মাছ খেতে গিয়ে গলায় কাঁটা আটকে যাওয়া নতুন কোনও ঘটনা নয়। কাঁটা আটকে গেলে হঠাৎ গলায় খচখচ, ঢোঁক গিলতে গিয়ে ব্যথা কিংবা একটা অস্বস্তিকর অনুভূতি চলতেই থাকে। আর তখনই বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে নানা পরামর্শ আসতে শুরু করে। কেউ বলেন কলা খেতে, কেউ এক মুঠো ভাত গিলে ফেলতে বলেন। তবে কাঁটা আটকে গেলেই যে কোনও টোটকা চোখ বন্ধ করে মেনে নেওয়া ঠিক নয়। তাই প্রথমে শান্ত থাকুন। গলায় আঙুল, চামচ, কাঠি বা অন্য কোনও জিনিস ঢুকিয়ে কাঁটা খোঁজার চেষ্টা করবেন না। বরং এতে ভিতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে।
গলায় মাছের কাঁটা আটকে গেলে ৭টি প্রচলিত উপায়
১. কলা
নরম কলা ছোট কাঁটা সরাতে সাহায্য করতে পারে। ছোট এক টুকরো কলা ধীরে ধীরে গিলে দেখতে পারেন। তবে কাঁটা যদি গলায় গেঁথে থাকে, জোর করে বড় টুকরো কলা গিলে সেটিকে নামানোর চেষ্টা করবেন না।
২. নরম ভাত
ভাতের ছোট নরম দলা গিলে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করেন অনেকেই। ধারণা হল, ভাতের সঙ্গে কাঁটাটিও নীচের দিকে চলে যেতে পারে। কিন্তু একবার চেষ্টা করেও অস্বস্তি না কমলে বার বার ভাত গিলে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
৩. সেদ্ধ আলু বা নরম পাউরুটি
কলা বা ভাতের মতো নরম সেদ্ধ আলু কিংবা নরম পাউরুটিও অনেকে খেয়ে থাকেন। খাবারটি গলার ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় কাঁটাকে সরিয়ে দিতে পারে। তবে কাঁটা গেঁথে থাকলে এই পদ্ধতি উল্টে ক্ষতি করতে পারে।
৪. ভিনিগার মেশানো জল
মাছের কাঁটা নরম করার জন্য ভিনিগার খাওয়ার কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু অতিরিক্ত ভিনিগার গলায় জ্বালাভাবও তৈরি করতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত সমাধান হিসেবে ভরসা না করাই ভাল।
৫. অলিভ অয়েল
অল্প অলিভ অয়েল গলার ভিতরের অংশকে কিছুটা পিচ্ছিল করতে পারে। সেই কারণে ছোট কাঁটা নিজে থেকে সরে যেতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে কাঁটা যদি গলার দেওয়ালে আটকে থাকে, শুধু তেল খেয়ে সেটি বেরিয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
৬. ঘন স্মুদি বা মিল্কশেক
ঘন পানীয় গলার মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় কাঁটাকে নীচের দিকে সরিয়ে দিতে পারে, এমন ধারণা থেকেই স্মুদি বা মিল্কশেক ব্যবহারের কথা বলা হয়। কিন্তু জোর করে বেশি পরিমাণ পানীয় খেয়ে কাঁটা নামানোর চেষ্টা করবেন না।
৭. কুসুম গরম নুন-জল
কাঁটা গলার উপরের দিকে হালকা ভাবে আটকে থাকলে কুসুম গরম নুন-জল দিয়ে গার্গেল করলে অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে। তবে গলায় গেঁথে থাকা কাঁটা শুধু গার্গেল করলেই বেরিয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কখন আর ঘরোয়া টোটকা নয়?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কাঁটা আটকে যাওয়ার পর পরিস্থিতি খারাপ হলে ঘরোয়া উপায় নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করাই ভাল। ব্যথা ক্রমশ বাড়লে, গলা থেকে রক্ত বেরোলে, লালা পর্যন্ত গিলতে সমস্যা হলে কিংবা ঘাড় বা বুকে ব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন