কলকাতা: উৎসবের আমেজ গায়ে মেখে, মহালয়ার ঠিক মুখে ফের তিলোত্তমায় পা রাখলেন বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। রাজ্যে পালাবদলের পরেই সম্প্রতি কলকাতায় এসেছিলেন তসলিমা। তাঁর সেই সফরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল মঞ্চ থেকে কবি জয় গোস্বামীকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পরে অবশ্য কলকাতা ও কবি জয় গোস্বামীর কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তসলিমা।
বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে আবেগ ও ক্ষোভের এক মিশ্র সুর শোনা গেল তসলিমার কণ্ঠে। কলকাতার দুর্গাপুজোকে ওপেন এয়ার ‘আর্ট এক্সিবিশন’-এর সঙ্গে তুলনা করে লেখিকা বলেন, ‘‘কলকাতায় এসে খুব ভাল লাগছে। এবার পুজোয় থাকতে না পারলেও কাল মহাজাতি সদনে বিশেষ অনুষ্ঠান আছে, যেখানে আমার কবিতার গান ও ‘ওমা’ সম্মান দেওয়া হবে। ৯ তারিখে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে একটি ম্যাগাজিনের অনুষ্ঠান এবং ১১ তারিখ সল্টলেকের বিডি অডিটোরিয়ামে বই উন্মোচন রয়েছে। মহালয়াতে পারলে ইডেন গার্ডেন্সের অনুষ্ঠান দেখব। আগামী বছর পুজোয় অবশ্যই আসব।’’
তবে কেবল উৎসবের আনন্দেই সীমাবদ্ধ থাকেননি নির্বাসিতর এই লেখিকা। ওপার বাংলায় সাম্প্রতিক দুর্গাপুজো বিতর্ক ও মূর্তি ভাঙার ঘটনা নিয়ে সুর চড়িয়েছেন তসলিমা। বাংলাদেশে পুজোর বিরুদ্ধে মিছিল ও মৌলবাদী তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদীরা বহু বছর ধরেই মূর্তি ভাঙছে। আমি চাই জেহাদি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিক। কলকাতার পুজোয় এমন সাহস কেউ পাবে না। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সবার দাঁড়ানো উচিত। সরকারের প্রশ্রয়েই আজ এই উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। দেশকে সুস্থ ও সভ্য রাখতে এদের নির্মূল করা দরকার।’’
পাশাপাশি, বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ভারত সফর ও দু’দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লেখিকা আক্ষেপের সুরে জানান, ‘‘উনি যেভাবে জামায়াতে ইসলামীকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন এবং জেহাদিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, তাতে কতটা কী হবে জানি না। তবে আশা করি দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে ভালো হবে।’’
সব মিলিয়ে, পুজোর মুখে তসলিমার এই দ্বিতীয় কলকাতা সফর যে সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার খোরাক জুগিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন