Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

উত্তাল গঙ্গায় ভেঙে গেল বাঁধ, প্লাবিত একের পর এক গ্রাম!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উত্তাল গঙ্গায় ভেঙে গেল বাঁধ, প্লাবিত একের পর এক গ্রাম!
বন্যা বিপর্যস্ত ভূতনীতে পুজো দিচ্ছেন এক মহিলা। নিজস্ব ছবি

মালদা: বর্ষার শেষে গঙ্গার রূপ যে এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তা বোধহয় ঘূর্ণাক্ষরেও টের পাননি মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি এলাকার বাসিন্দারা। গঙ্গার জলস্তর হু-হু করে বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যেই চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদী। 

এর মাঝেই কেশরপুরের রক্ষাকবচ বাঁধ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় সোজা ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে জল। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত শতাধিক গ্রাম এখন পুরোপুরি প্লাবিত। দুর্লভ টোলা, ভুবন টোলা, কেদার টোলা এবং মানিকনগরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে ঘরে ঘরে থইথই করছে গঙ্গার ঘোলা জল। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই মুহূর্তে পুরোপুরি জলবন্দি হয়ে পড়েছেন।

পরিস্থিতি কতটা আশঙ্কাজনক তা স্পষ্ট ভূতনি থানার দিকে তাকালেই। থানার অন্দরে জল ঢুকে পড়ায় অচল হয়ে পড়েছে কাজকর্ম। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে থানার পুলিশকর্মীদের তড়িঘড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জল যেভাবে প্রতি মুহূর্তে বেড়ে চলেছে, তাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিপর্যয় সামাল দিতে ইতিমধ্যেই নবান্নের নির্দেশে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ভূতনি এলাকায় মোট সাতটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এ ছাড়াও জল বৃদ্ধি পাওয়ায় উঁচু বাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪০০টি পরিবারের হাতে শুকনো খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেওয়া হচ্ছে। 

তবে চরম বিপদের মধ্যেও অনেক পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে ত্রাণশিবিরে আসতে রাজী হচ্ছেন না। তাঁদের গবাদি পশু এবং পৈতৃক সম্পত্তি ছেড়ে আসতে নারাজ তাঁরা। ফলে জলস্তরের আরও বৃদ্ধি ঘটলে তাঁদের কীভাবে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকারী দল।

পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের তদারকি করতে সোজা মানিকচকে পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের তিন প্রতিমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুও রয়েছেন। মানিকচক থেকেই ত্রাণবণ্টন ও উদ্ধারকাজের রিয়েল-টাইম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এলাকায় ঘুরছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌর চন্দ্র মণ্ডল।

অন্যদিকে, ভূতনিতে জলযন্ত্রণার এই ভয়াবহ রূপকে সামনে রেখে ওই এলাকাকে অবিলম্বে 'বন্যা কবলিত অঞ্চল' হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। প্লাবনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার গ্রামবাসী, আর নবান্ন থেকে এই পরিস্থিতির উপর রাখা হচ্ছে লাগাতার নজর।

হিডেন স্টোরিজ নিউজ

বিষয় : HiddenStoriesNews #MaldaFlood #GangaWaterLevel #BhutniMalda #ManikchakFlood #WestBengalNews #HiddenStoriesBangla #BengalFloods #JuelMurmu #BreakingNewsBengal #KolkataNews #FloodRelief #ViralNewsBengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


উত্তাল গঙ্গায় ভেঙে গেল বাঁধ, প্লাবিত একের পর এক গ্রাম!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
মালদা: বর্ষার শেষে গঙ্গার রূপ যে এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তা বোধহয় ঘূর্ণাক্ষরেও টের পাননি মালদার মানিকচক ব্লকের ভূতনি এলাকার বাসিন্দারা। গঙ্গার জলস্তর হু-হু করে বাড়তে থাকায় ইতিমধ্যেই চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে নদী। এর মাঝেই কেশরপুরের রক্ষাকবচ বাঁধ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় সোজা ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে জল। তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত শতাধিক গ্রাম এখন পুরোপুরি প্লাবিত। দুর্লভ টোলা, ভুবন টোলা, কেদার টোলা এবং মানিকনগরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলিতে ঘরে ঘরে থইথই করছে গঙ্গার ঘোলা জল। জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এই মুহূর্তে পুরোপুরি জলবন্দি হয়ে পড়েছেন।পরিস্থিতি কতটা আশঙ্কাজনক তা স্পষ্ট ভূতনি থানার দিকে তাকালেই। থানার অন্দরে জল ঢুকে পড়ায় অচল হয়ে পড়েছে কাজকর্ম। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবং জরুরি পরিষেবা চালু রাখতে থানার পুলিশকর্মীদের তড়িঘড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জল যেভাবে প্রতি মুহূর্তে বেড়ে চলেছে, তাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার তীব্র হাহাকার দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।বিপর্যয় সামাল দিতে ইতিমধ্যেই নবান্নের নির্দেশে জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। ভূতনি এলাকায় মোট সাতটি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। এ ছাড়াও জল বৃদ্ধি পাওয়ায় উঁচু বাঁধের ওপর পলিথিন টাঙিয়ে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ৪০০টি পরিবারের হাতে শুকনো খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে চরম বিপদের মধ্যেও অনেক পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে ত্রাণশিবিরে আসতে রাজী হচ্ছেন না। তাঁদের গবাদি পশু এবং পৈতৃক সম্পত্তি ছেড়ে আসতে নারাজ তাঁরা। ফলে জলস্তরের আরও বৃদ্ধি ঘটলে তাঁদের কীভাবে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে আনা যাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সিভিল ডিফেন্স ও উদ্ধারকারী দল।পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এবং ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের তদারকি করতে সোজা মানিকচকে পৌঁছে গিয়েছেন রাজ্যের তিন প্রতিমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মুও রয়েছেন। মানিকচক থেকেই ত্রাণবণ্টন ও উদ্ধারকাজের রিয়েল-টাইম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত এলাকায় ঘুরছেন মানিকচকের বিধায়ক গৌর চন্দ্র মণ্ডল।অন্যদিকে, ভূতনিতে জলযন্ত্রণার এই ভয়াবহ রূপকে সামনে রেখে ওই এলাকাকে অবিলম্বে 'বন্যা কবলিত অঞ্চল' হিসেবে সরকারিভাবে ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক। প্লাবনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার গ্রামবাসী, আর নবান্ন থেকে এই পরিস্থিতির উপর রাখা হচ্ছে লাগাতার নজর।হিডেন স্টোরিজ নিউজ

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত