Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Kolkata Pandal Hopping: এক শহরে দুই ছবি! ভিড়ের লড়াইয়ে টালা প্রত্যয় আজ সুপারহিট, জনস্রোত হারিয়ে খরস্রোতা মহম্মদ আলি পার্ক!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Kolkata Pandal Hopping: এক শহরে দুই ছবি! ভিড়ের লড়াইয়ে টালা প্রত্যয় আজ সুপারহিট, জনস্রোত হারিয়ে খরস্রোতা মহম্মদ আলি পার্ক!
বিয়োজন থিমে সেজেছে এবারের টালা প্রত্যয়। নিজস্ব ছবি

কলকাতা: শারদোৎসবের রঙিন ক্যানভাসে তিলোত্তমার বুকেই যেন দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। 

একদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পুজো কমিটির হাতবদলের সমস্ত ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে ‘বিয়োজন’ থিমের জাদুতে ভিড়ের মণিকোঠায় একলাফে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে উত্তর কলকাতার ‘টালা প্রত্যয়’। অন্যদিকে, একসময়ের জমজমাট ও তারকাস্পর্শে ধন্য মহম্মদ আলি পার্ক, যা একটা সময় কলকাতার পুজোপ্রেমীদের কাছে ছিল নিখাদ ‘হার্টথ্রব’। আজ পার্কের দখল হারিয়ে রাস্তার ধারে এসে দাঁড়িয়ে ধুঁকছে কোণঠাসা অবস্থায়। একই শহরের এই দুই পুজোমণ্ডপের বিপরীত চড়াই-উতরাই এখন শহরের অন্দরে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

এবারের পুজোয় টালা প্রত্যয়ের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। গত এক দশক ধরে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসুর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পুজোয় পালাবদলের হাওয়া লাগতেই আমূল বদলে যায় সমীকরণ। 

বতর্মান কমিটির হাত ধরে শিল্পী ভবতোষ সুতারের অসমাপ্ত কাজ সরিয়ে নতুন দায়িত্বে আসেন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। ভারতীয় দর্শন ও ভগবদ্গীতার ‘বিয়োজন’ তত্ত্বকে সামনে রেখে অর্থাৎ পার্থিব মোহ বা অধিকারবোধের মোহ থেকে আত্মাকে মুক্ত করার বার্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের মণ্ডপ। 

দেবীর মহাজাগতিক শক্তির সঙ্গে আত্মার এই সংযোগ ঘটাতে গিয়ে পুজো ছোট আকারে হলেও মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। কমিটির কর্তা দেবাশিস সোমের কথায়, ‘‘সব ষড়যন্ত্র ও বদনামের চেষ্টা ব্যর্থ করে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’’ সপ্তমীর কড়া রোদকে উপেক্ষা করে সেই জয়েই এখন উপচে পড়ছে জনস্রোত।

এর সম্পূর্ণ উলটো ছবি মধ্য কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মহম্মদ আলি পার্ক পুজোয়। পার্কের ভেতরে অনুমতি না মেলায় গত সাত বছর ধরে এই পুজো যেমন বাইরে রাস্তার ধারে হচ্ছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৫৮ বছরে পদার্পণ করা ইউথ অ্যাসোসিয়েশনের এই পুজোয় জৌলুস বা থিমের চটক অনেকটাই ফিকে। মেট্রোয় নেমে বা পায়ে হেঁটে দর্শনার্থীদের ভিড় কিছুটা হলেও টানছে বটে, কিন্তু বড় জায়গার অভাবে আগের সেই মহিমায় আর নেই তারা। ক্লাব সভাপতি বিমলকুমার ঝুনঝুনওয়ালা আক্ষেপের সুরে জানাচ্ছেন, বড় পার্ক না পাওয়ায় বড় পরিসরে পুজো করা সম্ভব হচ্ছে না।

অবশ্য জায়গার এই সংকটের জন্য পূর্বতন প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় তুলেছে ক্লাব। তবে পালাবদলের পর রাজ্যের মন্ত্রী ও ক্লাবের চেয়ারম্যান তাপস রায়ের হস্তক্ষেপে এ বছর কিছুটা হলেও বেশি জায়গা মিলেছে রাস্তায়। 

২০২৭ সাল থেকে বড় পার্ক ফিরে পাওয়ার আশ্বাস মেলায় নতুন সরকারের দিকেই বুক বেঁধে তাকিয়ে রয়েছে আয়োজকরা। বিরাটি থেকে আসা নস্টালজিক দর্শনার্থী সৌগত দাসের মতে, ‘‘মহম্মদ আলি পার্কের জৌলুস কমলেও ছোটবেলার নস্টালজিয়া টেনে আনে এখানে।’’ 

একদিকে টালা প্রত্যয়ের থিম ও নতুন জোয়ারের জয়জয়কার, আর অন্যদিকে মহম্মদ আলি পার্কের হারানো দিনের গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াই, এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই জমজমাট কলকাতার পুজো।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬


Kolkata Pandal Hopping: এক শহরে দুই ছবি! ভিড়ের লড়াইয়ে টালা প্রত্যয় আজ সুপারহিট, জনস্রোত হারিয়ে খরস্রোতা মহম্মদ আলি পার্ক!

প্রকাশের তারিখ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: শারদোৎসবের রঙিন ক্যানভাসে তিলোত্তমার বুকেই যেন দুটি সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। একদিকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পুজো কমিটির হাতবদলের সমস্ত ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে ‘বিয়োজন’ থিমের জাদুতে ভিড়ের মণিকোঠায় একলাফে শীর্ষস্থানে পৌঁছে গেছে উত্তর কলকাতার ‘টালা প্রত্যয়’। অন্যদিকে, একসময়ের জমজমাট ও তারকাস্পর্শে ধন্য মহম্মদ আলি পার্ক, যা একটা সময় কলকাতার পুজোপ্রেমীদের কাছে ছিল নিখাদ ‘হার্টথ্রব’। আজ পার্কের দখল হারিয়ে রাস্তার ধারে এসে দাঁড়িয়ে ধুঁকছে কোণঠাসা অবস্থায়। একই শহরের এই দুই পুজোমণ্ডপের বিপরীত চড়াই-উতরাই এখন শহরের অন্দরে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।এবারের পুজোয় টালা প্রত্যয়ের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। গত এক দশক ধরে তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসুর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পুজোয় পালাবদলের হাওয়া লাগতেই আমূল বদলে যায় সমীকরণ। বতর্মান কমিটির হাত ধরে শিল্পী ভবতোষ সুতারের অসমাপ্ত কাজ সরিয়ে নতুন দায়িত্বে আসেন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। ভারতীয় দর্শন ও ভগবদ্গীতার ‘বিয়োজন’ তত্ত্বকে সামনে রেখে অর্থাৎ পার্থিব মোহ বা অধিকারবোধের মোহ থেকে আত্মাকে মুক্ত করার বার্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে এবারের মণ্ডপ। দেবীর মহাজাগতিক শক্তির সঙ্গে আত্মার এই সংযোগ ঘটাতে গিয়ে পুজো ছোট আকারে হলেও মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে। কমিটির কর্তা দেবাশিস সোমের কথায়, ‘‘সব ষড়যন্ত্র ও বদনামের চেষ্টা ব্যর্থ করে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে ঘুরে দাঁড়িয়েছি।’’ সপ্তমীর কড়া রোদকে উপেক্ষা করে সেই জয়েই এখন উপচে পড়ছে জনস্রোত।এর সম্পূর্ণ উলটো ছবি মধ্য কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মহম্মদ আলি পার্ক পুজোয়। পার্কের ভেতরে অনুমতি না মেলায় গত সাত বছর ধরে এই পুজো যেমন বাইরে রাস্তার ধারে হচ্ছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ৫৮ বছরে পদার্পণ করা ইউথ অ্যাসোসিয়েশনের এই পুজোয় জৌলুস বা থিমের চটক অনেকটাই ফিকে। মেট্রোয় নেমে বা পায়ে হেঁটে দর্শনার্থীদের ভিড় কিছুটা হলেও টানছে বটে, কিন্তু বড় জায়গার অভাবে আগের সেই মহিমায় আর নেই তারা। ক্লাব সভাপতি বিমলকুমার ঝুনঝুনওয়ালা আক্ষেপের সুরে জানাচ্ছেন, বড় পার্ক না পাওয়ায় বড় পরিসরে পুজো করা সম্ভব হচ্ছে না।অবশ্য জায়গার এই সংকটের জন্য পূর্বতন প্রশাসনকেই কাঠগড়ায় তুলেছে ক্লাব। তবে পালাবদলের পর রাজ্যের মন্ত্রী ও ক্লাবের চেয়ারম্যান তাপস রায়ের হস্তক্ষেপে এ বছর কিছুটা হলেও বেশি জায়গা মিলেছে রাস্তায়। ২০২৭ সাল থেকে বড় পার্ক ফিরে পাওয়ার আশ্বাস মেলায় নতুন সরকারের দিকেই বুক বেঁধে তাকিয়ে রয়েছে আয়োজকরা। বিরাটি থেকে আসা নস্টালজিক দর্শনার্থী সৌগত দাসের মতে, ‘‘মহম্মদ আলি পার্কের জৌলুস কমলেও ছোটবেলার নস্টালজিয়া টেনে আনে এখানে।’’ একদিকে টালা প্রত্যয়ের থিম ও নতুন জোয়ারের জয়জয়কার, আর অন্যদিকে মহম্মদ আলি পার্কের হারানো দিনের গৌরব ফিরে পাওয়ার লড়াই, এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই জমজমাট কলকাতার পুজো।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত