আলিপুরদুয়ার: উৎসবের মরশুমে যখন উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ বিপরীত ও নিস্তব্ধ ছবি দেখা গেল বক্সা টাইগার রিজার্ভে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাঘিনী ছাড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে জঙ্গল পুনরায় খুলে দেওয়া হলেও বক্সার বুকিং প্রায় শূন্য। খাঁ খাঁ করছে স্থানীয় হোমস্টে ও রিসোর্টগুলি, আর একের পর এক সফর বাতিল করে টাকা ফেরত নিচ্ছেন পর্যটকরা। এই আকস্মিক মন্দার পেছনে যেমন রয়েছে বনদপ্তরের নতুন কড়াকড়ি, তেমনই রয়েছে বনবস্তিবাসীদের দীর্ঘস্থায়ী অসন্তোষ ও আন্দোলন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন বিহার থেকে একটি তিন বছর বয়সী বাঘিনী এনে বক্সার জঙ্গলে এনক্লোজারে ছাড়া হয়। সেই কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সায় সমস্ত রকম পর্যটন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে ১০ অক্টোবর জঙ্গল পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার কথা থাকলেও, বনাধিকার আইন ২০০৬ লাগু করা ও বনদপ্তরের কড়া নিয়মের প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন রাজাভাতখাওয়া গেটের পাশে থাকা ১৮টি বনবস্তির বাসিন্দারা। ১০ অক্টোবর বিএফ রোড অবরোধের কারণে পর্যটকরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। যদিও পরবর্তীতে পথ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, তবুও জঙ্গলের ভেতরে লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
এই আন্দোলনের জেরে চরম সমস্যার মুখে পড়েছে স্থানীয় সাফারি ব্যবসা। বিটিআর-এর তরফে জানানো হয়েছে যে, বাঘিনীকে ধাতস্থ হতে সময় দিতে চুনিয়া ওয়াচ টাওয়ারের মতো জনপ্রিয় একাধিক সাফারি রুট আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে মহাকাল সহ কয়েকটি রুট খোলা রয়েছে বলে দাবি বনাধিকারিকদের। অন্যদিকে সাফারি চালকদের অভিযোগ, যে রুটগুলি খোলা বলা হচ্ছে, সেগুলির রাস্তা তৈরির কাজই সম্পূর্ণ হয়নি। এর ওপর সাফারির খরচ দ্বিগুণ হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পর্যটকরা। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই সাফারি গাড়ি বন্ধ রেখে আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন চালকরা। আলিপুরদুয়ার ডিস্ট্রিক্ট ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একের পর এক বুকিং বাতিল হওয়ায় উৎসবের মরশুমেও বক্সার পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন