নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক মেগা টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগেই যদি লজিস্টিকাল বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়, তবে অ্যাথলেটদের মানসিক প্রস্তুতিতেই ধাক্কা লাগে। জাপানের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে খেলতে গিয়ে ঠিক এমনই নজিরবিহীন বিড়ম্বনা ও চরম হয়রানির মুখে পড়ল ৩৫ সদস্যের ভারতীয় শুটিং দল।
আগে থেকে হোটেল বুকিং থাকা সত্ত্বেও ঘর না পাওয়া থেকে শুরু করে ডোপ টেস্টের দোহাই দিয়ে ঘর কেড়ে নেওয়া, একাধিক বিশৃঙ্খলায় জেরবার এশিয়ান গেমসে ভারতের অন্যতম সেরা পদকপ্রত্যাশী দলটি। পুরো ঘটনাকে ‘হাস্যকর’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা। তবে এই চরম অব্যবস্থার মাঝেও সহ-খেলোয়াড়দের সব ক্ষোভ ভুলে খেলায় নজর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন জোড়া অলিম্পিক পদকজয়ী মানু ভাকর।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে, যখন ভারতীয় শুটিং দল জাপানের নাগোয়ায় পৌঁছায়। ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (আইওএ) দেওয়া তথ্য ও আয়োজকদের বুকিং তালিকা অনুযায়ী, পুরো দলের জন্য 'গ্র্যান্ড টিয়ারা' হোটেলে ৪০টি ঘর নির্ধারিত ছিল।
কিন্তু বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে শুটিং দল যখন নির্দিষ্ট হোটেলে পৌঁছায়, তখন তাঁদের জানানো হয় মাত্র ৭টি ঘর ফাঁকা রয়েছে! বাকি ৩৩টি ঘর শহর থেকে দূরে ‘তোয়োকো ইন’ নামে অন্য একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর চরম ক্লান্ত অবস্থাতেও শুটারদের ব্যাগপত্র গুটিয়ে অন্য হোটেলে ছুটতে হয়।
অব্যবস্থার এখানেই শেষ নয়। পরে আরও কয়েক জন শুটারের সঙ্গে নাগোয়ায় এসে পৌঁছান অলিম্পিয়ান রাহি সার্নোবাত। কোচেরা যখন রাহি ও অন্যান্য শুটারদের জন্য গ্র্যান্ড টিয়ারা হোটেল থেকে ঘরের চাবি সংগ্রহ করতে যান, তখন আয়োজকদের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, রাহির জন্য সংরক্ষিত ঘরটি আর পাওয়া যাবে না। কারণ সেটিকে ডোপ কন্ট্রোল রুম বা ডোপ পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে!
আইওএ এবং গেমস আয়োজকদের অফিসিয়াল নথিতে বুকিং কনফার্ম থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে একটি নির্দিষ্ট অ্যাথলেটের রুম ডোপ টেস্টের জন্য নিয়ে নেওয়া হলো, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি শুক্রবার রাতে নাগোয়ায় নেমে না জেনে ভুল শাখায় চলে যাওয়া সত্ত্বেও রাহিকে সেখানে চাবি দিয়ে দেওয়া হয়। অর্থাৎ কোথায় তাঁদের ঘর আর কোথায় তাঁরা উঠছেন, তার কোনও সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আয়োজকদের হাতে ছিল না।
শুধু আবাসনই নয়, অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছানোর যাতায়াত এবং পরিবহন ব্যবস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েক জন ভারতীয় অ্যাথলেট। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে এই ধরনের প্রশাসনিক গাফিলতি প্রতিযোগীদের প্রস্তুত হওয়ার মনোবলে প্রভাব ফেলছে।
তবে গেমসের ভিলেজ ও হোটেল ঘিরে এই চরম অশান্তির মাঝেই ইতিবাচক বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছেন ভারতের তারকা শুটার মানু ভাকর। আইওএ-র শেয়ার করা একটি ভিডিও বার্তায় ভারতীয় অ্যাথলেটদের উদ্দেশ্যে মানু বলেন, “আমাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং সহ-খেলোয়াড়দের কাছ থেকেও বেশ কিছু অব্যবস্থার কথা শুনছি। তবে সমস্যা যাই থাক না কেন, এটা আমাদের জীবনে হয়তো একবারই পাওয়া সুযোগ। তাই অভিযোগ করে নিজের শক্তি নষ্ট না করে, এই মহতী অভিজ্ঞতার প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করে খেলায় মন দেওয়াই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”
এশিয়ান গেমস শুরু হতে না হতেই জাপানের আয়োজকদের এমন ছিনিমিনি খেলায় আইওএ এবং ক্রীড়া মন্ত্রক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এখন দেখার, মাঠের বাইরের এই সমস্ত বাধা ও বিড়ম্বনা পেরিয়ে ভারতীয় শুটিং ব্রিগেড নিশানা সঠিক রেখে দেশকে পদক এনে দিতে পারে কি না।

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন