ঝাড়গ্রাম ও শিলিগুড়ি: ছুটির মেজাজে হুল্লোড় করতে গিয়ে রাজ্যের দুই প্রান্তে ঘটে গেল পৃথক দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নদী ও ব্যারেজের তীব্র জলস্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হলেন মোট তিন জন ছাত্র ও যুবক। প্রথম ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রামের শালগড়া জঙ্গল সংলগ্ন ডুলুং নদীতে এবং দ্বিতীয় বিপর্যয় ঘটেছে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকার মহানন্দা ব্যারেজে। আনন্দের মুহূর্তগুলো এক লহমায় নিমজ্জিত হলো চরম শোক ও উদ্বেগে। খবর পেয়ে দুই জায়গাতেই উদ্ধারকাজে নেমেছে পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স এবং ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের দল।
ঝাড়গ্রাম থানার অন্তর্গত বীরা গ্রামের বাসিন্দা প্রদীপ সাউয়ের ২১ বছরের ছেলে সায়ন সাউ রবিবার কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে শালগড়া জঙ্গল এলাকায় পিকনিক করতে গিয়েছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরে পিকনিকের খাওয়া-দাওয়া শেষ হওয়ার পর সায়ন একাই সংলগ্ন ডুলুং নদীর পাড়ের দিকে যান।
বেশ খানিকটা সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় চিন্তিত বন্ধুরা নদীর পাড়ে খোঁজ চালাতে শুরু করেন। সেখানে সায়নের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গেলেও যুবকের কোনো হদিশ মেলেনি।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নদীর পাড়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে তিনি তীব্র স্রোতে তলিয়ে গিয়েছেন। খবর পেয়ে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে সায়নের সঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।
অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে হোস্টেলের গণ্ডি পেরিয়ে ছুটির দিনে মহানন্দা ব্যারেজে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়েছেন দুই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ছাত্র। উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাঁদের তৃতীয় বন্ধুকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ফুলবাড়ি এলাকার একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত ওই তিন বন্ধু। পরিবারের অনুমতি নিয়েই তারা রবিবার বিকেলে মহানন্দা ব্যারেজ এলাকায় ঘুরতে যায়। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা ব্যারেজের জলের তীব্র স্রোত দেখে তাঁদের জলে নামতে নিষেধ ও সতর্ক করলেও, সেই পরামর্শ উপেক্ষা করেই তারা জলে নেমে পড়ে।
হঠাৎই এক ছাত্র জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে শুরু করলে তাকে বাঁচাতে অন্য বন্ধুটি ঝাঁপ দেয়, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে দু’জনেই খরস্রোতা মহানন্দায় তলিয়ে যায়। উপস্থিত জেলেদের তৎপরতায় কোনোমতে বাঁচানো সম্ভব হয় তৃতীয় ছাত্রকে।
বেঁচে ফেরা ছাত্রটি জানায়, নিখোঁজ দুই বন্ধুর মধ্যে একজনের বাড়ি মালদায় এবং অন্য জন বাংলাদেশের বাসিন্দা। খবর পেয়েই ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ এবং সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল নামানো হয়েছে। ছেলের নিখোঁজের খবর পেয়ে রাতেই মালদা থেকে দিশেহারা হয়ে শিলিগুড়িতে ছুটে এসেছেন এক ছাত্রের মা। দীর্ঘদিন ধরে হোস্টেলে থাকা ছেলে এর আগেও নিরাপদে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বেরিয়েছে, ফলে এমন ভয়াবহ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না স্বজনেরা।
ঝাড়গ্রামের ডুলুং নদী থেকে শিলিগুড়ির মহানন্দা ব্যারেজ—উভয় স্থানেই নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি চালনা হলেও শেষ পাওয়া খবরে কারও সন্ধান মেলা সম্ভব হয়নি। অসাবধানতা ও জলের টানে এক মুহূর্তের জেরে এই জোড়া বিপর্যয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও প্রশাসনিক মহলে।
বিষয় : HiddenStoriesNews

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন