ঝাড়গ্রাম : একই স্কুলে পড়াশোনার সূত্রে বহুদিনের চেনাজানা ছিল। সেই পরিচয়ের সুবিধা নিয়েই এক নাবালিকাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে চরম অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠল দ্বাদশ শ্রেণির দুই পড়ুয়া ও তাদের সঙ্গীদের বিরুদ্ধে। হাড়হিম করা এই ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রামের জামবনি থানা এলাকায়। ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি তিন পলাতকের খোঁজে জোরালো তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে দ্বাদশ শ্রেণির দুই পড়ুয়া ওই কিশোরীকে বাড়ি থেকে ডেকে একটি শুনশান জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পরই কিশোরীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। কিছুটা পর সেখানে হাজির হয় আরও তিন তরুণ। এরপর পাঁচজন মিলে একযোগে ওই নাবালিকার ওপর নারকীয় অত্যাচার চালায় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে অভিযুক্তরা। ঘটনার পর মুখ খুললে মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে এবং সেই ভিডিও ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ভয় দেখানো হয় মেয়েটিকে।
আতঙ্কিত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোনওরকমে বাড়ি ফিরে আসে নাবালিকা। প্রথমে ভয়ে পরিবারের কাউকে কিছু জানাতে পারেনি সে। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুটে ওঠা মারাত্মক ক্ষতের দাগ ও আঘাত দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরী প্রথমে মিথ্যা কথা বলে জানানোর চেষ্টা করে যে সে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে এবং মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে বসে।
পরবর্তীকালে শারীরিক অবস্থা আরও বিগড়ে গেলে পরিবারের লোকজন তাকে চেপে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আর তখনই কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ভয়ংকর ঘটনার কথা বিস্তারিত জানায় ওই কিশোরী। মেয়ের মুখে সমস্ত বিবরণ শুনে শিউরে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। রবিবার সন্ধ্যায় জামবনি থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার বাবা।অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্তে নেমে পুলিশ রবিবার রাতেই দ্বাদশ শ্রেণির ওই দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ এবং পকসো আইনের একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নির্যাতিতা কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তার বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার ধৃতদের পকসো আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই দু'জনকে ধরা হয়েছে এবং পলাতক বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে বিশেষ টিম গঠন করে অভিযান চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন