গুয়াহাটি: আইএফএ শিল্ড জয়ের আত্মবিশ্বাস, ট্রফির টাটকা সাফল্য আর ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর মোমেন্টাম!
কোনও কিছুই কাজে এল না গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে। উল্টে জঘন্য গোলনষ্ট এবং মাঝমাঠের সমন্বয়হীনতার খেসারত দিয়ে নতুন মরশুমের আইএসএল (ISL 2026) অভিযান শুরু করতেই বড় ধাক্কা খেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ১-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হল বাগান ফুটবলারদের। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচের নায়ক জিতিন।
অথচ ম্যাচের শুরু থেকে যদি বল নিয়ন্ত্রণের পরিসংখ্যান দেখা যায়, তবে স্পষ্ট এগিয়ে ছিল সবুজ-মেরুনই। কিন্তু ফুটবলে আসল কথা হল গোল। যা করতে ব্যর্থ হলেন লি আরউইন থেকে শুরু করে বিকল্প হিসেবে নামা সুহেল আহমেদ ভাটরা।
প্রথমার্ধের মাত্র ৮ মিনিটের মাথায়ই লি আরউইনের জোরালো শট নর্থইস্টের বারপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ঠিক ওখানেই হয়তো ম্যাচের স্ক্রিপ্ট লেখা হয়ে গিয়েছিল। কারণ, সেই দুর্ভাগ্যের ধাক্কা কাটিয়ে আর পুরো ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি মোহনবাগান।
আক্রমণভাগে জেমি ম্যাকলারেনের না থাকাটা প্রতি পদে তাড়িয়ে বেড়াল দলকে। বক্সের ভেতরে পৌঁছলেও আক্রমণ শেষ করার মতো একজন নিখুঁত ফিনিশারের অভাব প্রকাট হয়ে উঠলো বারবার।
মরশুমের শুরুতেই ডুরান্ড কাপ এবং আইএফএ শিল্ড খেলে ফেলার পর মনে করা হয়েছিল দল গুছিয়ে এসেছে। কিন্তু এ দিন পাহাড়ে দেখা গেল একদম অন্য ছবি। গোটা ম্যাচ জুড়ে চলল নির্বিষ পাসিং, মিসপাস আর শারীরিক ফিটনেসের স্পষ্ট অভাব।
ডার্বির হিরো সমীর জেলকোভিচ থেকে শুরু করে মাঝমাঠে অপুইয়া বা অভিষেক টেকচাম, প্রত্যেকেই ছিলেন চরম বেরঙিন। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে এবং দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে আবারও গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন স্কটিশ স্ট্রাইকার লি আরউইন। নর্থইস্ট গোলকিপার গুরুমিত সিং যেমন কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন, তেমনই ফাঁকা গোলেও বল ঠেলতে ব্যর্থ হন মেরিনার্সরা।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিলেন বদলি সুহেল আহমেদ ভাট। লিস্টন কোলাসোর চমৎকার ক্রস থেকে বল পেয়ে একদম ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও সুহেলের শট গিয়ে ধাক্কা মারে বারপোস্টে। আর লাগাতার এই গোলনষ্টের খেসারত যে দিতে হবে, তা তো স্বাভাবিক নিয়মেই অবধারিত ছিল!
ম্যাচের ৯০ মিনিট পর্যন্ত যাকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেই মরক্কোর তারকা আলাদিন আজারাই ম্যাচের ইনজুরি টাইমে জ্বালিয়ে দিলেন তাঁর জাদুপ্রদীপ। ৯২ মিনিটের মাথায় আলাদিনের দূরপাল্লার জোরালো শট মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল কাইথ শরীর ছুড়ে কোনোমতে পরাস্ত করলেও ক্লিয়ার করতে পারেননি। সেই ফিরতি বল অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সবুজ-মেরুনের জালে জড়িয়ে দেন জিতিন এমএস। আলবার্তো নোগুয়েরাদের রক্ষণ তখন সম্পূর্ণ কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
উৎসবে সেজে ওঠা তিলোত্তমায় দেবীপক্ষের আলো ফুটলেও, গুয়াহাটির রাত নেমে এল বাগান শিবিরে। রক্ষণের সেই একই রোগ আর জেমি ম্যাকলারেনের না থাকা,মরশুমের শুরুতেই বাগানের গ্রিক কোচকে দাঁড় করিয়ে দিল অজস্র প্রশ্নের মুখে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন