কলকাতা: দুর্গাপূজার আগে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ও বাড়তি কিছু টাকা উপার্জনের আশায় কাজে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু মহালয়ার ঠিক পরেই গান্ধী জয়ন্তীর সকালে ঘটে গেল এক চরম ট্র্যাজেডি! তিনতলার বাইরের পাইপলাইনে ঝুলে কাজ করার সময় আচমকাই কোমরে বাঁধা দড়ি খুলে গিয়ে উপর থেকে সটান নিচে আছড়ে পড়লেন রাজমিস্ত্রি। রক্তের স্রোতে ভেসে গেল রাজপথ। শুক্রবার সকালে খাস কলকাতার বাগুইআটি থানার অন্তর্গত অশ্বিনীনগর এলাকায় এই ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৪৮ বছর বয়সী শ্রমিক তপন সরকারের।
পুলিশ ও স্থানীয় অধিবাসীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বাগুইআটির অশ্বিনীনগরের একটি বহুতল আবাসন কমপ্লেক্সের বাইরের ড্রেন পাইপলাইন মেরামতের কাজ চলছিল। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালেও কাজে যোগ দিয়েছিলেন অশ্বিনীনগরের ৭ নম্বর এলাকার বাসিন্দা তপন সরকার। বহুতলের ছাদ থেকে একটি পাতলা দড়ি ঝুলিয়ে তার এক প্রান্ত নিজের কোমরে শক্ত করে বেঁধে তিনতলার উঁচুতে ঝুলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। কিন্তু কাজ করার সময়েই ঘটে যায় চরম বিপদ। দেওয়াল থেকে পা পিছলে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যে কোমরে বাঁধা দড়ির গিট খুলে যায় এবং তিনতলা থেকে সোজা নিচে পাকা রাস্তার ওপর আছড়ে পড়েন ওই শ্রমিক।
আকাশ চেরা চিৎকারের পর বিকট ভারী শব্দ শুনেই ছুটে আসেন বহুতলের বাসিন্দা ও স্থানীয় পথচারীরা। নিচে গিয়ে দেখা যায়, রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তপনবাবু। তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়া হয় বাগুইআটি থানায়। খবর পাওয়া মাত্রই বাগুইআটি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পরীক্ষার পরেই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতদেহ ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ এবং নিহতের পরিবারে খবর দেওয়া হয়েছে।
গান্ধী জয়ন্তীর দিনে ঘটমান এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের একবার কলকাতায় নির্মাণশ্রমিকদের ন্যূনতম সুরক্ষাকবচ ও নিরাপত্তার কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকাশ্যে এনে দিল। কোনো হেলমেট, সেফটি বেল্ট বা পেশাদারি সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই কেবল একটা সাধারণ দড়ির ভরসায় কীভাবে ওই শ্রমিককে বহুতলের চত্বরে বিপজ্জনক কাজে নামানো হলো, তা নিয়ে জোর প্রশ্ন উঠছে। কয়েক মাস আগেই সল্টলেকে প্রায় একই ধাঁচে বহুতল থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। ঠিকাদারি সংস্থার চূড়ান্ত গাফিলতি নাকি আবাসন কর্তৃপক্ষের অমানবিকতা—কোন ভুলের মাশুল তপন বাবুকে নিজের প্রাণ দিয়ে দিতে হল, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ।

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন