Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

দেওয়ালে ফাটল নিয়েই রমরমিয়ে কারবার! ৫ সেকেন্ডে ধূলিসাৎ খাস দিল্লির মেগা পিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেওয়ালে ফাটল নিয়েই রমরমিয়ে কারবার! ৫ সেকেন্ডে ধূলিসাৎ খাস দিল্লির মেগা পিজি
দিল্লির ধ্বংসস্তূপে এখনও চলছে তল্লাশি। ছবি-সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির অভিজাত এলাকায় মর্মান্তিক বিপর্যয়। ছাত্রদের ঠাসা মেসবাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মুহূর্তে মৃত্যু হল অন্তত ছ’জনের। রবিবার দুপুরে চাণক্যপুরীর মোতি বাগ এলাকায় চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি ছ’তলা বহুতল। হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মাত্র চার থেকে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে বিশালাকার বাড়িটি হুড়মুড় করে ভেঙে মাটিতে মিশে যায়। উল্টো দিকের এক দোকানি বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে কোনওরকমে ছুটে প্রাণ বাঁচান। বাড়িটি ভেঙে পড়ার তীব্র অভিঘাতে রাস্তায় পার্ক করা একাধিক গাড়ি নিমেষেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দমকলের আটটি ইঞ্জিন এবং জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ ও পুরসভা। দোতলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমতি থাকলেও লালসার বশে বেআইনিভাবে তার উপর আরও চারটি তলা খাড়া করা হয়েছিল। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এই বাড়িটির মালিক হরিরাম বনসল বছর কুড়ি আগে গুরুগ্রাম চলে যান। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকার কারণে এলাকায় ছাত্রদের থাকার বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে কয়েক মাস আগেই বিপজ্জনক বাড়িটি তড়িঘড়ি সংস্কার করে পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে চালানো শুরু হয়। এমনকি চলছিল বেসমেন্ট খোঁড়ার কাজও। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘরের বদলে শয্যা পিছু আদায় করা হত বিপুল অঙ্কের টাকা—যার পরিমাণ একতলায় প্রতি বেডে ১৮ হাজার, এবং উপরের তলাগুলিতে ১৬ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।


অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই বিপজ্জনক এই বাড়িটির দেওয়ালে চওড়া ফাটল বাড়ছিল, অথচ কোনও ভ্রূক্ষেপ ছিল না কর্তৃপক্ষের। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয়, জরুরি অবস্থায় প্রাণ বাঁচিয়ে বেরোনোর জন্য কোনও বিকল্প দরজাও রাখা হয়নি। লোভের ফাঁদে পড়ে অকালে ঝরে গেল একাধিক তাজা প্রাণ। ঘটনার পর গাফিলতি ও অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে কড়া এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি পুরসভার তরফে ওই চত্বরে চারতলার বেশি উঁচু সমস্ত বেআইনি বহুতল ‘সিল’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বিপজ্জনক অবৈধ ব্যবসার রমরমা চলছে বহু বছর ধরে, দুর্ঘটনা ঘটার পরই কেন টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের?


হিডেন স্টোরিজ নিউজ

#HiddenStoriesNews #DelhiBuildingCollapse #ChanakyapuriTragedy #PGMessDisaster #DelhiPolice #MotiBaghNews #BreakingNewsDelhi #IllegalConstruction

বিষয় : delhi building collapse chanakyapuri tragedy illegal construction

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দেওয়ালে ফাটল নিয়েই রমরমিয়ে কারবার! ৫ সেকেন্ডে ধূলিসাৎ খাস দিল্লির মেগা পিজি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: রাজধানী দিল্লির অভিজাত এলাকায় মর্মান্তিক বিপর্যয়। ছাত্রদের ঠাসা মেসবাড়ি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে মুহূর্তে মৃত্যু হল অন্তত ছ’জনের। রবিবার দুপুরে চাণক্যপুরীর মোতি বাগ এলাকায় চোখের পলকে ধূলিসাৎ হয়ে গেল একটি ছ’তলা বহুতল। হাড়হিম করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মাত্র চার থেকে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে বিশালাকার বাড়িটি হুড়মুড় করে ভেঙে মাটিতে মিশে যায়। উল্টো দিকের এক দোকানি বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে কোনওরকমে ছুটে প্রাণ বাঁচান। বাড়িটি ভেঙে পড়ার তীব্র অভিঘাতে রাস্তায় পার্ক করা একাধিক গাড়ি নিমেষেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দমকলের আটটি ইঞ্জিন এবং জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।তদন্তে নেমে চোখ কপালে ওঠার মতো তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ ও পুরসভা। দোতলা পর্যন্ত নির্মাণের অনুমতি থাকলেও লালসার বশে বেআইনিভাবে তার উপর আরও চারটি তলা খাড়া করা হয়েছিল। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো এই বাড়িটির মালিক হরিরাম বনসল বছর কুড়ি আগে গুরুগ্রাম চলে যান। কিন্তু দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে থাকার কারণে এলাকায় ছাত্রদের থাকার বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে কয়েক মাস আগেই বিপজ্জনক বাড়িটি তড়িঘড়ি সংস্কার করে পেয়িং গেস্ট (পিজি) হিসেবে চালানো শুরু হয়। এমনকি চলছিল বেসমেন্ট খোঁড়ার কাজও। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ঘরের বদলে শয্যা পিছু আদায় করা হত বিপুল অঙ্কের টাকা—যার পরিমাণ একতলায় প্রতি বেডে ১৮ হাজার, এবং উপরের তলাগুলিতে ১৬ থেকে ১৪ হাজার টাকা পর্যন্ত।অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই বিপজ্জনক এই বাড়িটির দেওয়ালে চওড়া ফাটল বাড়ছিল, অথচ কোনও ভ্রূক্ষেপ ছিল না কর্তৃপক্ষের। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয়, জরুরি অবস্থায় প্রাণ বাঁচিয়ে বেরোনোর জন্য কোনও বিকল্প দরজাও রাখা হয়নি। লোভের ফাঁদে পড়ে অকালে ঝরে গেল একাধিক তাজা প্রাণ। ঘটনার পর গাফিলতি ও অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারায় বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে কড়া এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি পুরসভার তরফে ওই চত্বরে চারতলার বেশি উঁচু সমস্ত বেআইনি বহুতল ‘সিল’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ক্ষোভ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন বিপজ্জনক অবৈধ ব্যবসার রমরমা চলছে বহু বছর ধরে, দুর্ঘটনা ঘটার পরই কেন টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের?হিডেন স্টোরিজ নিউজ#HiddenStoriesNews #DelhiBuildingCollapse #ChanakyapuriTragedy #PGMessDisaster #DelhiPolice #MotiBaghNews #BreakingNewsDelhi #IllegalConstruction

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত