টেলিকম জায়ান্টদের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন স্পেস-এক্সের কর্ণধার।মাস্কের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়ে আলোড়ন তৈরি হতে সময় নেয়নি। কিন্তু স্পেস-এক্সের অভ্যন্তরীণ সুর ছিল খানিক ভিন্ন। ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থিত হয়ে স্পেস-এক্সের স্টারলিঙ্ক বিজনেস অপারেশনের সহ-সভাপতি লরেন ড্রেয়ার জানান, ভারতের বাজারে পরিষেবা দিতে তাঁরা প্রস্তুত। ইতিমধ্যেই ২০টি গেটওয়ে সাইট এবং বিপুল পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশেই সুরক্ষিত রাখা সংক্রান্ত যাবতীয় নিরাপত্তা শর্তও তারা মেনে নিতে প্রস্তুত।মাস্কের অভিযোগের জবাবে মোদী সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রক একটি কড়া বিবৃতি জারি করেছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বক্তব্য, ভারত সরকারের নীতি সবার জন্য সমান। তিন সংস্থাকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় 'জিএমপিসিএস' (GMPCS) লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। মাস্কের স্টারলিঙ্ক, ভারতীর ই-ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন্স। আমাজন লিও-ও সেই তালিকায় আসার দৌড়ে রয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, লাইসেন্স মিললেও সুরক্ষাজনিত ছাড়পত্র (Security Clearance) এবং তরঙ্গ বা স্পেকট্রাম বরাদ্দ না হওয়া পর্যন্ত কাউকেই বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে না। সমস্ত সংস্থাই আপাতত একই নিয়মকানুনের স্তরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাই কাউকে সুবিধা দেওয়া বা কারও ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর।গত চার বছর ধরে ভারতের উপগ্রহ যোগাযোগ খাতে পা রাখার চেষ্টা করছেন মাস্ক। শিল্পমহলের একটি বড় অংশের মতে, ভারতে টেলিকম সেক্টরে রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের যে জোরদার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, মূলত তাদের দিকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন আমেরিকান কোটিপতি। কিন্তু যেখানে মোদী সরকার মেক ইন ইন্ডিয়া ও স্বচ্ছ টেলিকম নীতিতে অবিচল, সেখানে দেশীয় নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো বিধি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বৃহৎ সংস্থাকে ছাড় দিতে নারাজ দিল্লি। ফলে স্টারলিংকের ভারতের বাজারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইলোন মাস্ক বনাম মোদী প্রশাসনের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত এখন এক নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত