সল্টলেক: বাংলায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার উৎসবের মরশুমেও লাগতে চলেছে আমূল পরিবর্তনের হাওয়া। তৃণমূল আমলের সেই অতি পরিচিত ছবি, রাজনৈতিক নেতাদের ফিতে কাটা আর মণ্ডপে মণ্ডপে প্রভাবশালী মন্ত্রীদের দাপট। এবার দুর্গাপুজো তথা সামগ্রিক উৎসবের মরশুম থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল শাসক দল বিজেপি। বাংলায় উৎসবকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার।
আগামীকাল, সোমবার রাজ্যজুড়ে গণেশপুজো। তার ঠিক আগের দিনই উৎসবের মঞ্চ থেকে রাজনীতিকে শতহস্ত দূরে রাখার পক্ষে সওয়াল করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পুজো বা উৎসবের সূচনায় রাজনৈতিক নেতাদের প্রাধান্য না দিয়ে স্থান দেওয়া হোক সমাজের গুণীজন এবং স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বদের। রাজ্য সভাপতির এই সময়োপযোগী রাজনৈতিক অবস্থানকে রবিবার একশো শতাংশ সমর্থন জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
রবিবার সকালে নিউ টাউনের ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও রাজনৈতিক নেতাদের পুজোয় যাচ্ছেন না এবং নেতাদের পরিচালিত পুজো এড়িয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দিলীপবাবু বলেন, "আমি তো কোনও নেতাদের পুজোতে যাচ্ছি না। রাজ্য সভাপতির বক্তব্য একেবারেই সঠিক। পুজোকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখাই আমাদের লক্ষ্য।"
উৎসবের ফিতে কাটতে রাজনৈতিক নেতাদের বিকল্প হিসেবে কাদের সামনের সারিতে আনা উচিত, তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখাও এদিন বাতলে দিয়েছেন রাজ্য সরকারের এই দাপুটে মন্ত্রী। দিলীপ ঘোষের মতে, "যাঁরা পদ্মভূষণ বা পদ্মবিভূষণ সম্মান পেয়েছেন, সেইসব বিশিষ্ট মানুষদের দিয়ে পুজোর সূচনা করানো উচিত। এমনকি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে সম্মানিত হয়েছেন কিন্তু কোনও দলের অন্ধ দাসত্ব করেননি, এমন নিরপেক্ষ গুণীজনদেরও পুজোয় ডাকা যেতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন মঠ-মিশনের সাধুসন্ত, দেশের গর্ব ক্রীড়াবিদ এবং গ্রামেগঞ্জে নিঃশব্দে সমাজসেবা করে চলা সাধারণ ভালো মানুষদের লাইমলাইটে আনা উচিত। তাঁরাই সমাজে আসল উদাহরণ তৈরি করবেন।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিগত তৃণমূল জমানায় ক্লাবের পুজো মানেই ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কিংবা শাসক দলের হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীদের উপস্থিতির প্রতিযোগিতা। নতুন বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর সেই ধারা ভাঙতে চাইছে। বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পর, তার সর্বজনীন ও সামাজিক রূপ বজায় রাখতে রাজনীতিকে মণ্ডপের বাইরে রাখার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। সোমবারের গণেশপুজো দিয়েই রাজ্যে উৎসবের মরশুমে ফিতে কাটানোর ক্ষেত্রে এই ‘গুণীজন মডেল’ কার্যকর হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হিডেন স্টোরিজ নিউজ
বিষয় : HiddenStoriesNews

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন