Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

Supreme Court: পুরভোটেও প্রতীক হাতছাড়া মমতার, ৪ মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে কমিশনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Supreme Court: পুরভোটেও প্রতীক হাতছাড়া মমতার, ৪ মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে কমিশনকে
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল চিত্র

নয়াদিল্লি: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই বহুল চর্চিত জট কাটাতে অবশেষে ঐতিহাসিক সময়সীমা বেঁধে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী চার মাসের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে এই বিতর্কিত বিষয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালত জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’— দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক ও বক্তব্য শোনার কাজ শেষ করতে হবে কমিশনকে। এর পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রতীক ও দলের স্বত্ব নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশিকা মেনে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আসল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে আসল তৃণমূল নিয়ে দ্বন্দ্ব মেটাতে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং বিখ্যাত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেয়। কমিশন জানায়, দলের তহবিল ও রাজনৈতিক আধিপত্য কার, তা আইনি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতীক সিন্দুকবন্ধই থাকবে। এর পরেই ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য মমতা শিবিরের নাম বরাদ্দ হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের নতুন প্রতীক হয় ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’। অন্যদিকে ঋতব্রতদের শিবিরের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের জোড়া হয় ‘খাম’ চিহ্ন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার শুনানির সময় মমতা শিবিরের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি তোলেন। বিপরীতে ঋতব্রতদের পক্ষের আইনজীবী মুকুল রোহতগি বক্তব্য পেশের জন্য ছ’সপ্তাহ সময় চান। তবে সময় নষ্ট না করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব নয়।

ফলে জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন কিংবা কোনো সম্ভাব্য উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই এই অস্থায়ী প্রতীকে ভরসা রাখতে হবে। গত বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল এমন এক যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা ঠিক করতে, যাতে দুই পক্ষই তাদের প্রমাণ উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ পায়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ফলে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রতীকের লড়াই এবার পৌঁছে গেল চূড়ান্ত পরিণতির দিকে।


বিষয় : BengalPolitics ElectionCommission TrinamoolCongress BreakingNewsBengal JORAPHUL HiddenStoriesNews MamataBanerjee

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


Supreme Court: পুরভোটেও প্রতীক হাতছাড়া মমতার, ৪ মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে হবে কমিশনকে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং ঐতিহাসিক ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই বহুল চর্চিত জট কাটাতে অবশেষে ঐতিহাসিক সময়সীমা বেঁধে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী চার মাসের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে এই বিতর্কিত বিষয়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে। আদালত জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’— দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক ও বক্তব্য শোনার কাজ শেষ করতে হবে কমিশনকে। এর পর পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে প্রতীক ও দলের স্বত্ব নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশিকা মেনে আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যাবে আসল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ।গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী নির্দেশে আসল তৃণমূল নিয়ে দ্বন্দ্ব মেটাতে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং বিখ্যাত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত করে দেয়। কমিশন জানায়, দলের তহবিল ও রাজনৈতিক আধিপত্য কার, তা আইনি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতীক সিন্দুকবন্ধই থাকবে। এর পরেই ৬ অক্টোবরের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য মমতা শিবিরের নাম বরাদ্দ হয় ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের নতুন প্রতীক হয় ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’। অন্যদিকে ঋতব্রতদের শিবিরের নাম হয় ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং তাদের জোড়া হয় ‘খাম’ চিহ্ন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সোমবার শুনানির সময় মমতা শিবিরের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি তোলেন। বিপরীতে ঋতব্রতদের পক্ষের আইনজীবী মুকুল রোহতগি বক্তব্য পেশের জন্য ছ’সপ্তাহ সময় চান। তবে সময় নষ্ট না করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব নয়।ফলে জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন কিংবা কোনো সম্ভাব্য উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই এই অস্থায়ী প্রতীকে ভরসা রাখতে হবে। গত বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল এমন এক যুক্তিসঙ্গত সময়সীমা ঠিক করতে, যাতে দুই পক্ষই তাদের প্রমাণ উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ পায়। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ফলে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রতীকের লড়াই এবার পৌঁছে গেল চূড়ান্ত পরিণতির দিকে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত