কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন দুনিয়া নাকি বাস্তব?
কোথায় ভরসা রাখবে বর্তমান যুবসমাজ? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর স্পষ্ট করেই কলকাতা ছেড়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। তাঁর সাফ কথা, ‘রিলস’ নয়, যুব প্রজন্মকে ফিরতে হবে ‘রিয়ালে’। আর বিজেপি সভাপতির সেই বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যুব সমাজের নাড়ি বুঝতে এবং তরুণ প্রজন্মের মন জয় করতে এবার সরাসরি ‘জেন জি’ (Gen Z)-দের সঙ্গে মুখোমুখি বসতে চলেছেন তিনি।
সোমবার কৈখালিতে আয়োজিত ‘যুব ভারত সংলাপ’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে যুবদের উদ্দেশে এক গুচ্ছ বার্তা দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন। সম্প্রতি ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং ককরোচ জনতা পার্টির একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় সোশাল মিডিয়ায় ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ‘রিল’ ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এর ফলে বিভ্রান্ত হয় যুব সমাজের একাংশ। এই প্রেক্ষাপটে সতর্ক করে নীতীন নবীন স্পষ্ট জানান, দেশের তরুণ প্রজন্ম রিল ও রিয়েলের ফারাক বোঝেন। তাঁরা জানেন কোনটা সত্যি আর কোনটা সাজানো। যুবকদের কেবল মোবাইলের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে না থেকে ভারতের হারানো সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ক্রীড়া ও সঙ্গীতে নিজেদের নিয়োজিত করার পরামর্শ দেন তিনি। সেই সঙ্গেই রাজ্যের নতুন শিক্ষা নীতিতে স্পোর্টস, আর্ট ও কালচারকে বাড়তি নম্বরসহ অন্তর্ভুক্ত করারও অনুরোধ জানান মুখ্যমন্ত্রীকে।
বিজেপি সভাপতি কলকাতা ছাড়তেই সেই বার্তার উপর ভরসা রেখে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসংযোগের ধাঁচেই এবার বাংলার তরুণ প্রজন্মের মনের কথা শুনতে তাঁদের সঙ্গে ‘চা চক্রে’ বসার বড় ঘোষণা করলেন তিনি। ‘যুব মিট’-এর মাধ্যমে অন্তত তিন ঘণ্টা সময় দেবেন যুবসমাজকে, শুনবেন তাঁদের যাবতীয় প্রশ্ন ও অভাব-অভিযোগ।
মঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “আপনাদের সবার সঙ্গে একটি চায়ের মিটিং করব। তিন ঘণ্টা যত প্রশ্ন আছে করবেন। সরকার আপনাদের জন্যই কাজ করছে। এডুকেশন, এমপ্লয়মেন্ট, স্পোর্টস, স্কিল ট্রেনিং থেকে শুরু করে যুবদের জন্য মোদিজির যা গ্যারান্টি আছে, তা একশো শতাংশ নয়, দু’শো শতাংশ আমরা পূরণ করব।” এই বিশেষ কর্মসূচির জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁয়ের কাছ থেকে তরুণদের তালিকা তলব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় রাজনীতির তোলপাড়ের আবহে নীতীন নবীনের কালচারাল ও রিয়েল ফ্যাক্ট নির্ভর পরামর্শ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘যুব সংলাপ’ রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে চলেছে। মোহন ভাগবত এবং মোদীর দেখানো পথেই এখন তরুণ মন জয়ে মরিয়া বাংলার নতুন সরকার।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন