নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদনের মাত্র ৫০ মিটার দূরে আটকে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড। আর সেই ব্যারিকেডের ওপর চড়েই হাতে বিশাল জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে হুঙ্কার ছাড়লেন রাহুল গান্ধী।
সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে বিরোধীদের ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ মিছিল ঘিরে মঙ্গল সকালে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। লক্ষ্য একটাই, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকা সংশোধনের মেগা মহড়া 'স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন' (SIR)-এ চরম কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ্যে ‘চিটিং কমিশন’ বলে দাগিয়ে দিল কংগ্রেস।
পুলিশি বাসে সাময়িক আটক হলেও পিছু হটতে নারাজ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কমিশন বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিলে সাময়িক অবস্থান উঠতে পারে, তবে তা দুটি নির্দিষ্ট শর্তে। আর সেই জোড়া শর্তের প্রথমটাই হল, শুধু প্রতিনিধি দল নয়, বিরোধী শিবিরের ৩০০ জন সাংসদকেই একসঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে জ্ঞানেশ কুমারের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন, তবে কি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চেয়ারচ্যুত করতে এবার একেবারে অলআউট লড়াইয়ের পথেই হাঁটছেন রাহুল গান্ধী? জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে ওঠা এই তীব্র জল্পনার জ্বালানি যুগিয়েছে কংগ্রেসের অন্দর থেকে ফাঁস হওয়া আগামী দেড় মাসের সবিস্তার আন্দোলনের নীলনকশা। এ যেন কেবল একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার লড়াই নয়, বরং দিল্লি দরবার কাঁপিয়ে দেওয়ার সুপরিকল্পিত মহড়া।
ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টির মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ শরিক এই মিছিলে দূরত্ব বজায় রাখলেও, রাহুলের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস ও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি এই ইস্যুটিকে ফেব্রুয়ারির পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতে মরিয়া। এমনকি শীতকালীন অধিবেশন শুরু হতেই সংসদের ভেতরে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনার তোড়জোড়ও পাকা করে ফেলেছে হাত শিবির।
নির্বাচন কমিশনকে লাগাতার চেপে ধরতে আন্দোলনকে স্রেফ রাজধানী বা সংসদের অন্দরে আটকে না রেখে সোজা বুথ স্তরে নামিয়ে আনার অলআউট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে:
১০ থেকে ২০ অক্টোবর: ব্লক স্তরে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ অভিযান। বাইক-সাইকেল র্যালি, জ্ঞানেশ কুমারের পুতুল দাহ এবং লিফলেট বিলি।
২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর: বুথ স্তরে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ চৌপাল বা জনসভা।
১ নভেম্বর: দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের মেগা সমাবেশ।
২৫-২৬ নভেম্বর: দিল্লির চারপাশের সীমানা থেকে ছয়টি পৃথক 'চলো দিল্লি' পদযাত্রা। সংবিধন দিবস অর্থাৎ ২৬ নভেম্বর সেই মিছিল আছড়ে পড়বে রাজধানীতে।
আইনি লড়াইয়েও কমিশনকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা জারি রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাসে চলা মামলায় ইতিমধ্যে ইসিআই ও জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হলে কমিশনারের পদক্ষেপে স্থগিতাদেশ আসতে পারে। যদিও খবরের কাগজের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এখনই চরম পদক্ষেপ নেয়নি শীর্ষ আদালত। তবে রাজপথ থেকে আদালত, সর্বাত্মক ঘেরাওয়ের যে ছবি ফুটে উঠছে, তাতে স্পষ্ট যে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ পদাধিকারীকে পদচ্যুত করার এই লড়াইয়ে আর এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি নন রাহুল গান্ধী।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন