স্কুলে যাওয়ার বয়সটা শেখার, বন্ধুত্বের, মাঠে খেলে বেড়ানোর। অথচ সেই স্কুলেই সহপাঠীর হাতেই আক্রান্ত হতে হচ্ছে পড়ুয়াকে। কোথায় তৈরি হচ্ছে এই হিংসার বীজ? সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনায় সেই প্রশ্ন উঠে এসেছে। বুধবার দক্ষিণ কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে নবম শ্রেণির এক পড়ুয়া সহপাঠীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হয়েছে। জানা গিয়েছে, বই নিয়ে বিবাদের জেরে এই ঘটনার সূত্রপাত। আহত ছাত্রের ঘাড় ও হাতে গভীর ক্ষত হয় এবং অস্ত্রোপচারও করতে হয়েছে।
তবে এটাই প্রথম ঘটনা নয়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে হুগলির চাঁপদানিতে সহপাঠীর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় ১৫ বছরের অভিনব জালানের মৃত্যু হয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি ছিল, ঝামেলার সময় সহপাঠীর ঘুষিতে বুকে আঘাত পায় সে। একই বছরের সেপ্টেম্বরে ১৭ বছরের ছাত্র মনোজিৎ যাদবকে দক্ষিণেশ্বর মেট্রো স্টেশনে তাঁরই সহপাঠী ছুরি মেরে খুন করে। পুলিশ জানিয়েছিল, দুই ছাত্রের মধ্যে বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়।
মনোবিদদের একাংশের মতে, এর পিছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম হতে পারে খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কমে যাওয়া। চার দেওয়ালের মধ্যে পড়াশোনা, ক্লাস, পরীক্ষা, মোবাইল ও নানা ধরনের ডিজিটাল বিনোদনের মধ্যে বেড়ে ওঠার ফলে রাগ, উত্তেজনা বা অস্থিরতা প্রকাশের জায়গা কমে যেতে পারে। তবে শুধু মাঠের অভাব নয়, শিশুরা প্রতিদিন যে ধরনের কনটেন্ট দেখছে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। সিনেমা, সোশ্যাল মিডিয়ার রিল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ভিডিওগেমে হিংসাত্মক দৃশ্যের উপস্থিতি তাঁদের মনে প্রভাব ফেলে।
এই জায়গাতেই অভিভাবকদের ভূমিকাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সন্তান কী দেখছে, কী ধরনের গেম খেলছে, কার সঙ্গে কীভাবে সময় কাটাচ্ছে সবদিক নজর রাখার পাশাপাশি তার সঙ্গে নিয়মিত কথা বলাও জরুরি। পাশাপাশি পড়ুয়াদের কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। সমস্যা দেখা দেওয়ার পর শুধু শাস্তি বা নিরাপত্তা বাড়ানো নয়, তার আগেই পড়ুয়াদের আবেগ, রাগ এবং হতাশা সামলানোর দক্ষতা তৈরি করা জরুরি।
বিষয় : Doctors Advice South Point School

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন