কলকাতা: বছর ঘুরল না। তার আগে ফের কলকাতা মেট্রোর ট্র্যাকে নেমে অফিস যাত্রীদের থেকে তাঁদের মূল্যবাণ সময়টা কেড়ে নিল এক কুকুর। শুক্রবার সাতসকালে শোভাবাজার মেট্রো স্টেশনে এই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন অফিস যাত্রী থেকে স্কুল পড়ুয়ারা। সেইসঙ্গে মেট্রোর দিকে উঠল চরম গাফিলতি এবং উদাসীনতার অভিযোগ।
মেট্রোর ট্র্যাকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা পাতালপথে নতুন কিছু নয়। কিন্তু দুর্গাপুজোর মুখে শহরের ব্যস্ত সকালে এক অন্য চরম বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের সাক্ষী থাকলেন মেট্রোযাত্রীরা। আত্মঘাতী হতে নয়, নিরাপত্তার সমস্ত ঘেরাটোপ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সটান শোভাবাজার স্টেশনের থার্ড লাইনে নেমে পড়ল এক চারপেয়ে! আর তাতেই তছনছ হয়ে গেল সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের ব্যস্ত মেট্রো পরিষেবা।
মেট্রো সূত্রের খবর, শুক্রবার সকাল ৭টা ৩৮ মিনিটে দক্ষিণেশ্বর থেকে ছেড়ে আসা কবি সুভাষগামী মেট্রোটি শ্যামবাজার স্টেশনে পৌঁছতেই আচমকা থমকে যায়। সুড়ঙ্গের অন্ধকারে বেশ কিছুক্ষণ রেক আটকে থাকায় তীব্র আতঙ্কে পড়েন যাত্রীরা। উৎসবের মরশুমে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ততক্ষণে প্ল্যাটফর্মে প্ল্যাটফর্মে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হতে শুরু করেছে। কিছুক্ষণ পরেই পাতালপথের মাইকে ঘোষণা করা হয়, শোভাবাজার স্টেশনের ট্র্যাকে একটি পথকুকুর নেমে পড়েছে!
বিপদ এড়াতে তড়িঘড়ি লাইনের থার্ড রেলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। শুরু হয় কুকুরটিকে উদ্ধারের প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় ও কসরতের পর শেষমেশ সারমেয়টিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলে, মিনিট দশেকের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক করা হয়। কিন্তু এই ক্ষণিকের স্তব্ধতাই শহরের লাইফলাইনের যাত্রী-সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বাজেট এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কড়া নিরাপত্তার দাবি করে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ব্যাগ স্ক্যান, মেটাল ডিটেক্টর পেরিয়ে প্ল্যাটফর্মে নামতে হয় সাধারণ মানুষকে। কড়া নজরদারির জন্য সর্বক্ষণ কর্তব্যরত থাকেন সুরক্ষাকর্মীরা। তা সত্ত্বেও নিরাপত্তার এই দুর্ভেদ্য প্রাচীর গলিয়ে কী ভাবে একটি কুকুর সুড়ঙ্গে ঢুকলো, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন নিত্যযাত্রীরা।
যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, মেট্রোর বহু কর্মীই ডিউটির সময়ে মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা মারেন। তাঁদের সেই চরম উদাসীনতার মাশুলই প্রতিদিন গুণতে হচ্ছে আমজনতাকে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনাই প্রথম নয়। গত ২০২৫ সালে কালীপুজোর সময়েও বাজির শব্দে ভয় পেয়ে সটান মেট্রোর কামরায় চেপে বসেছিল এক সারমেয়। ঠিক এক বছরের মাথায় ফের সেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করল, পুজোর ব্যস্ততার মুখেও শিক্ষা নেয়নি মেট্রো কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত মেট্রোর তরফে সরকারিভাবে কোনও বক্তব্য মেলেনি।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন