Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Kalighat Temple: ১৯৮০ থেকে উধাও ভল্টের চাবি! কালীঘাট মন্দিরে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে সাবর্ণ পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
 Kalighat Temple: ১৯৮০ থেকে উধাও ভল্টের চাবি! কালীঘাট মন্দিরে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে সাবর্ণ পরিবার
ফাইল চিত্র

কলকাতা: তিলোত্তমার ঐতিহাসিক সতীপীঠ কালীঘাট মন্দিরের কোটি কোটি টাকার সোনার গয়নাগাটি ও অমূল্য সম্পত্তি নিয়ে চরম চাঞ্চল্য। ভল্টের চাবি গায়েব দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে! ভেতরে দেবীর গয়না আদৌ অক্ষত রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক তছরুপ এবং পরিচালন কমিটির একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দ্বারস্থ হলো সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। উচ্চপর্যায়ের সিবিআই তদন্ত অথবা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী।

অভিযোগের তির মন্দির পরিচালন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনিয়মের দিকে। ২০০৬ সালেও প্রণামীর টাকায় গরমিল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ায়, যেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন জেলা জজ। সাবর্ণ পরিবারের দাবি, মা দক্ষিণাকালীর সমস্ত মূল্যবান গয়নাগাটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভল্টে রাখা হলেও ১৯৮০ সালের পর থেকে সেই ভল্টের চাবির আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ফলে বিগত সাড়ে চার দশকে ভেতরের অলংকার আদৌ সুরক্ষিত আছে না কি গায়েব হয়ে গেছে, তা কেউই জানে না।


আরও অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মন্দির পরিচালন কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও ২০১৪ সালের পর থেকে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে আইনি মেয়াদ ফুরানো এই কমিটিই এতদিন অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। সেবায়েত ও বহিরাগতদের নিয়ে তৈরি কমিটির নিষ্ক্রিয়তার কারণে মন্দিরের গয়না ও সম্পদের তালিকা মেলানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া মন্দিরের গর্ভগৃহে অবাধে প্রবেশ, ছবি তোলা ও ভিডিও বানানোর ফলে সতীপীঠের দৈব গরিমা ও ঐতিহ্য বিনষ্ট হচ্ছে বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রথমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের কাছে এফআইআর দায়ের ও গয়নার তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। সেই কারণেই শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সাবর্ণ পরিষদ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, সাবর্ণ পরিবারের সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নতুন ও স্বচ্ছ পরিচালন কমিটি গঠন করা হোক। প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে সাড়া না মিললে প্রয়োজনে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তাঁরা। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের কোটি টাকার অলংকার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সাবর্ণ পরিবারের এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতি ও ধর্মীয় মহলে প্রবল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

বিষয় : CBIINVESTIGATION BengalCrimeUpdates kalighat temple sabarna chowdhury

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Kalighat Temple: ১৯৮০ থেকে উধাও ভল্টের চাবি! কালীঘাট মন্দিরে সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে সাবর্ণ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
কলকাতা: তিলোত্তমার ঐতিহাসিক সতীপীঠ কালীঘাট মন্দিরের কোটি কোটি টাকার সোনার গয়নাগাটি ও অমূল্য সম্পত্তি নিয়ে চরম চাঞ্চল্য। ভল্টের চাবি গায়েব দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে! ভেতরে দেবীর গয়না আদৌ অক্ষত রয়েছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, আর্থিক তছরুপ এবং পরিচালন কমিটির একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের দ্বারস্থ হলো সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার। উচ্চপর্যায়ের সিবিআই তদন্ত অথবা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের আর্জি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন পরিবার পরিষদের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী।অভিযোগের তির মন্দির পরিচালন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনিয়মের দিকে। ২০০৬ সালেও প্রণামীর টাকায় গরমিল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়ায়, যেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন জেলা জজ। সাবর্ণ পরিবারের দাবি, মা দক্ষিণাকালীর সমস্ত মূল্যবান গয়নাগাটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভল্টে রাখা হলেও ১৯৮০ সালের পর থেকে সেই ভল্টের চাবির আর কোনো সন্ধান মেলেনি। ফলে বিগত সাড়ে চার দশকে ভেতরের অলংকার আদৌ সুরক্ষিত আছে না কি গায়েব হয়ে গেছে, তা কেউই জানে না।আরও অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মন্দির পরিচালন কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও ২০১৪ সালের পর থেকে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। ফলে আইনি মেয়াদ ফুরানো এই কমিটিই এতদিন অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। সেবায়েত ও বহিরাগতদের নিয়ে তৈরি কমিটির নিষ্ক্রিয়তার কারণে মন্দিরের গয়না ও সম্পদের তালিকা মেলানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া মন্দিরের গর্ভগৃহে অবাধে প্রবেশ, ছবি তোলা ও ভিডিও বানানোর ফলে সতীপীঠের দৈব গরিমা ও ঐতিহ্য বিনষ্ট হচ্ছে বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।প্রথমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা জজের কাছে এফআইআর দায়ের ও গয়নার তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। সেই কারণেই শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে সাবর্ণ পরিষদ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে জেলা জজ, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি, সাবর্ণ পরিবারের সদস্য এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নতুন ও স্বচ্ছ পরিচালন কমিটি গঠন করা হোক। প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপে সাড়া না মিললে প্রয়োজনে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তাঁরা। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরের কোটি টাকার অলংকার ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সাবর্ণ পরিবারের এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতি ও ধর্মীয় মহলে প্রবল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত