ওয়াশিংটন: চরমপন্থী মতাদর্শ, আন্তর্জাতিক উড়ান সংস্থাগুলোর চরম নজরদারির ফাঁকফোকর, আর আকাশপথে আতঙ্কের চিত্রনাট্য! মাঝআকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই-তেল আবিব উড়ান সাবোটাজ করার চেষ্টায় অভিযুক্ত ওমানের কো-পাইলট ২৯ বছরের হামাম আল-হামামিকে ঘিরে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। প্রাথমিক তদন্ত ও আন্তর্জাতিক নানা গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠছে একটাই বড় প্রশ্ন, কে এই ওমানি পাইলট? ঠিক কী উদ্দেশ্যে যাত্রীবোঝাই বিমানকে মাটিতে আছড়ে ফেলার ছক কষেছিল সে?
আন্তর্জাতিক সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে জন্ম হলেও হামামের বাবার মূল বাড়ি ওমানে এবং মা সিরিয়ার নাগরিক। শৈশব ও কৈশোরের একটা দীর্ঘ সময় ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়াতেই কাটিয়েছিল হামাম। অভিযোগ, সেখানে থাকার সময় থেকেই তাঁর মধ্যে উগ্র ইসলামিক মৌলবাদী মানসিকতার বিষ ছড়াতে শুরু করে।
পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর চরমপন্থার ছাপ স্পষ্ট হতে থাকে। এক্স (প্রাক্তন টুইটার) অ্যাকাউন্টে তাঁর ধর্মান্ধ ও চরম নারীবিদ্বেষী মানসিকতা ধরা পড়ে। এমনকি লিঙ্কডইনে পোস্ট করা ভিডিওতে আল-কায়দার সাবেক প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি এবং ২০০৯ সালে আমেরিকায় আত্মঘাতী হামলায় যুক্ত জঙ্গি হামাম খলিল আবু-মুলাল আল-বালাবির ছবি ব্যবহার করতে দেখা যায় তাকে।
প্রশ্ন উঠছে, এত বড় নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে একটি আন্তর্জাতিক বিমানে চালকের আসনে বসতে পারল হামাম? তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে ওমান এয়ারে শিক্ষানবিস কো-পাইলট হিসেবে কাজ করার সময়ই তাঁর কাছে চরমপন্থী তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়।
এরপরই নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কায় তাকে বিমান চালানোর অনুমতি বাতিল করে দেয় ওমান বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ। তাঁকে কেবল প্রশাসনিক পদে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে রয়্যাল এয়ার মারোক ঘুরে চলতি বছরই ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেয় সে। অর্থাৎ, ওমান এয়ার যাঁর হাতে বিমান তুলে দিতে ভয় পেয়েছিল, অত্যন্ত সংবেদনশীল দুবাই-তেল আবিব রুটে তাকেই ককপিটের দায়িত্ব দেয় ফ্লাইদুবাই।
তদন্তকারীদের দাবি, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর বিমানে ১৭০ জন যাত্রী ও শিশুদের নিয়ে দুবাই থেকে ইজরায়েলের দিকে রওনা দেওয়ার পরই আসল চেহারা সামনে আনে হামাম। ৩৪,০০০ ফুট উঁচুতে ওড়ার সময় আচমকাই ভারতীয় মূল পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে ও রক্তাক্ত করে সে।
উদ্দেশ্য ছিল একটাই, কন্ট্রোল কেড়ে নিয়ে বিমানটিকে সোজা ইজরায়েলের বুকে আছড়ে ফেলে এক ২০০১ সালের '৯/১১'-এর মতো ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটানো। ভয়াবহ সেই পতনের মুখে মাত্র ৩০ সেকেন্ডে ১৬,০০০ ফুট নীচে নেমে আসে বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি।
তবে মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও শেষ মুহূর্তে লড়াই ছাড়েননি ভারতীয় পাইলট স্মিত। রক্তাক্ত অবস্থায় ককপিটের দরজা খুলে দিতেই ভেতরে চড়াও হন কয়েক জন সাহসী যাত্রী ও কেবিন ক্রু। মাঝআকাশে হামামকে ধরে ফেলে বেঁধে ফেলা হয়। বিমানে থাকা অন্য দুই অফ-ডিউটি পাইলটের তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের বিমানবন্দরে নিরাপদ অবতরণ করে বিমানটি।
প্রাথমিক জেরায় হামাম স্বীকার করেছে, ইজরায়েলে বিমানটি ধ্বংস করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইজরায়েলের যৌথ নজরদারিতে চলছে এই আন্তর্জাতিক চক্রান্তের গভীরে পৌঁছানোর কাজ।

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন