হাওড়া: মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে যখন চারদিকে আলোর উৎসবের আমেজ, তখনই হাওড়ায় ঘনিয়ে এল ঘোর অন্ধকার! শনিবার সকালে হাওড়ার চ্যাটার্জিহাট এলাকার নতুন রাস্তা চত্বরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় একটি পুরো তিনতলা বাড়ি এবং সংলগ্ন চারটি দোকান। ঘটনার সময় বাড়িতে থাকা পাঁচ সদস্য অলৌকিক ও প্রাণপণ চেষ্টায় উদ্ধার পেলেও, শেখ নাজির হোসেন নামের এক প্রৌঢ় গুরুতর অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার ভোরে আচমকাই ওই তিনতলা বাড়ির নিচের তলা থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। নিচের তলায় থাকা একটি রাবারের গোডাউন থেকেই প্রথম আগুন ছড়ায় বলে প্রাথমিক অনুমান। দেখতে দেখতে সেই আগুন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে এবং দ্রুত ওপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের ৩টি ইঞ্জিন। পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করায় পরবর্তীতে আরও একটি ইঞ্জিন আনা হয়।
দমকলকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান স্থানীয় যুবকরাও। ভয়াবহ সেই আগুনের মধ্য থেকেই উদ্ধার করা হয় শেখ নাজির হোসেনকে। তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী দেবব্রত চৌধুরীর কথায়, ভোরে হুট করেই ওই বাড়িতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখি। বাড়ির বাসিন্দারা অল্পের জন্য প্রাণ বাঁচিয়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, নয়তো উৎসবের দিনে বহু তাজা প্রাণ চলে যেত।
দীর্ঘ দুই ঘণ্টার কঠোর প্রচেষ্টার পর অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন দমকলকর্মীরা। তবে ততক্ষণে গোটা বাড়ি এবং ৪টি দোকান পুরোটাই ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনা প্রকাশ করা হলেও, রাবার কারখানাটিতে কোনো অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বলে জানিয়েছে দমকল বাহিনী। সুরক্ষাবিধি অমান্য করায় কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বিষয় : Fire Accident howrah fire mahalaya news

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন