Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Biswakarma Puja 2026: শিল্প কোথায় ? বিশ্বকর্মা পুজো আগে প্রশ্ন হাওড়ার শিল্পতালুকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Biswakarma Puja 2026: শিল্প কোথায় ? বিশ্বকর্মা পুজো আগে প্রশ্ন হাওড়ার শিল্পতালুকের
বিশ্বকর্মা পুজোর আগে শিল্পের খোঁজে হাওড়া।

হাওড়া: একসময় যাকে গর্ব করে বলা হতো ‘ভারতের শেফিল্ড’। 

সেই হাওড়ার বুকে আজ শুধুই বন্ধ কলকারখানার স্তূপ আর মরচে ধরা তালা। ভোর হতেই কারখানার গম্ভীর সাইরেন, হাজার হাজার শ্রমিকের সাইকেলের ঘণ্টা আর যন্ত্রের কানফাটা শব্দে যে শহরের ঘুম ভাঙত, সেই হাওড়ার শিল্প-গৌরব আজ ইতিহাসের পাতায়। 

লোহা-লক্কর, ফাউন্ড্রি, ঢালাই আর লেদ মেশিনের এই আঁতুড়ঘরে একসময় গোটা দেশ থেকে কাজ খুঁজতে আসতেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর আগে, সেই চিরপরিচিত উল্লাস আর জৌলুস সম্পূর্ণ গায়েব।

দুর্গাপুজোর আগেই যে বিশ্বকর্মা পুজো হাওড়াকে আলোর রোশনাই আর ভূরিভোজে সাজিয়ে তুলত, সেই শিল্পাঞ্চলে আজ শুধুই শ্মশানের নীরবতা। কিন্তু কেন আজ এই চরম দশা? রাজ্যজুড়ে এখন একটাই জ্বলন্ত প্রশ্ন বাংলায় শিল্প কোথায়?

ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, বাংলায় শিল্পের এই পতন একদিনে হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সত্তরের দশক থেকে টানা সাড়ে তিন দশকের বাম রাজত্বে ধর্মঘট, ঘেরাও আর ট্রেড ইউনিয়নের দাপাদাপিতেই বাংলার শিল্প মানচিত্রের বিনাশ ঘটেছিল। 

টাটাদের কারখানা বাংলা ছাড়ার পর বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে যে ভুল বার্তা গিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা আজও সম্ভব হয়নি। এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি বিন্দুমাত্র। তৃণমূল জমানাতেও হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ভাগ্যে কোনও উন্নতি ঘটেনি। কাটমানি কালচার, তোলাবাজি, কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম এবং আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিলের চাপে একে একে আলো নিভেছে একের পর এক ছোট-বড় কারখানার।

হাওড়ার এক প্রবীণ কারখানা মালিকের আক্ষেপ, "যে লোহা আগে ৩০ টাকা কেজি দরে কিনতাম, তার দাম এখন ৭০ টাকা ছাড়িয়েছে। কিন্তু কাজের দর একচুলও বাড়েনি। আগে যেখানে ১০০ জন কর্মী ঘাম ঝরাতেন, সেখানে এখন ৫-৭ জনকে নিয়ে কোনওমতে দিন গুজরান হচ্ছে। পুজো করব কী দিয়ে?" ফলে বিশাল প্রতিমা আর থিম প্যান্ডেলের জায়গা নিয়েছে স্রেফ ঘট পুজো।

এই পরিস্থিতিতে বাম ও তৃণমূল দুই শিবিরের চরম ব্যর্থতার পর এবার প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কি পারবে হাওড়ার এই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে? শাসক শিবিরের দাবি, কেন্দ্রের মোদী সরকারের সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি, নীতিগত ছাড় এবং নতুন বিনিয়োগের আবহ তৈরি হলে একমাত্র ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারই পারবে হাওড়ার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে। 

কিন্তু বাস্তবচিত্র এটাই যে, প্রতিশ্রুতি আর রাজনীতির চাপানউতোরের মাঝে হাওড়ার শিল্পাঞ্চল আজও নিভু নিভু শিখার মতো জ্বলছে। রাজনৈতিক পাশা খেলায় কোনও নতুন পরিবর্তনের হাত ধরে কি আগামীতে ফের রামধনু আলোয় সাজবে হাওড়া? নাকি বন্ধ গেটের মরচে পড়া তালাই হবে এই শেফিল্ডের চিরস্থায়ী ভাগ্য! 

বিষয় : HiddenStoriesNews #WhereIsIndustryInBengal #HowrahIndustries #VishwakarmaPuja #HowrahNews #BengalPolitics #BengalNews #BJPWestBengal #IndustrialDeclineBengal #BreakingNewsBengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Biswakarma Puja 2026: শিল্প কোথায় ? বিশ্বকর্মা পুজো আগে প্রশ্ন হাওড়ার শিল্পতালুকের

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
হাওড়া: একসময় যাকে গর্ব করে বলা হতো ‘ভারতের শেফিল্ড’। সেই হাওড়ার বুকে আজ শুধুই বন্ধ কলকারখানার স্তূপ আর মরচে ধরা তালা। ভোর হতেই কারখানার গম্ভীর সাইরেন, হাজার হাজার শ্রমিকের সাইকেলের ঘণ্টা আর যন্ত্রের কানফাটা শব্দে যে শহরের ঘুম ভাঙত, সেই হাওড়ার শিল্প-গৌরব আজ ইতিহাসের পাতায়। লোহা-লক্কর, ফাউন্ড্রি, ঢালাই আর লেদ মেশিনের এই আঁতুড়ঘরে একসময় গোটা দেশ থেকে কাজ খুঁজতে আসতেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর আগে, সেই চিরপরিচিত উল্লাস আর জৌলুস সম্পূর্ণ গায়েব।দুর্গাপুজোর আগেই যে বিশ্বকর্মা পুজো হাওড়াকে আলোর রোশনাই আর ভূরিভোজে সাজিয়ে তুলত, সেই শিল্পাঞ্চলে আজ শুধুই শ্মশানের নীরবতা। কিন্তু কেন আজ এই চরম দশা? রাজ্যজুড়ে এখন একটাই জ্বলন্ত প্রশ্ন বাংলায় শিল্প কোথায়?ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, বাংলায় শিল্পের এই পতন একদিনে হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সত্তরের দশক থেকে টানা সাড়ে তিন দশকের বাম রাজত্বে ধর্মঘট, ঘেরাও আর ট্রেড ইউনিয়নের দাপাদাপিতেই বাংলার শিল্প মানচিত্রের বিনাশ ঘটেছিল। টাটাদের কারখানা বাংলা ছাড়ার পর বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছে যে ভুল বার্তা গিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা আজও সম্ভব হয়নি। এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও পরিস্থিতি বদলায়নি বিন্দুমাত্র। তৃণমূল জমানাতেও হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ভাগ্যে কোনও উন্নতি ঘটেনি। কাটমানি কালচার, তোলাবাজি, কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম এবং আকাশচুম্বী বিদ্যুৎ বিলের চাপে একে একে আলো নিভেছে একের পর এক ছোট-বড় কারখানার।হাওড়ার এক প্রবীণ কারখানা মালিকের আক্ষেপ, "যে লোহা আগে ৩০ টাকা কেজি দরে কিনতাম, তার দাম এখন ৭০ টাকা ছাড়িয়েছে। কিন্তু কাজের দর একচুলও বাড়েনি। আগে যেখানে ১০০ জন কর্মী ঘাম ঝরাতেন, সেখানে এখন ৫-৭ জনকে নিয়ে কোনওমতে দিন গুজরান হচ্ছে। পুজো করব কী দিয়ে?" ফলে বিশাল প্রতিমা আর থিম প্যান্ডেলের জায়গা নিয়েছে স্রেফ ঘট পুজো।এই পরিস্থিতিতে বাম ও তৃণমূল দুই শিবিরের চরম ব্যর্থতার পর এবার প্রশ্ন উঠছে, বিজেপি কি পারবে হাওড়ার এই হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে? শাসক শিবিরের দাবি, কেন্দ্রের মোদী সরকারের সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি, নীতিগত ছাড় এবং নতুন বিনিয়োগের আবহ তৈরি হলে একমাত্র ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারই পারবে হাওড়ার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করতে। কিন্তু বাস্তবচিত্র এটাই যে, প্রতিশ্রুতি আর রাজনীতির চাপানউতোরের মাঝে হাওড়ার শিল্পাঞ্চল আজও নিভু নিভু শিখার মতো জ্বলছে। রাজনৈতিক পাশা খেলায় কোনও নতুন পরিবর্তনের হাত ধরে কি আগামীতে ফের রামধনু আলোয় সাজবে হাওড়া? নাকি বন্ধ গেটের মরচে পড়া তালাই হবে এই শেফিল্ডের চিরস্থায়ী ভাগ্য! 

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত