Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Dhantala Case: সংশোধনাগারেও হল না পাপের প্রায়শ্চিত্ত; জামিনে মুক্ত হয়েই গোপালনগরে ভাইঝিকে ‘ধর্ষণ’, আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬
Dhantala Case: সংশোধনাগারেও হল না পাপের প্রায়শ্চিত্ত; জামিনে মুক্ত হয়েই গোপালনগরে ভাইঝিকে ‘ধর্ষণ’, আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ
প্রতীকী ছবি

বনগাঁ: ১৬ বছরের সুদীর্ঘ কারাবাস, রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করা এক বিভীষিকাময় অপরাধের শাস্তি— কোনো কিছুই তার অপরাধী মানসিকতাকে বদলাতে পারেনি। ধানতলা গণধর্ষণ কাণ্ডের সাজা খেটে সংশোধনাগার থেকে বেরোনোর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের নজিরবিহীন অভিযোগ উঠল কমলেশ বালার বিরুদ্ধে। আর এবার শিকার নিজেরই আপন খুড়তুতো দাদার ১৪ বছরের মেয়ে! তবে আইনের হাত থেকে রেহাই মেলেনি তার। বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক অভিযুক্ত কমলেশকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন, যাতে পাপের সাজা কাটানোর পর আর কোনোদিন সমাজের আলো দেখতে না পায় সে।

রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত ২০০৩ সালের নদিয়ার ধানতলা কাণ্ড। সে বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আইশমালিতে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে দুটি বাস আটকে মহিলাদের ওপর যে পাশবিক অত্যাচার ও লুটপাট চালানো হয়েছিল, তা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি কাছে থাকা সত্ত্বেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে আগুন জ্বলেছিল রাজ্যজুড়ে। সেই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা কমলেশ বালা দীর্ঘ ১৬ বছর কারাদণ্ড ভোগ করে। কিন্তু দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও সংশোধিত হওয়া তো দূরস্ত, জামিনে মুক্ত হওয়ার পরেই তার ভেতরের পশুটি জেগে ওঠে ফের।


গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেল থেকে ছাড়া পেয়েই নিজের বাড়িতে ফেরে কমলেশ। একদিন নাবালিকার মা যখন তাকে বাড়িতে একা রেখে পুকুরে জামাকাপড় কাচতে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানী কাকা কমলেশ ঘরে ঢুকে ১৪ বছরের নাবালিকা ভাইঝির ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নাবালিকাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোক বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রায় ১৫ দিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটাতে থাকে মেয়েটি।

ঘটনার পরপরই গোপালনগর থানার পুলিশ কমলেশকে গ্রেফতার করে। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ঘটনার মাত্র এক বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক রাজীব সাহা অভিযুক্ত কমলেশকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেন। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাস স্পষ্ট জানান, বিচারক এমন সাজা দিয়েছেন যাতে অভিযুক্ত আর বাকি জীবন কোনোভাবেই মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে না পারে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তের আইনজীবী।

বিষয় : crime news bongaon court law and order dhantala news

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


Dhantala Case: সংশোধনাগারেও হল না পাপের প্রায়শ্চিত্ত; জামিনে মুক্ত হয়েই গোপালনগরে ভাইঝিকে ‘ধর্ষণ’, আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
বনগাঁ: ১৬ বছরের সুদীর্ঘ কারাবাস, রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করা এক বিভীষিকাময় অপরাধের শাস্তি— কোনো কিছুই তার অপরাধী মানসিকতাকে বদলাতে পারেনি। ধানতলা গণধর্ষণ কাণ্ডের সাজা খেটে সংশোধনাগার থেকে বেরোনোর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের নজিরবিহীন অভিযোগ উঠল কমলেশ বালার বিরুদ্ধে। আর এবার শিকার নিজেরই আপন খুড়তুতো দাদার ১৪ বছরের মেয়ে! তবে আইনের হাত থেকে রেহাই মেলেনি তার। বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক অভিযুক্ত কমলেশকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিলেন, যাতে পাপের সাজা কাটানোর পর আর কোনোদিন সমাজের আলো দেখতে না পায় সে।রাজ্য রাজনীতির ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত ২০০৩ সালের নদিয়ার ধানতলা কাণ্ড। সে বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি আইশমালিতে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে দুটি বাস আটকে মহিলাদের ওপর যে পাশবিক অত্যাচার ও লুটপাট চালানো হয়েছিল, তা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি কাছে থাকা সত্ত্বেও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে আগুন জ্বলেছিল রাজ্যজুড়ে। সেই ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা কমলেশ বালা দীর্ঘ ১৬ বছর কারাদণ্ড ভোগ করে। কিন্তু দীর্ঘ কারাবাস সত্ত্বেও সংশোধিত হওয়া তো দূরস্ত, জামিনে মুক্ত হওয়ার পরেই তার ভেতরের পশুটি জেগে ওঠে ফের।গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেল থেকে ছাড়া পেয়েই নিজের বাড়িতে ফেরে কমলেশ। একদিন নাবালিকার মা যখন তাকে বাড়িতে একা রেখে পুকুরে জামাকাপড় কাচতে গিয়েছিলেন, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুযোগসন্ধানী কাকা কমলেশ ঘরে ঢুকে ১৪ বছরের নাবালিকা ভাইঝির ওপর অমানুষিক অত্যাচার চালায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় নাবালিকাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোক বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রায় ১৫ দিন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়ি ফিরলেও গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে দিন কাটাতে থাকে মেয়েটি।ঘটনার পরপরই গোপালনগর থানার পুলিশ কমলেশকে গ্রেফতার করে। বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন মোট ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ঘটনার মাত্র এক বছরের মধ্যে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে বনগাঁ মহকুমা আদালতের বিচারক রাজীব সাহা অভিযুক্ত কমলেশকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেন। সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাস স্পষ্ট জানান, বিচারক এমন সাজা দিয়েছেন যাতে অভিযুক্ত আর বাকি জীবন কোনোভাবেই মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে না পারে। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন অভিযুক্তের আইনজীবী।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত