কলকাতা: এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় বার।
অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির সভার পর এ বার বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের প্রতিবাদ মিছিল। পরপর দুই রবিবারে ফের তুলকালাম কাণ্ড ঘটে গেল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই)।
মিছিলকারীদের গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা, বাইরে থেকে ভিতরে ইট, জলের বোতল ও বাঁশ নিয়ে হামলার অভিযোগ এবং পাল্টা জবাবে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পঞ্চসায়র এলাকা। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক দেবাশিস সেনশর্মা। আহত উভয় পক্ষেরই বেশ কয়েক জন।
ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। সেদিন এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত সমিতির একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর সমর্থক পড়ুয়ারা ওই অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে বিক্ষোভ দেখায় এবং ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলে।
তার প্রতিবাদে গর্জে ওঠে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত। দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা স্তব্ধ থাকে এলাকা। সেই ঘটনায় চারটি পৃথক মামলা রুজু হয়। খোদ উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভারতমাতা বা বিবেকানন্দের অসম্মান কোনভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সেই রবিবারের ঘটনার প্রতিবাদেই এই রবিবার বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ মঞ্চের তরফে অজয়নগর থেকে এসআরএফটিআই-এর গেট পর্যন্ত এক প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মিছিলটি প্রতিষ্ঠানের মূল গেটের সামনে পৌঁছতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শত শত বিক্ষোভকারী দরজা ধরে প্রচণ্ড ধাক্কাধাক্কি শুরু করে এবং গেট ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা চালায়।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক বুঝে প্রতিষ্ঠানের ভিতরে নিরাপত্তার স্বার্থে হেলমেট পরে জড়ো হন পড়ুয়া ও অধ্যাপকরা। অভিযোগ, বাধা পেয়ে বাইর থেকেই ভিতরে থাকা পড়ুয়া ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে মুহুর্মুহু ইট, পাথর ও জলের বোতল ছুড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। বাঁশ হাতে উঁচিয়ে চলে হুমকি। ইটের আঘাতে জখম হন অধ্যাপক সেনশর্মা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ভেতর থেকেও পড়ুয়া ও শিক্ষকরা তাঁদের লক্ষ্য করে পাল্টা ইট ও জলের বোতল ছুড়েছেন, যাতে তাঁদেরও বেশ কয়েক জন সদস্য আহত হন। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের বক্তব্য, ‘‘যারা ভারতমাতা ও বিবেকানন্দের ছবিতে লাথি মেরেছে, তারা দেশবিরোধী। আজ আমরা রাষ্ট্রবাদীদের আসল শক্তি বুঝিয়ে দিলাম।’’
খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। বেশ কয়েক জন আক্রমণকারী ও বিক্ষোভকারীকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে পরপর দুই রবিবার প্রথিতযশা এই জাতীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন হিংসাত্মক হামলায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই ঘটনা প্রসঙ্গে এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন